Now Reading
বরগুনায় পর্যটক সম্ভাব্য জায়গার সমাহার



বরগুনায় পর্যটক সম্ভাব্য জায়গার সমাহার

নতুনকে জানার আগ্রহ মানুষকে সব সময় হাতছানি দেয়। বরগুনায় ৮ টি পর্যটক আকর্ষণ জায়গা গড়ে উঠেছে। বরিশাল বিভাগে তালিকাভুক্ত সকল পর্যটন আকর্ষণের ১১ ভাগ এই জায়গাগুলির মধ্যে বিসৃত। এখানে তালিকাভুক্ত পর্যটক আকর্ষণ
প্রাকৃতিক কেন্দ্র ও সমুদ্র জলভূমি।

ঝিনুক শামুকে ভরা বালুর চরে
ঢেউয়ের সাথে নেচেছি।
রঙ্গিন স্বপ্নে গাঁথা স্মৃতির মালা
সৈকতে ফেলে এসেছি।
ওরে ছুটে যাই চল, সেই সাগর তীরে
ওরে খুঁজে যাই চল, ফেলে আসা মুক্ত নীড়ে।

একদিকে বঙ্গোপসাগরের শোঁ শোঁ গর্জন, অন্যদিকে শ্যামল ছায়ার কোমল পরশ। এমন মনমুগ্ধকর জায়গার সন্ধান মিলবে বরগুনা লালদিয়া বন, সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত, হরিণঘাটা ইকো পার্কে। পৃথিবীখ্যাত মায়াবী চিত্রল হরিণের দুরন্তপনা, রাখাইন জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনচিত্র, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযুদ্ধ যে কাউকে মুগ্ধ করার মত এমন কিছু স্থান রয়েছে বরগুনায়।

লালদিয়া বন

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় অবস্থিত একটি ছোট ম্যানগ্রোভ বন। এটি মূলত সুন্দরবনের অংশবিশেষ। এর পূর্ব প্রান্তে লালদিয়া সমুদ্রসৈকত। ঘন সবুজ এই মনোমুগ্ধকর বনের পশ্চিমে বয়ে গেছে বিষখালি নদী এবং পূর্বে বয়ে গেছে বলেশ্বর নদী। এই দুটি নদী যে লালদিয়ার বনের সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। অপরদিকে সৈকতের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় এই বনের সৌন্দর্য বেড়ে গিয়েছে বহুগুনে। আকারে ছোট হলেও এই লালদিয়ার বনকে প্রকৃতি দান করেছে দুহাত ভরে। এই বনে শুধুই যে নানা প্রজাতির পাখি বাস করে তাই নয় শীতকালে এখানে অতিথি পাখিরাও আসে। লালদিয়ার বনে বেড়াতে এসে পাখিদের কিচিরমিচির এবং প্রবাহমান নদীর কলকল শব্দের মূর্ছনায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে আপনি চমৎকার অবসর সময় কাটাতে পারবেন।

সোনাকাটা সমুদ্র

বঙ্গোপসাগরের নোনা পানির ঢেউ সাদা ফেনা তুলে আছড়ে পড়ছে তীরে। সকালের সূর্যরশ্মি ঢেউয়ের ফেনায় পড়ে ঝকমক করছে। পাখির দল উড়ে যাচ্ছে এদিক সেদিক। বড় বড় ট্রলার নিয়ে জেলেরা ছুটছে গভীর সাগরের দিকে। এমন মন ভোলানো অনেক দৃশ্য চোখে পড়বে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে প্রাকৃতিকভাবে জেগে ওঠা সোনাকাটা সমুদ্র সৈকতে।
বরগুনার তালতলী থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে ফকিরহাট বাজার। বাজারের পাশেই গহিন বন। ছোট্ট একটি খাল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বনটিকে। ভূখণ্ডটি স্থানীয়দের কাছে ‘ফাতরার বন’ হিসেবে পরিচিত। তবে বন বিভাগের খাতায় এটি ‘টেংরাগিরি’ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আয়তন ৯,৯৭৫.০৭ একর। সোনাকাটা ইউনিয়নের অন্তর্গত এ দ্বীপটি এখন ‘সোনাকাটা বন’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
বনের পূর্বে কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন আর হরিণবাড়িয়া, উত্তরে বিশাল রাখাইন পল্লী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ বনের পার্শ্ববর্তী সোনাকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটিই উপভোগ করা যায়। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হওয়া এ বনে আছে নানা জাতের গাছপালা। আছে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখির বিচরণ। ফাতরার বনে ইকোপার্ক তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছোট একটি ডাকবাংলো। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ট্রলারে সোনাকাটা যেতে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগে।

হরিণঘাটা ইকোপার্ক

পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদ- এসে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। মোহনায় প্রাকৃতিক বন। নয়নাভিরাম বনের ভেতর নিসর্গের মায়া আর মুগ্ধতা। ২০ প্রজাতির বৃক্ষরাজিতে ঠাসা সংরক্ষিত বন। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বনে সৃজিত বনের সুবাদে পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। হিংস্র প্রাণী নেই। আছে হরিণ, বনমোরগ, বানর, শূকর, গুইসাপ, নানা প্রজাতির সরীসৃপসহ ২০ প্রজাতির বন্য প্রাণী। রয়েছে অন্তত ৫০ প্রজাতির পাখি আর বন্য প্রাণিকুল। এই হলো সাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা হরিণঘাটা বন।

সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন আর সাগরে সূর্যের উদয়-অস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ পাওয়া প্রত্যেক পর্যটকের জন্যই বড় আকর্ষণ। বরগুনার পাথরঘাটার সাগরের কোলঘেঁষা হরিণঘাটা বনের ভেতরে নির্মাণাধীন ফুট ট্রেইল (বনের ভেতর পায়ে চলা সেতু আকৃতির পথ) দর্শনার্থীদের নিসর্গ মায়ায় টানছে। ফুট ট্রেইল নির্মাণ শুরুর ফলে হরিণঘাটা বন আকর্ষণীয় পর্যটনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বনের ভেতর উঁচু পিলারের ওপর পায়ে চলা পথ ধরে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দে বনের প্রাণ-প্রকৃতি ও সাগরতীর দর্শনের সুযোগ পাচ্ছে।

About The Author
Sharmin Boby
Sharmin Boby
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment