ভ্রমন কাহিনী

অপ্রুপ সৌন্দর্যের লুকায়িত সীতাকুণ্ড

বিশাল পৃথিবীর ছোট্ট সুন্দর একটি দেশ বাংলাদেশ।যদিও এই দেশ ছোট তবুও এখানে রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা যা দেখার জন্য মানুষ অনেক দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে।আর এই সুন্দর জায়গা গুলোর মধ্যে সীতাকুন্ড একটি।পাহাড়,ঝর্ণা,সমুদ্র এবং মন্দির এর এক অসাধারণ সংমিশ্রণ দেখা যায় সীতাকুণ্ডে এলে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় 32 কিলোমিটার উত্তরে সীতাকুন্ডের অবস্থিতি।সীতাকুন্ড চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা।সীতাকুন্ড এই উপজেলার প্রধান শহর।এটি বাংলাদেশের মানুষের আবাসস্থলের প্রাচীনতম অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি। সীতাকুন্ডে রয়েছে ২৮০টি মসজিদ, ৮টিমাজার,৪২টি হিন্দু মন্দির, ৩টি আশ্রম, ৩টিবৌদ্ধ মন্দির এবং কিছু আশ্চর্যজনক পাহাড়,ঝর্ণা ও সমুদ্র সৈকত।

আজকে এই এলাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর স্থান সম্পর্কে আলোচনা করব-

#চন্দ্রনাথ মন্দির-

বাংলাদেশের সীতাকুন্ডের নিকটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির এক অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ।সীতাকুন্ড এবং এর আশেপাশে অনেক ধর্মীয় স্থান রয়েছে কিন্তু তাদের মধ্যে চন্দ্রনাথ মন্দির অন্যতম।চন্দ্রনাথ মন্দির 350 মিটার উচ্চ চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। চন্দ্রনাথ মন্দির হিন্দু ধর্মীয় মানুষের জন্য একটি পবিত্র জায়গা এবং অন্যান্যদের জন্য খুব আকর্ষণীয় একটি পর্যটক স্থান।এখানে দুটি মূর্তি রয়েছে এক দেবী সতীর যা ভবানী নামে পরিচিত।এবং অন্য মূর্তিটি শিবের যা চন্দ্রশেখর নামে পরিচিত। এই নির্দিষ্ট শব্দটি সেই সমস্ত ব্যক্তিদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের মুকুট বা মাথার শীর্ষে চাঁদ আছে।শক্তি পিঠের জন্য এই মন্দিরের খ্যাতি রয়েছে।প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মন্দিরটিতে একত্রিত হয় শিব চতুর্দশী পূজায় যোগদান করতে। মন্দিরটি সুন্দর মার্বেল কাঠামো এবং শিল্প দিয়ে তৈরি।মন্দিরটি একটি প্যানোরামিক দৃশ্যকে নির্দেশ করে এবং এর আশেপাশের বৈশিষ্ট্যগুলিও অনেক বিস্ময়কর।মন্দিরের প্রাচীন রথটি কাঠের জন্য সুপরিচিত।

#গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত-

চট্টগ্রাম বিভাগের সীতাকুন্ড উপজেলার সীতাকুন্ড বাজার থেকে 5 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি সমুদ্র সৈকত।যার নাম গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত।গুলীয়াখালী সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কম পরিচিত একটি সমুদ্র সৈকত। এটি স্থানীয় মানুষের কাছে মুরাদপুর সমুদ্র সৈকত নামেও পরিচিত।শৈল্পিক এবং কাঠামোগত দিক থেকে এটি অন্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দিগন্তের এক পাশে পানিতে ভরপুর সমুদ্র সৈকত এবং অন্যদিকে কেওড়া বন দেখা যায় যায়।আর এই কেওড়া বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত রয়েছে।গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতটির পরিবেশ অনেকটা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং ম্যানগ্রোভ বনের মত।সমুদ্র জুড়ে বিস্তৃত সবুজ ঘাসের কার্পেটটি অন্য সৈকতগুলো থেকে এটিকে আলাদা করে যা দেখে চোখ জুড়ে যায়।এছাড়াও প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা ছোটো ছোটো নালাগুলো যখন জোয়ারের পানিতে ভরে উঠে তার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।সাগরের অধিক ঢেউ বা গর্জন না থাকায় এক নিরিবিলি পরিবেশের ভিন্নতা অনুভব করা যায় এই গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতটিতে। এই সৈকতে পাখি, তরঙ্গ এবং বায়ু সঙ্গীতের এক অনন্য অবস্থান দেখা যায়।

#বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত-

চট্টগ্রাম জেলা সীতাকুন্ড উপজেলা বিভিন্ন কারণে পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় জায়গা হিসেবে পরিচিত।
সীতাকুন্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ী হ্রদের সুন্দর দৃশ্যাবলী, সুন্দর পাহাড়, পার্কের সবুজ বন, ইকো পার্কের পাহাড়ী এলাকা এবং লেক হিলের সুন্দর দৃশ্যাবলী সকলের কাছে বহুল পরিচিত।আর এইসকল সুন্দর স্পটগুলোর তালিকায় আরেকটি নতুন নাম যোগ হয়েছে যা বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত নামে পরিচিত।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে বাঁশবাড়িয়া বাজার নামে একটি ছোট বাজার রয়েছে। এই বাজারের মাধ্যমে মাত্র 15 মিনিটের একটি পিচঢালা পথ ধরে পৌঁছানো যায় বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতটিতে।বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুইটি বিষয় হচ্ছে সেখানকার সূর্যাস্ত দেখা।আর সেখানে লোহার একটি ব্রীজ রয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় আধা কিলোমিটারেরও বেশি সমুদ্রের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়।এছাড়াও ঝাউ বাগানের খাঁটি গাছ,জেগে ওঠা সবুজ গাছের চর,খোলামেলা পরিবেশ,বিশাল বালির মাঠ এক অসাধারণ সৌন্দর্যের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে পর্যটকদের কাছে।

#বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ইকো পার্ক-

সীতাকুন্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং ইকো পার্ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলার সীতাকুন্ড বাজারের ২কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত যার বিস্তৃতি প্রায় ১৯৯৬একর এলাকা জুড়ে। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইকোপার্ক।ইকোপার্কের প্রধান আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অপরটি হলো বিরল গাছগুলির হাজার হাজার বিরল প্রজাতি।এছাড়াও রয়েছে অর্কিড হাউজ যেখানে প্রায় ৫০ ধরনের দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড।পাহাড়,বৃক্ষরাজি,বন্যপ্রানী,ঝর্ণা,পাখির কলরল,বানর,খরগোশ,হনুমানসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সমাহার।অর্জুন,চাপালিশ,জারুল,তুন,তেলসুর,চুন্দুলসহ আরও অনেক ফুল-ফল ও ওষধি গাছ।এছাড়াও বেশিরভাগ পর্যটক এখানে ভিড় করে সূর্যাস্ত দেখার জন্য যা ইকো পার্কটিকে সৌন্দর্যের তীব্রমাত্রায় নিয়ে যায়।এছাড়াও এখানে দুইটি আকর্ষণীয় জলপ্রপাত রয়েছে।যার একটি হচ্ছে সুপ্তধারা এবং অপরটি হচ্ছে সহস্রধারা।বর্ষা মৌসুমে এর সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ভারত ভ্রমনের ৩ সপ্তাহের ১ম ও ২য় দিন।

FAHAD BIN HUSNE ALI

ভারত ভ্রমনের ৫ম দিন (রাজস্থান দা পিংক সিটি )

FAHAD BIN HUSNE ALI

সবুজের উদ্যান ‘জিন্দা পার্ক’

Mehedi Hasan

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy