Now Reading
কেন হতাশ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্র ?



কেন হতাশ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্র ?

আগামী শনিবার থেকে সারাদেশে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে । এ বছর সব মিলিয়ে চার হাজার ৯৬৪টি কেন্দ্রে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে।
আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস এস সি )ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রের ২০০ মিটারের ভিতরে শুধু মাত্র পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষক ছাড়া বাহিরের সকলের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ । বিগত বছর গুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে নানা রকম প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে শিক্ষা বোর্ড , পুলিশ শাসন এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে ।
প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর চেষ্টায় গতবারের মত এবারও পরীক্ষা শুরুর সাত দিন আগ থেকে শেষ পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
২০১৯ সালের এস এস সি পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে দুই ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থার গঠন করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ’ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে গত বুধবার পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে । বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সে অর্পিত ক্ষমতাবলে’ পরীক্ষা কেন্দ্রের দুইশ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের অনধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পাঠাতে এ বছর দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে বাদামি রঙের কাগজের খামে সিলগালা করে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পাঠানো হলেও এবার অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের প্যাকেটে ভরে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের প্যাকেট যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সে জন্য এসব প্যাকেটের উপর আরেকটি নিরাপত্তা প্যাকেট ‘নিরাপত্তা ট্যাগ’ দিয়ে মোড়ানো থাকবে। এতে কেন্দ্রে পাঠানোর সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে । গত বছরের এইচএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায়, পরীক্ষার পূর্ব মুহুর্তে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ২০১৭ সাল থেকে আধা ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে প্রবেশের এই নিয়ম চালু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায়ও পরীক্ষার্থীদের এ নিদের্শনা মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যারা দেরিতে যাবে, তাদের নাম, রোল ও দেরির কারণ রেজিস্ট্রারে লিখে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে হবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে কারও কাছে মোবাইল ফোন পেলে গ্রেপ্তার করা হবে- এমন একটি নির্দেশনাও  ২০১৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় দেওয়া হয়েছিল।
শুধু মাত্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ‘অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস’ ব্যবহার করতে পারবে না। এবারও কেন্দ্র সচিবকে একটি ‘সাধারণ’ ফোন ব্যবহার করতে হবে, যেখানে ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা থাকবেন না।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন , ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এসেছে। সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের বছরে সরকার এবং দেশের শিক্ষা খাতের অর্জনকে বিতর্কিত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কুচক্র মহল এই ধরনের দেশের আইন বিরোধী কাজ ঘটিয়েছে।

পরীক্ষার্থী-অভিভাবকসহ দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য , যেখানে গত বছর ৫০টি ভিজিল্যান্স টিম এবং ১০টি স্পেশাল ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করছিলো , এই বছর এস এস সি পরীক্ষা সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ৭০টি ভিজিল্যান্স টিম এবং ১০টি স্পেশাল ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করবে। সারা দেশের চার হাজার ৯৬৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রেই পৃথক পৃথক ভাবে স্পেশাল ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করবে।

About The Author
Sharmin Boby
Sharmin Boby
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment