সমসাময়িক চিন্তা

চিকিৎসার জন্য কেন বিদেশে যান?

আমাদের দেশের স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা ও নিন্ম মাণের রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে আত্মবিশ্বাসের অভাবের কারণে প্রতিবছর ৭,০০,০০০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় ৭ লাখ মানুষ বিদেশে যায়। একই সময়ে বিদেশি মুদ্রার জন্য বিদেশী মুদ্রা নির্গমন করে, যা প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য বাংলাদেশ স্বাস্থ্য পর্যটন বাজারে পরিণত হচ্ছে।
বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা প্রধানত চিকিৎসার জন্য ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া যান। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসা পর্যটক আকর্ষণ করে এবং আনুমানিক ৪,২৫,০০০ রোগী প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভ্রমণ করে। এসএসসি পরীক্ষার্থী জারিফ মাহমুদ গত কয়েক মাস ধরে নিউরোলজিক্যাল রোগের শিকার হয়েছেন।
তিনি ঢাকায় দুই চিকিৎসক নিয়ে আলোচনা করেন এবং অসংখ্য মেডিক্যাল পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জারিফকে বলেন যে তার মস্তিষ্কের চর্বি রয়েছে। কানক কান্তি বারুয়া তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য সিঙ্গাপুরে যে কোনো বিলম্বের মধ্যে তাকে পাঠানোর পরামর্শ দেন, যার জন্য ৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। পুরোপুরি নিশ্চিত হননি, তার পরিবারের সদস্যরা তাকে চেন্নাই অ্যাপোলোতে নিয়ে যান। ডাক্তারদের একটি গ্রুপ জারিফের অসুস্থতার পাঁচ দিনের জন্য তদন্ত করে এবং কিছুই খুঁজে পায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থা রোগীদের কাছ থেকে বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে বিদেশী চিকিৎসা পর্যটন বৃদ্ধি পাবে। একজন সুপরিচিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় গুণমান সরবরাহ করে আমাদের আরো আস্থা তৈরি করতে হবে।

ছবি সংগ্রহঃ mmtimes.com

স্বাস্থ্য অধিকার কর্মীদের অভিযোগ, যারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন তাদের বেশির ভাগেরই আচরণ ভালো নয়। সেবার ক্ষেত্রে তাদের বাণিজ্যিক মানসিকতা কাজ করে। যারা বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের অভিমত হলো, বিদেশে চিকিৎসকরা মনোযোগ দিয়ে যথেষ্ট সময় নিয়ে রোগীর কথা শোনেন। অনেকটা গল্প করেই রোগীর মনোবল দৃঢ় করেন সে দেশের চিকিৎসকরা। আর আমাদের দেশে এই চিত্র একদম ভিন্ন। রোগীর কথা শোনার সময়ই থাকে না অনেক চিকিৎসকের।
রোগী তার সমস্যাগুলো বলার আগেই লেখা হয়ে যায় প্রেসক্রিপশন। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, চিকিৎসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো নীতিমালা এবং কৌশল নির্ধারণ করা নেই। এমনকি জাতীয় পর্যায়ে বিদেশগামীদের বিষয়ে কোনো তথ্যও সংরক্ষণ করা নেই।
এ বিপুল সংখ্যক মানুষ অর্থ ও শ্রম খরচ করে ভারতে এবং বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা করছে। কারণ একটাই, সেখানে গেলে ভাল স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে। চিকিৎসকদের সঠিক রোগ নির্নয়, ভালো আচরণ, প্রয়োজনের বাইরে একগাদা টেস্ট না করানো, সর্বোপরি তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নিশ্চিয়তা পাওয়া। রোগীর যত বড় লাইন হোক না কেন, একজন রোগীকে ভাল করে পর্যবেক্ষণ ও দেখার জন্য যতক্ষণ সময় লাগবে, ততক্ষণই সেখানের চিকিৎসকরা দিয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ২,৮৯৪ জনের জন্য রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক আছেন মাত্র একজন৷ আর সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ১,৬৯৮ জনের জন্য আছে একটি বেড৷ বাংলাদেশে মোট হাসপাতালের সংখ্যা সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ৩,৫৭৫টি৷ এরমধ্যে সরকারি হাসলপাতাল মাত্র ৫৯২ টি৷ সরকারি হাসপাতালের মধ্যে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল আছে ৪৬৭টি আর ১২৫টি হাসপাতাল বিশেষায়িত এবং জেলা পর্যায়ে৷

ছবি সংগ্রহঃ jointintelligencecommittee.com

আর এতে স্পষ্ট যে সরকারি স্বাস্থ্য সেবার চেয়ে বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার অবকাঠামো বেশি৷ এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়বহুল ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে৷ বেসরকারি খাতে ৫,২২০টি ডয়াগনস্টিক সেন্টার আছে৷ এর একাংশ আবার অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের কার্যক্রমও পরিচালনা করে৷ তাদের সেবার মান নিয়ে আছে বিস্তর অভিযোগ৷ অভিযোগ রয়েছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেখানে ঠিকমতো সেবা না দিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে বেশি আগ্রহী ।
বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে অভিযোগ আছে এবং সে অভিযোগ কিছুটা সত্যও৷ আমরা অবৈধ ক্লিনিক হাসপাতালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাই৷”
বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি- এটা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা স্বাস্থ্যবিমা চালু করছি৷ ধনী লোকরা নিজেরাই প্রিমিয়ামের টাকা দেবেন, গরিব মানুষের প্রিমিয়াম দেবে সরকার৷ এটা ২০৩০ সালের আগেই হবে৷ তখন সরকারি আর বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ভেদ দূর হবে৷ তাছাড়া মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে, তাই এই সেবার প্রতি তাদের আগ্রহ এবং চাপ বাড়ছে৷ এটাও একটা অগ্রগতি৷”

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ডিজিটাল দেশের নতুন যানবাহন নৌকা!

AH Arman

একাদশ ভর্তি আবেদনের পর যা করবেন

riajulrifat28

ভার্চুয়াল সম্পর্ক: বাস্তবিক নাকি বায়বীয়?

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy