Now Reading
ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত প্রায়



ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত প্রায়

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গত রাতে শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তিনি হাস্পাতালে ভর্তি হন। আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে ওবাইদুল কাদের দলের সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এছারাও পর পর তিনি ২ মেয়াদে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন। সকালে ওবাইদুল কাদেরের এনজিওগ্রাম করা হয়, তার ট্রিটমেন্টের জন্য একটি মেডেইকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তিপক্ষ। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদেরের হার্টে ৩টি ব্লক ধরা পড়েছে, প্রাথমিকভাবে একটি ব্লক অপসারন করা হলেও তার শারীরিক অবস্থা সংকামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তিপক্ষ। ব্রিফিং এ জানানো হয় এনজিওগ্রাম শেষে তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও তা সংকামুক্ত নয়। তাকে বর্তমানে হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সেখানে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ রাখছেন। তার শুভাকাঙ্ক্ষী যারা দেখতে হাসপাতালে আসছেন; দয়া করে ভিড় জমাবেন না। চিকিৎসা বা অন্য রোগীদের চিকিৎসায় যেন ব্যঘাত না ঘটে। যারা অনুভুতি প্রকাশ করতে চান, তাদের জন্য নিচে খাতা রাখা আছে, তাতে অনুভুতি প্রকাশ করতে পারেন। তিনি জানান, ওবায়দুল কাদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া প্রসঙ্গে গোলাপ বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের নেওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসক এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। চিকিৎসক সিদ্ধান্ত দিলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে তাকে বাহিরে পাঠানো হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে ওবায়দুল কাদের জন্যে দোয়া চাই।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরে তাকে যুব ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। তিনি ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন থেকে ২০০৯ সালের সম্মেলন পর্যন্ত কাদের আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৯ মার্চ জরুরি বিধিতে গ্রেপ্তার হয়ে ১৭ মাস ২৬ দিন জেলে ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন।
ওবায়দুল কাদের ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালে দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
২০১৬ ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে কাদের ২০১৬-২০১৯ মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালের ২৮ নভেম্বর বঙ্গভবনে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। বর্তমানে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী হিবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কিছুদিনের জন্য রেলমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
রোববার (৩ মার্চ) সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিএসএমএমইউর আইসিইউতে ভর্তির পর ওবায়দুল কাদেরের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। আইসিইউতে চিকিৎসা দিয়ে অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে তার এনজিওগ্রাম করে হৃদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এসময় একটি রক্তনালীতে রিং (স্ট্যান্টিং) বসানো হয়। এরপর উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনটেনসিভ করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। আজ সোমবার দুপুরেই তাকে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুর পাঠানো হতে পারে।

আজ সকালে ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষে শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করার জন্য বিএসএমএমইউর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কাদেরের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা শেষে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিদল মতামত দেন গতকালের তুলনায় আজ ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তাই রোগীকে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুসারে ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগবিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে দুপুর ১টায় ঢাকায় আসছেন। গতকাল থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিএসএমএমইউর হৃদরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা.মোস্তফা জামান। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার কথা শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ আসতে রাজি হন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে আনার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়।
দেবী শেঠি এসে দেখার পর তিনি, বিএসএমএমইউ ও সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসবেন। ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুর পাঠানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে একাধিক হৃদরোগবিশেষজ্ঞ বলেন, ‘হাসপাতাল অ্যাকুয়ারর্ড ইনফেকশন এড়াতে ও সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিত। গতকাল শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল বলে তারা সিঙ্গাপুরে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’
তারা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের সোডিয়াম ও পটাশিয়াম অর্থাৎ ইলেকট্রোরাল ইমব্যালান্স হচ্ছে। এক্ষেত্রে দ্রুত স্থানান্তরই শ্রেয়।’
তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment