Now Reading
বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাজার ও এশিয়ার বৃহত্তম পেয়ারা বাগান!!!



বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাজার ও এশিয়ার বৃহত্তম পেয়ারা বাগান!!!

বরিশালের ঝালকাঠি
নামটি অনেক শুনেছি তাই না! আমি নিজেও অনেক শুনেছি।কিন্তু ঝালকাঠির ভিম্রুলী গ্রামে যে এতো সুন্দর, চমৎকার এবং মুগ্ধ করা একটি ভাসমান পেয়ারা বাজার রয়েছে তা আমাদের মধ্যে অনেকেই জানে না। সত্যি কথা বলতে কি আমি নিজেও জানতাম না।কিন্তু যেদিন জেনেছি সেদিন থেকে জায়গাটি আমার সবচেয়ে প্রিয় একটি জায়গার মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে।কখনো নিজ চোখে না দেখলে জায়গাটির সৌন্দর্য বুঝতে পারবেন না। এটি এতোটাই মুগ্ধকর একটি জায়গা যা আপনি না গেলে কখনই উপলব্ধি করতে পারবেন না। আপনি যদি না গিয়ে থাকেন তাহলে আর দেরি করবেন না তাড়াতাড়ি চলে যান।

#অবস্থান-
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল পেয়ারা চাষের জন্য বিখ্যাত।ঝালকাঠি এর সুগন্ধ, বিশখালী, গাবখান এবংসন্ধ্যা নদীর উপর খাল দক্ষিণ অঞ্চলের পেয়ারা চাষের প্রধান জায়গা। প্রতিদিন সারা দেশে হাজার হাজার পেয়ারা সরবরাহ করা হয়।সেখানে  সরবরাহের জন্য প্রধান পরিবহন হচ্ছে নৌকা।কৃষকরা নদী-সংলগ্ন বাগানের নৌকা থেকে নৌকাগুলিতে পেয়ারা বহন করে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠি জেলায় ভিমরুলি ভাসমান হাট। এটি ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে ১৫কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামের আঁকাবাঁকা ছোট খালজুড়ে এই হাট। ভিমরুলি হাট খালের একটি মোহনায় বসে। তিন দিক থেকে তিনটি খাল এসে মিশেছে এখানে।

ভাসমান বাজার বরিশালের কেন্দ্রীয় সৌন্দর্য হিসাবে আবির্ভূত হয়। এই ভাসমান বাজারের ধারণা শুরু যখন , কেউ জানে এটি কি, কিন্তু এটি একটি শত বছরের পুরানো ঐতিহ্য। এই নদী ভিত্তিক জীবন পর্যন্ত পৌঁছাতে তাদের জন্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। 100 বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় কৃষকরা নদীটির প্রবাহ ও প্রবাহ বরাবর জীবনের ঊর্ধ্বগতি ও উপসর্গ অনুভব করছেন। অনেক কৃষক ও পাইকারী বিক্রেতা প্রতিদিন এখানে জড়ো হয়।

ভিমরুলির আশেপাশের সব গ্রামেই রয়েছে অসংখ্য পেয়ারা বাগান। এই বাগান থেকেই তারা সরাসরি পেয়ারা নৌকায় বোঝাই করে বাজারে নিয়ে আসেন। ভাসমান বাজারের উত্তর প্রান্তে খালের উপরে ছোট একটি সেতু আছে।সেখান থেকে বাজারটি খুব ভালো করে দেখা যায়।আকর্ষণীয় বিষয় হল এখানে আসা সব নৌকাগুলোর আকার আর ডিজাইন প্রায় একিরকম।মনে হয় যেন একই কারিগরের তৈরি সব নৌকা।

#কিভাবে যাবেন-
প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল কিভাবে যাবেন তা আলোচনা করি-
চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো ফেরি,লঞ্চ,বাস,ট্রেন নেই। তবে একদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল যাওয়া সম্ভব এবংতাতে আগে চাঁদপুর বা ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এই রুটটি গ্রহণের সুবিধা হল যে লঞ্চের নৌকা দিনের বেলায় ছেড়ে দেয় যার ফলে আপনি বাংলাদেশকে তার সবচেয়ে সুন্দর দিক থেকে দেখতে পারবেন।

চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে আসার জন্য প্রথমে আপনাকে মোজু চৌধুরী ঘাটে যেতে হবে।
তার জন্য আপনাকে প্রথমেই বাস ধরতে হবে।স্টেশন রোডের হোটেল গোল্ডেন ইন এর পাশে একটি বাস কাউন্টার আছে যা থেকে আপনি টিকিট কিনতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন মূল্য় এর টিকিট পাওয়া যায়।তার মধ্যে জোনাকি সার্ভিস বাসটি আমার সব দিক দিয়ে ভালো লেগেছে যার টিকিট এর মূল্য ছিল ৩৫০ টাকা।এই বাস সার্ভিসটি ভোর ৪.৩০ থেকে শুরু হয় এবং ৭.০০ টায় শেষ হয়।বাসে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।বাস থেকে নেমে মোজু চৌধুরীর ঘাটে যাওয়ার জন্য যেকোনো একটি বাসে উঠলেই তা আপনাকে মোজু চৌধুরী ঘাটের বাসস্ট্যান্ড এ নামিয়ে দিবে।বাসস্ট্যান্ড থেকে দুই মিনিট হাটলেই লঞ্চঘাট এসে পৌঁছাবেন। লঞ্চটি লঞ্চঘাট থেকে বরিশাল ছেড়ে যায় ঠিক দুপুর ১২টার সময়।ঘাট থেকে বরিশাল ফেরি পৌঁছাতে প্রায় ৫ ঘণ্টা লাগে।লঞ্চ এর প্রতি ডেকসিট ৩০০ করে।আপনি চাইলে ক্যাবিন ও নিতে পারেন।
এরপর লঞ্চঘাট নেমে বরিশালের রুপাতলি বাসস্ট্যান্ড চলে যাবেন।রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে খুলনাগামী ধানসিঁড়ি পরিবহনে উঠবেন।ঝালকাঠি পার হয়ে কীর্তিপাশা মোড় এ নামিয়ে দিতে বল্বেন।ভাড়া নিবে ৬০ টাকা।সেখান থেকে শেয়ারড অটোতে ভিমরুলি যেতে পারবেন ২০-৩০ টাকা দিয়ে।

আর আপনি যদি ঢাকা থেকে যেতে চান তাহলে যা করতে হবে-
#বাসে যেতে চাইলে-
ঢাকার সদরঘাট এবং গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি বাস বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।সাকুরা পরিবহনে বরিশাল যেতে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগে।এছারাও গাবতলি থেকে সরাসরি স্বরূপকাঠী লঞ্চঘাটে যাওয়ার বাস রয়েছে।সোনার তরী,হানিফ এবং সাকুরা পরিবহনে ভাড়া জনপ্রতি ৫০০ টাকা।

#লঞ্চে যেতে চাইলে-
ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বেশ কিছু লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ভোর ৪টায় যা ৫টার মধ্যে পৌঁছে যায়।লঞ্চে বরিশাল যেতে জনপ্রতি ভাড়া ডেকসিট ২০০ টাকা,সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ টাকা আর ডাবল কেবিন ১৭০০ টাকা।বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে অটো বা রিক্সা করে চৌরাস্তা এসে বাসে করে স্বরূপকাঠি লঞ্চঘাট পর্যন্ত ভাড়া লাগে ৫০ টাকা।

এরপর স্বরূপকাঠী লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার ভাড়া করে সন্ধ্যা নদী দিয়ে ঢুকে আটঘর,কুড়িয়ানা,ভীমরুলি বাজার ঘুরতে পারবেন।দরদাম করে নিলে ট্রলারভেদে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগবে।অথবা স্বরূপকাঠী লঞ্চঘাট থেকে ২০টাকা অটো ভাড়ায় কুড়িয়ানা বাজার এসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে কুড়িয়ানার আশেপাশের বাজার আর ক্যানেল ঘুরতে পারবেন।তবে ভিম্রুলি গেলে ভাড়া আরও বেশি লাগবে।
এছাড়াও রাস্তা ভালো থাকলে অটোতে করেই আটঘর,কুড়িয়ানা এবং ভিম্রুলি বাজার ঘুরতে পারবেন।

#কোথায় থাকবেন-
আপনি যদি বরিশাল শহরে থাকতে চান তাহলে ভালো মানের অনেক হোটেল পাবেন।সেখানে বেশকিছু আবাসিক হোটেল ও রয়েছে।আর যদি ঝালকাঠী শহরে থাকতে চান তাহলে দুইটি হোটেল রয়েছে।ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউস আর হালিমা এবং আরাফাত বোডিং।
এছাড়াও স্বরূপকাঠীর মিয়ার হাটে হোটেল ইফতি তেও থাকতে পারেন।একদম নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা সাধারণ মানের এ হোটেলটিতেও থাকা একটি অভিজ্ঞতা।

#কোথায় খাবেন-
কুড়িয়ানা বাজারে সকাল সন্ধ্যা হোটেল নামে একটি দোকান আছে।যার রান্না খুবই ভালো।আপনি চাইলে সেখানে খেতে পারেন।এছাড়াও ভিমরুলি বাজারের সাদা ও লাল মিষ্টি,বরিশাল শহরের পুরান বাজার এলাকার হক এর রসমালাই,রসগোল্লা কিংবা ছানা,নতুন বাজার এলাকার নিতাইর মিষ্টি ইত্যাদি খেতে পারেন।

#কখন যাবেন-
আপনি চাইলে বছরের যেকোনো সময়েই যেতে পারেন কারন ভিমরুলি ভাসমান বাজারটি সারা বছর ধরেই চলে।কিন্তু আপনি যদি ভাসমান পেয়ারা বাজারটি দেখতে চান তাহলে পেয়ারার মৌসুম মানে জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে গেলে তা দেখতে পারবেন।তাছাড়াও পেয়ারার মৌসুম শেষ হলে আমড়ার মৌসুম শুরু হয় কারন এ অঞ্চলে আমড়ার ফলনও অনেক ভালো হয়।আর সব শেষে আসে সুপারি।

About The Author
salma akter
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment