কারেন্ট ইস্যু

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০১৯

আজ ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস।

২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসটি পালিত করা হচ্ছে। ১৯৫৩ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস-এ ‘কাস্টমস কো-অপারেশন কাউন্সিল’ এর উদ্বোধনী অধিবেশনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ২৬ জানুয়ারি ডব্লিউসিও এর পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ১১ তম আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস পালিত হচ্ছে ।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০১৯ আলোচনা অনুষ্ঠানটি ,অডিটোরিয়াম, কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামে বিশেষ আলচনা সভার আয়োজন করা হয় এবং বাংলাদেশসহ বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার (ডব্লিউসিও) সদস্যভুক্ত ১৭৯টি দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আজ সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়েছে । সন্ধ্যায় শেরে বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থাকবেন।এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাস্টমস বা শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে আজ বলেছেন বর্তমান সরকার কাস্টমস পদ্ধতি সহজ ও সাবলীল করে অবাধ বাণিজ্য পরিবেশ সৃষ্টি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে ২৬ জানুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০১৯’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।’
প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষে বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা’র এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘এসএমএআরটি বর্ডারস ফর সিমলেস ট্রেড, ট্রাভেল এন্ড ট্রান্সপোর্ট’- অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে মনে করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সঞ্চার করার জন্য বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর আদায়, দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণ, শুল্ক প্রত্যর্পণ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, রপ্তানি প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে আমরা আত্মনির্ভরশীল উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করব । তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমাদের এই অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ কাস্টমস দ্রুততম সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পন্ন করার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সাথে দেশের অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করে সমৃদ্ধ রাজস্ব ভা-ার গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০১৯’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, বর্তমানে বাণিজ্য, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কারণে মানুষের দেশ-বিদেশে যাতায়াত এবং বিশ্বময় পণ্য পরিবহন অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।  বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ বছর বিশ্ব কাস্টমস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, “এসএমএআরটি বর্ডারস ফর সিমলেস ট্রেড এন্ড ট্রান্সপোর্ট ”- অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বলা যায়, রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রক্রিয়া কাস্টমস প্রক্রিয়ার গুণগতমানকে উন্নতর ও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যে কারণে গত ১০ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশ কাস্টমস বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, সেখানে কাস্টমস ডিউটি আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ১১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যেখানে বাংলাদেশ কাস্টমসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৩৮ হাজার ৩৩৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। শুল্ক হার কমলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, ধাতব পদার্থসহ অনেক পণ্যের দাম কমে গেছে। কিন্তু এরপরও রাজস্ব আদায়ে বিগত ১০ বছরে যা প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা সত্যি বিস্ময়কর। অর্থাৎ বিগত ১০ বছরে ১৫৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ।

চোরাচালান প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাস্টমসের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। অবশ্যই এই সাফল্যের পেছনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বোচ্চ মহলের আন্তরিকতা, দক্ষতাকে অস্বীকার করা যাবেনা। এই সাফল্যের পরিস্ফুটন ঘটেছে কেন্দ্র থেকে একেবারে মাঠপর্যায়ে। তবে এর জন্য আধুনিক ডিজিটাল সরঞ্জাম ও কৌশল ব্যবহার বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।প্রচলিত প্রথার জটিলতা ও হয়রানি থেকে ব্যবসায়ীদের মুক্ত করতেই কাস্টমস বিভাগকে ডিজিটালাইজডের মাধ্যমে অনলাইনে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে ও `কাগজবিহীন প্রযুক্তি` চালুর মাধ্যমে দ্রুত পণ্য খালাসের লক্ষ্যে এ প্রকল্প শুরু। অথচ পণ্যের শুল্কায়ন সেই প্রচলিত প্রথায়ই রয়ে গেছে এখনও।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম কাষ্টম হাউজ অন্যতম সর্ববৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী সরকারী দপ্তর। দেশের সিংহভাগ আমদানী রপ্তানী জনিত শুল্ক/রাজস্ব/করাদি এ দপ্তরের মাধ্যমে আহরিত হয়।
আমদানি-রপ্তানী সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা সম্পর্কে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা , আমদানি-রপ্তানী উৎসাহিত করা, ব্যবসায়ীদের দ্রুত সেবা প্রদান করা, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটোমেশন পদ্ধতিতে নির্ভূলভাবে সম্পন্ন দ্রুত সম্পন্ন করা , বিল অব এন্টি ONLINE-এ সাবমিট করার পর তা IGM শাখায় চেক হওয়ার পর বিল অব এন্ট্রি নং পড়া।- নিয়মিত রাজস্ব সভা অনুষ্ঠিত হয়।- সিএন্ডএফ, শিপিং এজেন্ট ও অন্যান্য রিলেটেড সংস্থার সাথে নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয় , সর্বোপরি রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস একটি অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বিভক্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন!

MP Comrade

মিয়ানমারের কেন এই লুকোচুরি?

MP Comrade

পাল্টা পাল্টি বহিস্কার সেয়ানে সেয়ানে (৩য় বিশ্ব যুদ্ধের ডাক?)

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy