ভ্রমন কাহিনী

সিলেটের “সুন্দরবন” বাংলাদেশের “আমাজন”

ভ্রমন
নামটি শুনেই কেমন যেন মন আনন্দে ভরে উঠে তাই না!আসলে ভ্রমন নামটিই এমন যে শুনলেই মনের ভেতর এক উত্তেজনা চলে আসে মন ও ভালো হয়ে যায়।ভ্রমন কে না পছন্দ করে তাই না।আমরা সকলেই কোনো সুন্দর আকর্ষণীয় আনন্দদায়ক জায়গায় ঘুরতে যেতে খুব পছন্দ করি।আমদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা আবার Adventure মূলক জায়গা গুলতে যেতে বেশি পছন্দ করে।আর সত্যি কথা বলতে কি Adventure মূলক জায়গা গুলি এতটাই মনমুগ্ধকর যে না গিয়ে বা না দেখে কখনই ব্যক্ত করতে পারবেন না।আমি নিজেও Adventure মুলক জায়গাগুলি বেশি পছন্দ করি।কারন এই সকল জায়গাগুলো শুধু মাত্র ঘুরার জন্য নয় এখানে গেলে আপনি অনেক কিছু শিখতেও পারবেন যা অন্য কোথাও থেকে পারবেন না।আমাদের বাংলাদেশের মধ্যেই এরকম Adventure মূলক বহু জায়গা রয়েছে। আর এই বহু জায়গা গুলোর মধ্যে কিছু জায়গা সকলের কাছে পরিচিত হলেও বেশির ভাগ জায়গাগুলোই অচেনা।

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট নামটি হয়তো অনেকেই শুনছেন তাই না!অত্যন্ত Adventure মূলক একটি জায়গা।রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট।একে সিলেটের সুন্দরবন বলা হয়।আবার অনেক পর্যটক একে বাংলাদেশের আমাজান ও বলে থাকে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট যায়নি বা যাওয়ার চিন্তা করছেন।
আবার অনেকেই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টটি সঠিক কোথায় তা ও জানে না।কিভাবে যেতে হবে,কিভাবে গেলে ভালো হবে,কোথায় গিয়ে উঠবে,কোথায় খাবেন,কোথায় কোথায় ঘুরবেন,কিভাবে ঘুরবেন এসব তথ্য জানে না।আর তাই আজ আমরা এসকল বিষয় নিয়ে জানবো-

#অবস্থান
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টটি সিলেট জেলা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উ্পজেলার গৌতম নদী ফতেপুর ইউনিয়ন এ অবস্থিত। এই বনটি প্রায় ৩০,৩২৫.৬১ একর জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে যার মধ্যে ৫০৪ একর জায়গা হচ্ছে বন আর বাকি জায়গাগুলো ছোট বড় জলাশয় দিয়ে পূর্ণ।

#যেভাবে সিলেট যাবেন
যেহেতু আমি চট্টগ্রামে থাকি সেহেতু চট্টগ্রাম থেকে কিভাবে সিলেট যাবেন তা আগে আলোচনা করি-
চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী হচ্ছে ট্রেন।চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার জন্য দুইটি আন্তঃনগরি ট্রেন রয়েছে।একটি হচ্ছে উদয়ন এক্সপ্রেস এবং অপরটি হচ্ছে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস।এছাড়াও আরও একটি মেইল ট্রেন রয়েছে জালালাবাদ এক্সপ্রেস।
# পাহাড়িকা এক্সপ্রেস-
চট্টগ্রাম থেকে সিলেট এর যাত্রাসময় সকাল ০৮:১৫
পৌঁছে রাত ৫:৩০
বন্ধের দিন সোমবার
আবার সিলেট থেকে চট্টগ্রাম এর যাত্রাসময় সকাল ১০:১০
পৌঁছে রাত ০৮:০০
বন্ধের দিন শনিবার
# উদয়ন এক্সপ্রেস-
চট্টগ্রাম থেকে সিলেট এর যাত্রাসময় রাত ০৯:৩০
পৌঁছে সকাল ০৬:৩০
বন্ধের দিন শনিবার
#টিকিট এর মূল্যঃ
এসি (বার্থ) – ১১৯০টাকা
এসি (আসন)-৭৯০টাকা
প্রথম শ্রেণী (বার্থ)-৭০০টাকা
প্রথম শ্রেণীর (আসন)-৪৬০টাকা
স্নিগধা-৬৬০টাকা
এস চেয়ার-৩৪৫টাকা
শুভন-৩০০টাকা
শুলভ-১৭৫টাকা

এছাড়াও আপনি বাসে করে ও জেতে পারেন।
#নন এসি বাস-
এনা ট্রানপোর্ট-৭০০ টাকা
সৌদিয়া কোচ সার্ভিস-৭০০ টাকা
রোমার স্পেশাল-৫৫০ টাকা
মামুন এন্টারপ্রাইজ-৭০০ টাকা
বি আর টি সি-৬০০ টাকা

#এসি বাস-
গ্রীন লাইন-১১০০ টাকা
সৌদিয়া-১২০০ টাকা
লন্ডন এক্সপ্রেস-১১০০ টাকা

এবার কীভাবে ঢাকা থেকে সিলেট যাবেন তা আলোচনা করা যাক-
ঢাকা থেকে সিলেট আপনি যদি ট্রেন এ যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার জন্য চারটি আন্তঃনগরি ট্রেন রয়েছে।পর্বত এক্সপ্রেসস,জয়ান্তিকা এক্সপ্রেসস,উপবন এক্সপ্রেসস।এছাড়াও আর দুইটি মেইল ট্রেন রয়েছে সুরমা মেইল এবং কালনি এক্সপ্রেস।
#পর্বত এক্সপ্রেস-
ঢাকা থেকে সিলেট এর যাত্রাসময় সকাল৬.৪০
পৌঁছে রাত১.৪০
বন্ধের দিন মঙ্গলবার
আবার সিলেট থেকে ঢাকার যাত্রাসময় বিকেল ৩টা
পৌঁছে সকাল ১০.১০
#জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস-
ঢাকা থেকে সিলেট এর যাত্রাসময় দুপুর ১২টা
পৌঁছে সকাল ৪টা
বন্ধের দিন বৃহস্পতিবার
আবার সিলেট থেকে ঢাকার যাত্রাসময় সকাল ৮.২০
পৌঁছে বিকেল ৪.২০
#উপবন এক্সপ্রেস-
ঢাকা থেকে সিলেট এর যাত্রাসময় রাত ৯.৫০
পৌঁছে ভোর ৫.২০
বন্ধের দিন বুধবার
আবার সিলেট থেকে ঢাকার যাত্রাসময় সকাল ৮টা
পৌঁছে বিকেল ৫.১০
#টিকিট এর মূল্যঃ
এসি (বার্থ) –১১৪৯টাকা
এসি (আসন)-৭৩৬টাকা
প্রথম শ্রেণী (বার্থ)-৬৯০টাকা
প্রথম শ্রেণীর (আসন)-৪২৫টাকা
স্নিগধা-৬১০টাকা
শুভন চেয়ার-৩২০টাকা
শুভন-২৬৫টাকা
এছাড়াও আপনি চাইলে বাস করেও যেতে পারেন।ঢাকার গাবতলি এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটের বাস ছেড়ে যায়।ফকিরাপুল,সায়েদাবাদ,মহাখালি বাস স্টেশন থেকে গ্রীন লাইন,সৌদিয়া,এস আলম,শ্যামলি ও এনা পরিবহন এর এসি বাস এ যাতায়াত করতে পারেন।এদের ভাড়া পরবে সাধারণত ৮০০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে।এছাড়াও ঢাকা থেকে সিলেট যেতে শ্যামলী,হানিফ,ইউনিক,এনা পরিবহনের নন এসি বাসেও যাতায়াত করতে পারেনা।এগুলোর ভাড়া পরবে সাধারণত ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

ঢাকা থেকে সিলেট সবচেয়ে দ্রুত ও সাচছন্দে আকাশ পথেও যেতে পারেন।শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ,রিজেন্ট এয়ার,ইউনাইটেড এয়ার,নভো এয়ার এবং ইউএস বাংলা এয়ার এর বিমান প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

#সিলেট থেকে রাতারগুল কিভাবে যাবেন-
সিলেট শহর থেকে বিভিন্ন পথে রাতারগুল যাওয়া সম্ভব। তবে পর্যটকরা দুটি পথ ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমত সিলেট-জাফলংয়ের গাড়িতে চড়ে নামতে হবে সারিঘাট। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি চালিত বেবি টেক্সিতে চড়ে গোয়াইনঘাট বাজার। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে রাতারগুল। ১০-১২ জনের উপযোগী সারাদিনের জন্য একটি নৌকা যার ভাড়া পড়বে ৮০০-১২০০ টাকা। সারি নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এ পথটি অনুসরণ করতে পারেন। তবে খরচ আর সময়, দুটোই বেশি লাগবে এ পথে। রাতারগুলের সবচেয়ে সহজ আর সুন্দর পথটি হলো সিলেট শহরের পার্শ্ববর্তী খাদিম চা বাগান আর খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে। খুব অল্প সময়েই এ পথ ধরে রাতারগুল পৌঁছানো সম্ভব। এ পথে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা জিপ নিয়ে আসতে হবে শ্রীঙ্গি ব্রিজ। সকালে গিয়ে বিকেলের মধ্যেই বন ঘুরে ফিরে আসা সম্ভব। সারা দিনের জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া পড়বে ১২০০-১৫০০ টাকা। আর সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে লোকাল সিএনজিতে গেলে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা। শ্রীঙ্গি ব্রিজ থেকে রাগারগুল জঙ্গলে ঢুকতে হবে জেলেদের ছোট নৌকায়। একটি নৌকায় ৪-৬ জন ঘুরে বেড়ানো সম্ভব। ভাড়া লাগবে ৪০০-৮০০ টাকা। রাতারগুলে যেতে যে পথই অনুসরণ করুন না কেন বনে ঢুকতে লাগবে জেলেদের ছোট নৌকা।

#কোথায় থাকবেন ও খাবেন-
সিলেটে থাকার মতো অনেক হোটেল আছে।এখানে আপনি আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কন ধরনের হোটেল পাবেন।তাদের মধ্যে কয়েকটি পরিচিত হোটেল হলো হোটেল হিল টাউন,গুলসান,দরগা গেইট,সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি।এছাড়াও লালবাজার এলাকায় কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউজ ও রয়েছে।
আর খাওয়ার জন্য সিলেটের জিন্দাবাজারে বেশ ভালো তিনটি হোটেল রয়েছে।নাম-পাঁচ ভাই,পানশি,পালকি।।

#কখন যাবেন এবং যা যা দেখবেন-
রাতারগুল জলাবন বছরে চার থেকে পাঁচ মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে।তখন জলে ডুবে থাকা বনের গাছ গুলো দেখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসে।বর্ষায় গাছের ডালে দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি আবার তখন কিছু বন্য প্রানি ও আশ্রয় নেয় গাছের ডালে।এছাড়াও শীত মৌসুমে এক ভিন্ন রুপ ধারন করে এই বন।পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠে মূতা ও জালি বেতের বাগান।সে সৌন্দর্য আবার অন্যরকম। শীতকালে এখানকার জলাশয়ে বসে হাজারো অতিথি পাখির মেলা।সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর রাতারগুল ভ্রমনের উপযুক্ত সময়।এটি একটি প্রাকৃতিক বন হলেও বেত,কদম,হিজল,মূতাসহ নানা জাতের পানি সহিষ্ণুগাছ লাগিয়েছে বন বিভাগ।আরও রয়েছে জল সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির উদ্ভিদ।

#সাবধাণতা-
আপনি যদি বর্ষায় যান তাহলে একটু খেয়াল রাখবেন যে বর্ষায় যখন বনটি ডুবে যায় তখন সাপ বিভিন্ন গাছের ডালে আশ্রয় নেয় এবং এর সাথে জোঁকের উপদ্রব ও আছে।যদি সাঁতার না জানেন তাহলে লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখবেন।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ক্ষয়িষ্ণু,মুমূর্ষু গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

Raihan Tanvir

বান্দরবান ভ্রমনের অভিজ্ঞতা (দ্বিতীয় পর্ব)

Asif Hasan

একদিনের রিলেক্স টুর – মহেড়া জমিদার বাড়ি

Rohit Khan fzs

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy