Now Reading
সরকারে রাজস্ব বৃদ্ধির সাথে মোবাইল চুরি বন্ধ



সরকারে রাজস্ব বৃদ্ধির সাথে মোবাইল চুরি বন্ধ

বাংলাদেশর প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বড় একটি অংশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এবং দিন দিন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। মোবাইল ফোন, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। মোবাইল ফোন জরুরি কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও আমরা বিনোদনের কাজে ব্যবহার করি। এক কথায় বলা যায় মোবাইল ফোন আমাদের জীবন যাত্রা অনেকটা সহজ করে দিয়েছে।

মোবাইল ফোন আমাদের জীবন যাত্রা যেমন সহজ করেছে ঠিক তেমনি বিপদও ডেকে আনছে। বর্তমানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এবং তা ভয়াভয় রুপ ধারন করেছে।

বাংলাদেশে এবার মোবাইল সিমের মত মোবাইল ফোনও নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। বিটিআরসি এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সিমের মত মোবাইল মোবাইল ফোনেরও নিবন্ধন করতে হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রচুর অবৈধভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশ করছে। ফলে বাংলাদেশ সরকার হারাচ্ছে একটা বড় মাপের ট্যাক্স। আর কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করছে , সরকারকে এই ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ হতে ৩০ ভাগ মোবাইল হ্যান্ডসেট নানা ব্যবসায়ী অসাধু উপায়ে সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে, মোবাইল হ্যান্ডসেট দেশের বাজারে প্রবেশ করাচ্ছে। এতে করে প্রতিবছর ৮শ হতে ১ হাজার কোটি টাকার মত বাংলাদেশ সরকার কর হারাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে নকল ও কলন মোবাইল ফোন।

তাই এই সকল আমদানি করা অবৈধ মোবাইল ফোন এবং নকল মোবাইল ফোন চিহ্নিত করা ও গ্রাহকদের মোবাইল ফোন চুরি যাওয়া প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে যতোগুলো রেডিও ডিভাইস অর্থাৎ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহৃত হবে সেইসব সেটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। তারা বলেন মোবাইল সিমের মত মোবাইল ফোনও নিবন্ধন করতে হবে।

বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ সাংবাদিকদের জানান এই কার্যক্রমটি সম্পন্ন হলে, মোবাইল চুরি, নকল মোবাইল, অবৈধভাবে মোবাইল আমদানিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। গ্রাহকদের নিরাপত্তার নিশ্চিতে কাজে লাগবে এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একজন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী জানতে পারবে তার মোবাইলটি বৈধ নাকি অবৈধ।

বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক জানান, এই মোবাইল ফোনগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

১ম ধাপঃ বৈধ ফোন চিনার উপায়

প্রথম ধাপে বাংলাদেশে যতোগুলো হ্যান্ডসেট বৈধভাবে আমদানি হচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে যে মোবাইলগুলো অ্যাসেমব্লিং করা হচ্ছে বা উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোর ১৫ ডিজিটের স্বতন্ত্র আইএমইআই নম্বর নিয়ে বৈধ ফোনের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।ফলে মানুষ যখন মোবাইল ফোন কিনতে যাবেন তখন তারা সেই মোবাইল সেটটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে খুব সহজেই জানতে পারবেন যে তাদের সেটটি বৈধ নাকি অবৈধ।

২য় ধাপঃ কিভাবে নিবন্ধন করবেন মোবাইল ফোন

দ্বিতীয় ধাপ হলো বিটিআরসি তাদের ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (ইআইআর) খসড়া নির্দেশনা- অর্থাৎ ইআইআর তৈরি করবে। যার আওতায় দেশের প্রতিটি সক্রিয় সেটকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এরই মধ্যে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির ইআইআর যাচাই করে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ২৪ পাতার একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছে বিটিআরসি। ইতিমধ্যেই এই প্রতিবেদনটি যাচাইয়ের জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি কোন সংশোধনের প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিবেদনটি বিটিআরসির কমিশনে পাঠানো হবে।
খসড়া প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে প্রত্যেক অপারেটরকেই তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা প্রতিটি সক্রিয় মোবাইল ফোনের ডাটাবেজ তৈরির সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তবে গ্রাহকদের মোবাইল ফোন নিবন্ধনের জন্য কোথাও যেতে হবেনা। তারা নিজেদের নিবন্ধিত সিমটি সেটে সক্রিয় করলেই তখন সেটটি ওই নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হয়ে যাবে। তারা নিজেদের নিবন্ধিত সিমটি সেটে সক্রিয় করলেই সেটটি ওই নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হয়ে যাবে। ওই সেটে যদি দ্বিতীয় সিম ব্যবহার করতে হয় তাহলে সেটাও অবশ্যই একই নামে নিবন্ধিত সিম হতে হবে।
তাছাড়া কারও যদি একাধিক মোবাইল ফোন থাকে তাহলে তিনি দ্বিতীয় সেটটিতে যে নামের সিমটি সক্রিয় করবেন, সেই নামেই তার দ্বিতীয় সেটটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে। তখন ওই সেটে অন্য নামের কোনো সিম চলবেনা বা ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ একটি সেট কেবলমাত্র একজনের নামেই নিবন্ধিত হবে। এভাবে একেকটি অপারেটরের পৃথক ডাটাবেজ সম্পন্ন হবে।

তারপর এই ডাটাবেজকে ব্ল্যাক, হোয়াইট ও গ্রে- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে।খসড়া নির্দেশনায় ‘হোয়াইট’ বলতে বোঝানো হয়েছে বৈধভাবে আমদানি করা এবং দেশে বৈধভাবে তৈরি হ্যান্ডসেটগুলোকে। অর্থাৎ যে সেটগুলো বিটিআরসি নিবন্ধিত।
‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ক্লোন, অনুমোদনহীন নকল, অবৈধভাবে আমদানি হয়ে আসা সেটগুলোকে।এই সেটগুলো অবৈধ হলেও এবারের মতো সেগুলোকে অনুমোদন দেয়া হবে।
যারা ইতিমধ্যে এগুলো ব্যবহার করছেন বা দেশের বাইরে থেকে আনিয়েছেন তাদেরকে একটি সময় বেঁধে দেওয়া হবে যেনো তারমধ্যেই তারা নিবন্ধিত সিম দিয়ে সেটটিকে সক্রিয় করে নিতে পারেন।
অপরদিকে চুরি যাওয়া হ্যান্ড-সেটের আইএমইআই, মেয়াদ উত্তীর্ণ আইএমইআই যুক্ত সেট কিংবা নকল আইএমইআই সম্পন্ন হ্যান্ডসেটগুলোকে ‘ব্ল্যাক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যখন পূর্ণাঙ্গভাবে ডাটাবেজ তৈরি হয়ে যাবে তখন সম্পন্ন করা হবে সর্বশেষ অর্থাৎ তৃতীয় ধাপের কার্যাদি।

৩য় ধাপঃ কমন সার্ভার
সর্বশেষ ধাপের ক্ষেত্রে সরকার একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করবে যারা বিটিআরসির জন্য এই কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম বা কমন সার্ভার তৈরি করবে। যেখানে প্রত্যেকটি অপারেটরের ডাটাবেজগুলো সিঙ্ক্রোনাইজ হবে। বাংলাদেশে সক্রিয় প্রতিটি মোবাইল ফোন কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তখন এটির নাম হবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার- এনইআইআর।

এরফলে ইআইআর এ নতুন কোন ডেটা সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা এনইআইআরে চলে আসবে।
কেউ যদি তার নিবন্ধিত সেট অন্য কাউকে দিতে চান বা বিক্রি করতে চান তাহলে সেটটিকে পুন:নিবন্ধন করতে হবে।সেক্ষেত্রে নিজের নাম অনিবন্ধিত করে যার কাছে সেট দেবেন তার নামে হ্যান্ডসেটটি নিবন্ধিত করতে হবে। সেটা কিভাবে করা হবে সেটা কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেবে।
এছাড়া যদি আপনার ফোন হারিয়ে যায় বা চুরি যায় সেক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানটি আমার পরিচয় শনাক্ত করে ফোনটি লক করে দেবে। যেন আপনার ফোনটি কেউ কোথাও ব্যবহার করতে না পারে।

ব্যতিক্রমঃ
কিন্তু কর্পোরেট সিম এবং সেটের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন রয়েছে। যেমন আপনার অফিস যদি আপনাকে একটি সিম এবং হ্যান্ডসেট দেয়। সেক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে ওই সেটটি তখন আগে নিজের নামে নিবন্ধন করে নিতে হবে। তারপর সেটিতে কোম্পানির সিম ব্যবহার করা যাবে।
আবার সরকার চাইলে তাদের বিশেষ নির্দেশনা বিশিষ্ট তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের হ্যান্ডসেট ব্যবস্থাপনার বাইরেও রাখতে পারবে। মূলত পুরো প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment