Now Reading
ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাংলাদেশের যানবাহন চালকদের যেভাবে বাধ্য করা যেতে পারে



ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাংলাদেশের যানবাহন চালকদের যেভাবে বাধ্য করা যেতে পারে

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর থেকে আশা করেছিলাম বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে আর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটু ভাল হবে। সবচেয়ে বেশী আশা করেছিলাম হয়তো চালকদের কমনসেন্স আসবে। কিন্তু ব্যয়গত কিছুদিনের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র দেখে মনে হচ্ছে আসলে কাজের কাজ কিছুই হয় নি। যদি চালকরা আসলে সচেতন না হয় তাহলে কিছুই করার নেই এই ব্যাপারে। তো কিভাবে বাধ্য করা যায় বাংলাদেশের গাড়ি চালকদের নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য?

বিভিন্ন উন্নত দেশে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য নানা ধরনের আইনকানুন প্রয়োগ করা হয়। যেমন অস্ট্রেলিয়া এবং আর অনেক দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স করা হয় পয়েন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। যেদিন একজন নাগরিক তার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রথমবারের মত পাবে, সেদিন থেকে তার লাইসেন্সে থাকবে ১২ পয়েন্ট। কোন ধরনের ট্রাফিল আইন অমান্য করলে তার অপরাধের ভিত্তিতে সেই পয়েন্ট কমতে থাকবে আর সেই সাথে অর্থ জরিমানা – তাও অংকটা কম না। যেমন, কেউ যদি সিগন্যাল অমান্য করে তাহ্লেল লাইসেন্সে ৩ পয়েন্ট কাটা যাবে। কেউ যদি ঘণ্টায় ৬০ কিমি এর জায়গায় ৭০ কিমি গড়িতে গাড়ি চালায় তাহলে ১ থেকে ৩ পয়েন্ট অথবা আরও বেশী গতিতে চালালে আর বেশী পয়েন্ট। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে জেল-জরিমানা এবং লাইসেন্স সাসপেন্ড। যদি কারো লাইসেন্সের সমস্ত পয়েন্ট শেষ হয়ে যায় তাহলে উক্ত নাগরিকের লাইসেন্স ৬ মাস্যার জন্য সাসপেন্ড হয়ে যাবে এবং তিনি আর গাড়ি চালাতে পারবে না। এই পয়েন্ট সিস্টেমটি খুব কার্যকরী এসমস্ত দেশে কারন এসব দেশে সাধারণত নাগরিকরা নিজেদের গাড়ি নিজেরাই চালায় আর সবখানেই ট্রাফিক ক্যামেরা, স্পিড ক্যামেরা এবং রেড-লাইট ক্যামেরা থাকে। সহজেই ধরা খেয়ে যায় যদি কেউ নিয়ন ভাঙ্গে। কিন্তু আমাদের দেশে কি এই ধরনের কিছু কাজ করবে?

বাংলাদেশে বেশীরভাগ গাড়ির মালিকের ড্রাইভার থাকে, নিজেরা তেমন একটা গাড়ি চালায় না। আর ড্রাইভার হয় এক এক বার এক এক জন। আর বাংলাদেশে এমন কোন ডাটাবেজ নেই যেখানে দেখা যাবে কোন গাড়ি কোন ড্রাইভার চালাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার মত এধরনের পয়েন্সট সিস্টেম কিভাবে বাংলাদেশে আনা যায়? একটা কাজ করা যেতে পারে সেটি হল, বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পয়েন্ট সিস্টেম না করে প্রথম অবস্থায় যদি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বা রোড পার্মিটকে পয়েন্ট সিস্টেমের আওতায় আনা যায়। অর্থাৎ গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় যে রোড পারমিট দেয়া হয়, সেখানে থাকবে পয়েন্ট । এবং কোন গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করতে থাকলে তার অফেন্সের ভিত্তিতে সেই গাড়ির রোড পারমিট থেকে পয়েন্ট কাটা যেতে থাকবে। সেটি গাড়ির ফিটনেস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ট্রাফিক আইনের লঙ্ঘন করা – সব ক্ষেত্রেই পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। পয়েন্ট কাটা যাওয়ার সাথে সাথে বড় অংকের অর্থ জরিমানা করা যেতে পারে। এক সময় যখন সমস্ত পয়েন্ট শেষ হয়ে যাবে, তখন সেই গাড়িটি ৩ বা ৬ মাসের জন্য তার রোড পারমিট হারাবে এবং রাস্তায় সেই গাড়ি আর নামতে পারবে না। ডিজিটাল নামারপ্লেট থাকার কারণে সহজেই গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের সাথে রোড পারমিট বাতিলের তথ্য জুড়ে দেয়া যেতে পারে। এমনকি, চাইলে ৬ মাসের রেজিস্ট্রেশন প্লেটটি প্রশাসন নিয়ে ফেলতে পারে অথবা গাড়ির কোন জায়গায় একটি সিল দেয়া যেতে পারে যাতে টাফিক পুলিশ সহজেই বুঝতে পারে এই গাড়িটির কোন রোডপারমিট নেই।

এধরনের গাড়ি ভিত্তিক নিয়ম চালু করলে গাড়ির মালিকরা আর বেশী সাবধান এবং সচেতন হবেন। এবং তাদের চালকদের নিয়ন্ত্রক করার চেষ্টা করবেন আর জোরালো ভাবে। পর্যায়ক্রমে দেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সেও অনুরূপ পয়েন্ট সিস্টেম করা যেতে পারে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় কত মানুষ জোশে এসে কত বড় বড় কথা বলছিউ – বিশেষ করে তথাকথিত ফেসবুক সেলিব্রিটিরা। কিন্তু যখন আন্দোলন থেমে যায়, তাদেরও আসলে মুঝটা বন্ধ হয়ে যায়, গুজব নিয়ে পড়ে থাকে। বাস্তবিক অর্থে অর্থপূর্ন কোন ইনপুট আসলে পাওয়া যায়নি কারো কাছ থেকে। যারা আন্দোলন করেছে তাদের আন্দোলন ফিকে হয়ে যায় নানা রকমের সরকার বিরোধী গুজব-চক্রান্তের কারণে। আন্দোলনটা মুখ্য না, কোন সমস্যার সমাধান পাওয়াটা মুখ্য। আমরা সবসময় আন্দোলন করেই থেমে যাই, কিন্তু আসল সমস্যার সমাধান নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। আন্দোলন করার চাইতে সরকারকে কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া গুলো যদি দেয়া যেতে পারে, কেউ না কেউ তো শুনবে তাই না?

আমি বাংলাদেশে এধরনের পয়েন্ট সিস্টেম ট্রাফিক আইন সমর্থন করি এবং আমার মতে এতে করে ট্রাইফ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হবে একই সাথে সড়ক দুর্ঘটনাও অন্তন্ত কিছুটা হলেও কমবে। বাংলাদেশের চালকরা আইনকে সম্মান করে না, তাই তার আইন অমান্য করে ডাল-ভাতের মত। কিন্তু তাদের যদি আইন মানতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেক সমস্যারই দ্রুত সমাধান হবে।

About The Author
Nahid Helal
nahidrains
Independent Film Maker, CEO of NahidRains Pictures and President of Bangladeshism Project.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment