Now Reading
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আদিকথা……



বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আদিকথা……

সাহিত্য বলতে কোন লিখিত বিষয়বস্তুকে বুঝায়। সাহিত্য শিল্পের একটি অংশ। সাহিত্য মানে কিছু লিখা যা সাধারণ লিখা থেকে আলাদা এবং যা থেকে শিল্পের আঁচ পাওয়া যায় বা শিল্পের সাথে মিলে আলাদা কোনো রুপ পাওয়া। মোটকথা সাহিত্য হচ্ছে লেখকের বাস্তব জীবনের চিন্তা চেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য্য যা শিল্পের সাথে মিলিত। সাহিত্যের ধরন অনুযায়ী সাহিত্যকে দুইভাগে ভাগ করা যায় যা হলো-গদ্য ও পদ্য। আবার এই গদ্য ও পদ্যের মধ্যেও কিছু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। গদ্যের মধ্যে রয়েছে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ইত্যাদি। আর পদ্যের মধ্যে রয়েছে ছড়া,কবিতা ইত্যাদি। এছাড়াও নাটককে সাহিত্যের আলাদা প্রধান শাখাও বলা হয়ে থাকে। নাটকেরও কিছু শাখা- প্রশাখা রয়েছে যা হলো- নাটিকা,মঞ্চনাটক ইত্যাদি।

আর এই সাহিত্য নিয়েই গড়ে উঠা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র হচ্ছে শিক্ষা ও সংস্কৃতিমূলক একটি প্রতিষ্ঠান। মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিভিন্নবিষয়ক জ্ঞান ও রুচিশীল সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটানো এর উদ্দেশ্য।

 

PC: sahitto kendro

বই মানুষের সর্বশেষ্ঠ বন্ধু। মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে ‘আলোকিত মানুষ চাই’ এই স্লোগান নিয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের যাত্রা শুরু। সারাদেশের মানুষকে আলোকিত করে জাতীয় শক্তি হিসেবে সংঘবদ্ধ করা এবং পাশাপাশি মানুষের মনের সামগ্রিক চিন্তাচেতনার বিস্তৃতি ঘটানোই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যগুলোকে সফল করে তোলার জন্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গত ৩৯ বছর ধরে দেশব্যাপী নানারকম উৎকর্ষধর্মী কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে ১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর এবং এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৯৮০ সালের ৬ মার্চ। ঢাকার ১৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালনার জন্য রয়েছে ৯ সদস্যের একটি ট্রাস্টিবোর্ড, যারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন এবং এই ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হচ্ছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব। তিনি অধ্যাপনা করেছেন ত্রিশ বছর (১৯৬২- ১৯৯২) পর্যন্ত। অধ্যাপক হিসেবে তাঁর খ্যাতি কিংবদন্তিতূল্য। ষাটের দশকে বাংলাদেশে যে নতুন ধারার সাহিত্য আন্দোলন হয় তিনি ছিলেন তার নেতৃত্বে।

PC: The daily ittefaq

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অর্থায়নে রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন লোকহিতৈষী ব্যক্তি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং কেন্দ্রের নিজস্ব আয়। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি নিজস্ব ১০ তলা একাডেমিক ভবন রয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লক্ষ পাঠকেরও বেশী। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম দেশে-বিদেশে নানাভাবে সমাদৃত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য কৃতিত্ব এবং অবদানের জন্য ২০০৮ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার The Jan Amos Comenius Medal for the year লাভ করেছে। কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ২০০৪ সালে এশিয়ার নোবেল খ্যাত Magsaysay International Award ও পান।

১৫জনকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই ছোট সাহিত্য কেন্দ্রটির এখন ১০ তলা একাডেমিক ভবন ছাড়াও রয়েছে ১টি আর্ট গ্যালারী, ১টি নাট্যমঞ্চ, ১টি শিশু কেন্দ্র, ৩টি অডিটোরিয়াম, বিশ্ব সাহিত্যের একটি শাখা, বিশ্ববিখ্যাত সিনেমা ও ছবির ২টি আর্কাইভ, অতিথি ভবন এবং ১টি ক্যাফেটেরিয়া, ৪৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী। কেন্দ্রের প্রধান লাইব্রেরীতে ২০ হাজারেরও বেশি বই রয়েছে। প্রতি বছর ১০হাজারেরও বেশি পাঠক লাইব্রেরীটি ব্যবহার করে থাকে। এই লাইব্রেরীর মোট সদস্য ৫৮১২ জনেরও বেশি।

এছাড়াও উৎকর্ষ কার্যক্রম ও পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় রয়েছে-
# কর্মসূচির আওতাভুক্ত স্কুল-কলেজ সংখ্যা : ১৩৯০০ টি
# কর্মসূচির আওতাভুক্ত জেলা : ৬৪ টি
# কর্মসুচির আওতাভুক্ত উপজেলা : প্রায় ৪৫০টি
# বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশিত বই সংখ্যা : ৪৮৭ টি
# ভ্রাম্যমাণ বই মেলা : ১টি
# ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী : ৪৬টি
# ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর বই সংখ্যা : ৪,৮২,৫০০ টি
# ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি এলাকা সংখ্যা : ১৯০০ টি
# আওতাভুক্ত জেলা : ৫৮ টি
# আওতাভুক্ত উপজেলা : ২৫০ টি

এই সকল উৎকর্ষ কার্যক্রম ও কর্মসূচীসমূহ অব্যাহত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের কারন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আজ আর শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি আজ একটি দেশব্যাপী আন্দোলন। মানবজ্ঞানের সামগ্রিক চর্চা এবং অনুশীলনের পাশাপাশি মনের উৎকর্ষ ও জীবনের বহুবিচিত্র কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে উচ্চতর শক্তি ও মনুষ্যত্বে বিকশিত হবার একটি অনন্য পৃথিবী।

About The Author
salma akter
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment