প্রযুক্তি

স্মার্ট ফোন ব্যাবহার সত্যিই কি নিরাপদ

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সকাল থেকে রাত-এটি এখন আমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। স্মার্টফোন মানুষের যেমন উপাকার হয়েছে ঠিক তেমনি অপকারও হয়েছে। একটু চিন্তা করুন আজ থেকে ১০ বছর আগের কথা তাহলেই বুঝতে পারবেন এই ১০ বছরে কতটা পরিবর্তন এনেছে এই স্মার্টফোন। এখন স্মার্টফোন সবার হাতে আছে বললেই চলে।স্মার্টফোন আমাদের নানা কাজে ব্যবহার হয়। তবে এই ব্যবহার ভালো কাজেও হয় আবার মন্দ কাজেও হয়।

প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে মোবাইল ফোন এখন মানুষের জীবনে এক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষে পরিণত হয়েছে। দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে মোবাইল ফোনের উপকারীতা অনস্বীকার্য।স্মার্টফোনের উপকারীতা বলেও শেষ করা যাবে না। স্মার্টফোন আমাদের কাজের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা এনে দিয়েছে।যেমন –

#জিপিএস এবং লোকেশন সার্ভিস
#অফিস স্যুট সফটওয়্যার
#অ্যাপের নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ
#বিজনেস কার্ড সংরক্ষণ
#ই-মেইল এবং টেক্সট অটো/কুইক রেসপন্স
#অনুবাদের অ্যাপ
#ভ্রমণের সহযোগী
#এক চার্জেই অনেক ক্ষণ
#যোগাযোগ ব্যবস্থা
#অনলাইন ব্যাবসা
#ছবি এডিটিং
#দেশ বিদেশের খবর জানা

এছাড়াও বর্তমানে এখন অনেক ধরনের সৌশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে যার মাধ্যমে ভিডিও কল এবং অডিও কল করা সম্ভব। বিভিন্ন সৌশাল নেটওয়্যার্কের মধ্যে রয়েছে, ফেসবুক, টুইটার, ইমো ইত্যাদি। স্মার্টফোন এর মাধ্যমে এখন অনেক ধরনের সিনেমা, গান, সরাসরি দেখা এবং ডাউনলোড করা যায়। স্মার্টফোনের আরও কিছু গুণ রয়েছে যেমন অবসর সময়ে একটু ভিডিও গেমস, ইন্টারনেট ব্যবহার করা ইত্যাদি।এরকম আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে।

এবার আমরা স্মার্টফোন ব্যাবহারের কিছু অপকারিতা সম্পর্কে জানি।স্মার্টফোন এখন সবার হাতে এসে গেছে। ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সকলের হাতে এখন স্মার্টফোন। একসময় আমরা প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে এই ফোন আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনে অনেক মূল্যবান জিনিস ছাড়া বাঁচার কথা ভাবা যায়। কিন্তু নিয়মিত ফোন ব্যবহারকারীর পক্ষে এটা ছাড়া বেঁচে থাকা কিছুটা আদিম যুগে ফিরে যাওয়ার মত শাস্তি।

অতিরিক্ত সময় ধরে মুঠোফোন ব্যবহার করার ফলে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের ওপর নানা প্রভাব পড়ে।হেডফোন ব্যবহার করে উচ্চশব্দে গান শুনলে অন্তকর্ণের কোষগুলোর ওপর প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক আচরণ করে। একসময় বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ বা বার্তা টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই অতিরিক্ত ঝুঁকে বসে দীর্ঘ সময় ধরে বার্তা পাঠাতে থাকেন। বসার ভঙ্গির কারণে শরীরের জয়েন্ট বা সন্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় স্মার্ট ফোন আমরা বুক পকেটে রেখে থাকি।এর থেকে দেখা যায় এর ক্ষতিকর রশ্নি আমাদের হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করছে।অনেকখন মোবাইল এর দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘাড় বাকিয়ে মোবাইল এর দিকে তাকিয়ে থাকলে আমাদের মেরুদণ্ডের ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি হয়।এতে করে আমাদের মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়।এছাড়াও মানসিক চাপ,ঘুমের সমস্যা,ত্বকের সমস্যা ইত্যাদি সৃষ্টি করছে।

এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখারও অনেক ক্ষতি হচ্ছে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহারের ফলে।তারা তাদের অনেক মূল্যবান সময় ব্যয় করছে মোবাইল এর পেছনে।যেখানে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য নাগরিক রূপে গড়ে তোলা উচিত সেখানে সে মহামূল্যবান সময় নষ্ট করছে মোবাইল ফোনের পেছনে।যার সরাসরি প্রভাব পরছে তাদের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

এছাড়াও তথ্য চুরি হওয়া,গোপনীয়তা বজায় না থাকা,প্রিয়জন থেকে দূরে সরে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যাও দেখা যায়।

তাই বলা যায় যে ,কোনো কিছুর ব্যাবহার যদি তার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি করা হয় তাহলে তা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাড়ায়।এজন্যই আমাদের স্মার্ট ফোন ব্যাবহারে সতর্ক হতে হবে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

কাউন্টার স্ট্রাইকঃ গ্লোবাল অফেন্সিভ বা সিএসঃগো

Arjun Kumar Bose

আক্রান্ত হয়েছে ৮৫ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী

Rakib Islam

মোবাইল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাল রাখার উপায়

Muhammad Uddin

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy