কারেন্ট ইস্যু

প্রধানমন্ত্রীর “স্ট্রাটিজি” কীভাবে সামলাবেন ভারত ও চীনকে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো প্রমান করলেন বাংলাদেশর উন্নয়নই তার কাছে সবার আগে।
সম্প্রতি ভারতীয় “টিভি চ্যানেল সি এন এন নিউজ এইটিন এর সাথে একটি সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডে” বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে ভারতের চিন্তিত হবার কোন কারণ নেই”

তিনি বলেন, বর্তমান পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজে ( বিশ্ব গ্রামে ) পরিণত হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক দিকটা সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, চীনের এই “চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডে” এর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হবে, যার ফলে সকল দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ভারতেরও এই পরিকল্পনায় এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় সকল দেশের ব্যবসাবাণিজ্য আরও প্রসার ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।

“ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড”
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে একটি উন্নয়ন কৌশল ও কাঠামো উপস্থাপন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং।( দি সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট অ্যান্ড দি টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি মেরিটাইম সিল্ক রোড বা ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড (সংক্ষেপে ওবিওআর) একটি উন্নয়ন কৌশল ও কাঠামো। এটি দি বেল্ট অ্যান্ড রোড (সংক্ষেপে বিএন্ডআর) অথবা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নামেও পরিচিত।)
প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে এশিয়া ও ইউরোপে প্রায় ৬০টি দেশের সঙ্গে চীনের মূল ভূখণ্ডকে সংযুক্ত করা। এই প্রকল্পের বিনিয়োগ ধরা হয় ৪ থেকে ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিকল্পনায় সড়ক পথের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের সাথে যুক্ত হবে চীন। এবং এই সড়ক পথের সঙ্গে থাকবে রেলপথ ও তেলের পাইপলাইন। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের সাথে সমুদ্র পথেও যুক্ত হবে চীন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং ২০১৬ সালের অক্টোবরে যখন ঢাকা সফরে আসেন তখন “ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড” এই প্রকল্পে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করে। এই পরিকল্পনায় দুটি ‘ইকোনমিক করিডর’ তৈরি করছে চীন। একটি কুনমিং থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ। আর দ্বিতীয়টি- চীনের জিনজিয়াং থেকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের সমুদ্রবন্দর গাওদার পর্যন্ত রেল ও সড়কপথ।

আর বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশর উন্নয়নে এই নীতিটিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিগত বছরগুলোতে। তাই বাংলাদেশ সরকার চীনের এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় তিনদিকে রয়েছে ভারত, তাই এর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা দুটিই রয়েছে। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিশ্বের সকল দেশের সাথেই যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

এই প্রকল্প নিয়ে ভারত চীনের সাথে একমত নয়। কারন ভারত এই প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক প্রকল্প হিসেবে দেখে না ভারত মনে করে এটি একটি আঞ্চলিক পরিকল্পনার অংশ। তাছাড়া চীন যে দুইটি ইকোনমিক করিডর পরিকল্পনা করেছে, তার একটি পাকিস্তানের কাস্মিরের ভিতর দিয়ে যাবে, তাই ভারত এই প্রকল্পটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত আরও একটি কথা বলেছে যে এই প্রকল্পটি কোন সলিড খাত থেকে অর্থায়ন হচ্ছে না, এর অর্থায়ন হচ্ছে ডেট ফাইন্যান্সিং এর মাধ্যমে। ভারত মনে করে এর মাধ্যমে প্রকল্পটি তাদের ঋণের মধ্যে ফেলে দেবে।

সম্প্রতি সি এন এন নিউজ এইটিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি চুক্তি করেছে, যেটি বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম-ইসি) নামে পরিচিত। তিনি আরও বলেন ঐ চুক্তি হওয়ার পর আমি ভেবেছিলাম ভারত এই করিডর নিয়ে চিন্তিত থাকবে না। তারও এই প্রকল্পে যোগদান করবেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি এই বিষয়টি নিয়ে ভারত আলোচনা করতে পারে। এই “ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড” প্রকল্পটি নিয়ে ভারত চিন্তিত থাকলে ,তারা বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারে।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন যে, তিস্তা চুক্তিরও সমাধান হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাস্তব কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এই চুক্তিকে সমর্থন করেন, এবং এই জন্য শেখ হাসিনা মোদির প্রশংসা করেন।
রোহিঙ্গা বিষয়য়ে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারাই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দারিয়েছে, বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আমাদের বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তিনি বলেন আমরা চাই, রোহিঙ্গারা তাদের জন্মভূমিতে যত দ্রুত সম্ভব ফিরে যাক।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ভারতের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক খুব ভাল, তাই ভারত বাস্তবসম্মত কিছু উদ্যোগ নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও বলেন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এই ব্যপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তিনি বিশ্বাস করেন।

সি এন এন নিউজ এইটিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যেই কথা বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করেন, তাতে বুঝা যায় তিনি তার দেশের অগ্রাধিকার টাই সব কিছুতে প্রাধান্য দিয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্লেষকরা এমনটাই মনে করছেন।

ভারতের সাথে আমাদের দেশের সম্পর্ক ভাল আবার চীনের সাথে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ীক সম্পর্ক।
চীনের সাথে আমাদের দেশের প্রায় দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে অপরদিকে ভারতের সাথে এই তুলনায় এক তৃতীয়াংশ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী চীন বাংলাদেশকে ২,৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে, যার বেশিরভাগই অবকাঠামো খাতে। তাছাড়া চীন বাংলাদেশর বিভিন্ন অবকাঠামগত প্রকল্পের সাথে সরাসরি জড়িত।

তবে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব ভালভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থ রেখে এই দুইটি বড় দেশের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

দুই পরাশক্তির বাণিজ্যের কঠিন লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হবে বিশ্ব!

MP Comrade

পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )

Md. Moinul Ahsan

রেপিস্টদের পরিচয় রেপিস্ট ভিন্ন কিছু নয়

rafiuzzaman

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy