Now Reading
ভারতের কয়েকটি অদ্ভুত এবং ভয়ংকর কেল্লা



ভারতের কয়েকটি অদ্ভুত এবং ভয়ংকর কেল্লা

ভারত বর্ষের ভূমিতে প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন রাজ বংশ রাজত্ব করছে। সেইসব রাজত্বের স্থাপত্য আজো ভারতের নানা প্রান্তে বর্তমান। স্থাপত্য গুলোর মধ্যে উল্ল্যেখ যোগ্য হল, ভিবিন্ন দূর্গ বা কেল্লা। নিজেদের সুন্দর্য ও অদ্ভুদ গঠনের জন্য শুধু মাত্র ভারতে নই, এই কেল্লা গুলো সারা পৃথিবী বিক্ষ্যাত। পৃথিবির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এই স্থান গুলোতে ঘুরতে আসে। সেই সাথে ভারতের ভ্রমণ পিপাসু মানুষরাও এখানে শামিল হয়। এই কেল্লা গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা রহস্য জনক ঘটনা। এই কন্টেন্ট এ ভারতের কয়েকটা কেল্লা সম্পর্কে জানব। সেগুলো যেমন সুন্দর, তেমন ভয়ংকর এবং রহস্যময় ঘটনার জন্য সুপরিচিত।

প্রবালঘট দূর্ঘ

মানুষ হল এডভেঞ্চার প্রিয়। আমাদের মধ্যে অনেকে ভালবাসেন, ঝুকিপূর্ণ অভিযানে যেতে। এমন মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয়, যারা বিপদজনক রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেক করতে পছন্দ করেন। আর এ জায়গাটাও সেইসব বিপদজনক স্থানগুলোর মধ্যে একটা। ভারতের Khalapur এর Raigad জেলার মধ্যে অবস্থিত প্রবালঘট দূর্ঘ তার বিপদজনক খারা রাস্তার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এ কেল্লাটা ২৩২০ ফুট খারা পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত। এই কেল্লায় উঠার জন্য পাহারের শিলা কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। যেইটা ভিষন বিপদজনক সেই সাথে ভয়ংকরও, ধরার জন্য নেই কোন দড়ি, বা রেলিং এর বন্দবস্ত। সামান্য ভুল বা মনোসংযোগ বিচ্চিন্ন হলেই একেবারে হাজারফুট গভীরখাতে গিয়ে পরতে হবে। সমগ্র রাস্তাটা দুর্গম এবং বিপদ সংকুল। সন্ধ্যা হতেই এখানে গভীর অন্ধকার গ্রাস করে। বিদ্যুতের তেমন কোন বন্দবস্ত না থাকার কারনে ওখানে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ সন্ধ্যার আগে নিচে নেমে আসে। এখানে যাওয়া অধিকাংশ মানুষই ট্রেক করতে ভালবাসেন। অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত এখানে যাওয়ার সবচেয়ে বেশি উপযোক্ত সময়।তারপর বর্ষার কারনে সিড়ি গুলা পিচ্চিল হয়ে যায়। যেটা দূর্ঘটনার কারন হইয়ে দঁড়াতে পারে। এই কেল্লাটা এতটায় উঁচুতে অবস্থিত এখান থেকে চান্দেরি, মানিকঘর, কার্নেলা এসমস্থ কেল্লাগুলোও দেখা যায়।

চিতোরগর কেল্লা

 

রাজস্থান ভারতের এমন এক স্থান যেখানে অনেকেগুলো প্রাচীন ঐতিহাসিক কেল্লা রয়েছে। এমনি একটি কেল্লা হল চিতোরগর কেল্লা। একসময় মেবারের রাজধানী ছিল এই চিতোরগড়। যেটি কিনা ভারতের অন্যতম বড় দুর্গ বলেই জানা যায়। রঙিন রাজস্থানের রাজকীয় চরিত্রের বাইরে খানিকটা ধূসর চিতোর যেন অতীতকে বুকে আঁকড়ে আজও আবহমান৷ রাজপুত রানাদের শৌর্য বীর্যের ইতিহাসগাথার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে চিতোরের নাম। দুর্গের নামেই শহরের নামকরণ। চিতোরের মূল আকর্ষণ পাহাড়ের মাথায় ৭০০ একর এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা চিতোরগড় কেল্লা। রাজপুতদের বীরত্বের সাক্ষী এই দুর্গ। শহর থেকে সড়ক পথ গিয়েছে দুর্গের অভ্যান্তরে। আজও ইতিহাসের পাতা উল্টালে ধরা মেলে অগণিত অবিশ্বাসনীয় গল্প, যা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে রূপকথার গল্প বলে মনে হলেও তা সঠিক প্রমান করেছে অজস্র রয়ে যাওয়া তথ্য।ঠিক সেইরকমই এক অভাবনীয় গল্পের সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছেন সিংহলের রাজা গন্ধর্ব সেনের সুন্দরী কন্যা পদ্মাবতী। রানী পদ্মিনীর বিমোহিত রূপে মুগ্ধ ছিল গোটা দেশ। চিতোরগর কেল্লা দেখার জন্য সারাবছর দূর দূর থেকে পর্যটকরা আসেন। বিদেশেও এই কেল্লার সোন্দর্য ও শৈল্পিক নিদর্শন বিশেষভাবে সুপরিচিত। কেল্লার প্রতিটা অংশ মন দিয়ে দেখার জন্য ভিড় লেগেই থাকে। দুর্গের মধ্যে রয়েছে কুম্ভ প্যালেস, পদ্মিনী প্যালেস, মীরা মন্দির, গৌমুখ, বিজয়স্তম্ভ। দুর্গের মধ্যে থাকা কুম্ভ প্যালেসের মধ্যে যে জলাশয় রয়েছে সেখানেই নাকি জহরব্রত পালন করেছিলেন রানি পদ্মিনী। পুরো দুর্গই যেন রহস্যে মোড়া। রাজকীয় এই দুর্গ বর্তমানে রাজস্থানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বহু পর্যটকই এই দুর্গে যান ইতিহাসের খোঁজে। রহস্যের সন্ধানে। কিন্তু এখানে এমন একটা জায়গা রয়েছে যেখানে কেউ যাওয়ার সাহস দেখায় না। এটা হল চিতোরগর কেল্লার জহরকুন্ড। ওখানে যাওয়াতো দূরের কথা, কেউ এর পাশ দিয়ে যাওয়ার কথাও চিন্তা করে না। এখানে যাওয়ার জন্য কিছু মানুষ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইনক্রিডিবল হলেও এটাই সত্য যে, তারা কেউ সফল হতে পারেনি। জহরকুন্ডকে হন্টেড বা ভূতুরে এবং ওখানে নীতিবাচক শক্তি রয়েছে বলে বলা হয়। এর পিছনে একটা বড় কাহিনী লুকিয়ে রয়েছে। যা ভালবাসা, দন্দ এবং আত্নত্যাগের কথা বলে।

কুম্ভলগর কেল্লা

 

 

রাজস্থানের রাজতমান জেলায় অবস্থিত কুম্ভলগর কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন মহারানা কুম্ভ। এ কেল্লায় দুইটি বিশেষত্ব রয়েছে। প্রথমত এ কেল্লার প্রাচীল পৃথিবীর দ্বিতৃয় দীর্ঘতম। চীনের প্রাচীলের পর যেটা প্রায় ৩৮ কিলোমিটার লম্বা এবং ১৫ ফুট চওড়া। এতটাই চওড়া যে এর উপর একসাথে ৫ টা ঘোড়া দৌড়াতে পারবে। দ্বিতৃয় বিশেষত্ব এ কেল্লার মধ্যে ৩০৭ টিরও বেশি মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি প্রাচীণ জৈন মন্দির, এবং বাকি গুলো হিন্দু মন্দির। এখানে শত্রুরা কখনো শক্তিরজোরে প্রবেশ করতে পারেনি। এ কেল্লার মধ্যে উঁচুস্থানে মহল মন্দির এবং আবাসিক ঘর বানানো হয়েছে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment