Now Reading
হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসা



হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসা

হৃদ রোগ,
হৃৎপিন্ড এবং রক্তবাহক ,ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকা সম্পর্কিত রোগ নিয়ে আলোচনা করে । প্রধানত হৃদসংবহন তন্ত্র, মস্তিষ্ক, বৃক্ক ও প্রান্তিক ধমনী সম্পর্কিত, রোগকে হৃদ রোগ বলে। হৃদরোগের অনেক কারণ থাকতে পারে, তবে উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যাথেরোসক্লোরোসিস প্রধান। পাশাপাশি, বয়সের সাথে সাথে হৃৎপিন্ডের গঠনগত ও শারীরবৃত্তিক পরিবর্তন হৃদরোগের জন্য অনেকাংশে দায়ী, যা স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিরও হতে পারে।
১৯৭০ সালের পর উন্নত দেশে মৃত্যুহার কমে গেলেও বিশ্বব্যাপি মৃত্যুর জন্য হৃদরোগ দায়ী। প্রতিবছর ১৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন বা প্রায় পৌনে দ্ইু কোটি মানুষ মারা যায় এ রোগে। তবে এ রোগের ভয়াবহতা নিয়ে প্রচারণা কম । একই সাথে, মধ্য ও স্বল্প আয়ের দেশগুলিতে হৃদরোগের সংখ্যা ও এর কারণে মৃত্যু দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও হৃদরোগ প্রাপ্ত ববয়স্কদের হয়, কিন্তু হৃদরোগের পূর্বাবস্থা অ্যাথেরোসক্লোরোসিস অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। সেজন্যই পুষ্টিকর খাদ্য, শারীরিক পরিশ্রম, তামাক জাতীয় খাদ্য পরিহারের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধের উপর জোর দেওয়া হয় ।

PC: World Heart day

গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই হৃদরোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণেই মানুষ আজকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন বেশি। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ওজন। বর্তমানে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ধরন হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ।
হার্ট অ্যাটাক নামক দানবটি যখন আমাদের ছোট্ট হৃদয় অ্যাটাক করে, তখন হার্ট অ্যাটাক হয়ে অনেকেই মারা যান। যদি আমরা আমাদের হার্ট শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী করতে পারি, তখন এ দানব নিজেই ধরাশয়ী হবে এবং হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা পাব।
বিশ্ব হার্ট দিবসের প্রতিপাদ্য হলো এন পাওয়ার ইউর লাইফ অর্থাৎ শক্তিশালী জীবন। শক্তিশালী জীবনের জন্য দরকার শক্তিশালী হৃদয় আর শক্তিশালী হৃদয়ের জন্য প্রয়োজন হলিস্টিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতির মধ্যে আছে ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা, শারীরিক কর্মকে উৎসাহিত হওয়া ,স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যগ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা বিশেষ করে যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম, মেডিটেশন ও নিউরোবিক জিম ও আকুপ্রেসার। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দৈহিক ওজন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হলেও হার্ট শক্তিশালী রাখা যায় মহাজাগতিক শক্তি বা কসমিক এনার্জির মাধ্যমে।

PC: World Heart Day

দেশের অপেক্ষাকৃত কম বিত্তবান মানুষ হৃদরোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের আওতায় আসবে। এ জন্য জাতিসংঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য বিশেষ করে হার্ট সুস্থ থাকার জন্য বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে যোগব্যায়াম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব যোগ দিবস পালন করে আসছে।
হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসাই হলিস্টিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এ চিকিৎসা হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীনতম প্রাকৃতিক পদ্ধতির আশ্চর্য সমন্বয়। এ চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি দুটি এন স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম। রোগীর বয়স ও রোগের ধরন এবং তার বর্তমান অবস্থার ওপর নির্ভর করে তার প্রতিদিনের খাদ্যগ্রহণ। শরীরের জন্য যা উপকারী, সেই খাবার খান। প্রয়োজনে ডায়েট মেনে চলুন। মাংস ও দুগ্ধজাত দ্রব্য কোলেস্টেরল লেভেল বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে। ফল, বিন, শাকসবজি, ওটস স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এগুলো খাওয়ার চেষ্টা করুন। ব্যায়ামের ব্যাপারটি বিবিধ, তার আগে মন নিয়ন্ত্রণের জন্য চাই সঠিক উপায়ে মেডিটেশন। মানসিক চাপই মানুষের অসুখ ও অশান্তির মূল কারণ। মানসিক চাপ কমানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম, মেডিটেশন ও নিউরোবিক জিম এন প্রতিটির নিজস্ব রীতিনীতি আছে। হলিস্টিক চিকিৎসায় সোল-মাইন্ড-বডি বা আত্ম-মন-দেহ সবকিছুর ওপরে লক্ষ্য রেখে প্রোগ্রাম দেওয়া হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, হলিস্টিক চিকিৎসা ইতোমধ্যে দেশে আস্থা অর্জন করেছে। বিগত দশ বছর ধরে দেশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে হাজার হাজার হৃদরোগীর জীবনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে ।

PC: World Heart Day

হার্টের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে দেশের নব্বই শতাংশ রোগীর পক্ষেই চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া অধিকাংশ মানুষ থাকেন গ্রামে। সর্বত্র যোগাযোগের ব্যবস্থাও উন্নত নয়। ফলে হৃদরোগে আক্রান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশ্ব হার্ট দিবসে আমরা অবশ্যই হৃদয়ের কথা শুনব। ফিরে তাকাব আমাদের হার্টের সুস্থতার দিকে। হার্ট সুস্থ রাখার জন্য যা যা করা দরকার, তা করতে সচেষ্ট হব।
প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসার দিকটিও আমাদের তুলে ধরতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে । হৃদরোগ থেকে রেহাই পেতে সচেতনভাবেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
মধ্যবিত্ত, অসচ্ছল এবং দরিদ্র হৃদরোগীরা যাতে যথার্থ চিকিৎসার বাইরে না থেকে যায়, সেটাই হোক প্রধান বিবেচনার বিষয়।

About The Author
Sharmin Boby
Sharmin Boby
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment