Now Reading
সংসদে কি বললেন সুবর্ণা মুস্তাফা



সংসদে কি বললেন সুবর্ণা মুস্তাফা

প্রথম দিনেই সংসদে দাঁড়িয়ে ছোটপর্দা ও বড়পর্দার সংকটগুলোি তুলে ধরলেন নন্দিত অভিনেত্রী সুবর্ণ মুস্তাফা। সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ দিয়ে তিনি তার বক্তব্য প্রদান করেন।

দেশে বিদেশি চলচ্চিত্র ও বিদেশি সিরিয়াল প্রদর্শনে নতুন নিয়ম প্রবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান অভিনেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা । ৩ মার্চ জাতীয় সংসদে ভাষণের সময় তিনি এ আহ্বান জানান। ওই সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশি চলচ্চিত্রের অবাধ প্রদর্শনের কারণে দেশি চলচ্চিত্র মার খাচ্ছে।

এজন্য বিদেশি সিরিয়াল ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনে করারোপ এবং দেশি চলচ্চিত্রে প্রণোদনা বৃদ্ধি করা উচিত।’ তিনি দেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিদেশি চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল প্রচারের সময় নির্দিষ্ট করে দেয়ারও দাবি জানান। সূবর্ণা মুস্তফা আরো বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ চলচ্চিত্র; কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের চলচ্চিত্র এখন দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই দেশের সব জেলায় সিনেমা হল সংস্কার, সিনেপ্লেক্স নির্মাণ, করমুক্ত হলগুলোতে ইউটিলিটি বিল ও সিনেমা প্রদর্শনের ওপর ট্যাক্সমুক্ত, বিদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোসহ দেশি চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রণোদনা দেয়ার আহ্বান জানালেন তিনি।

শিল্পিদের সংকটের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমাদের দেশের মঞ্চ চর্চাকে, থিয়েটারকে এইন্টারটেইনমেন্ট টাস্ক ফ্রী করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এরা নিজেদের পকেটের টাকা বের করে থিয়েটার করছে, এরা ট্যাক্স দিবে কীভাবে সেই আইনটি এখনো বিরাজমান, আমরা এখনো সেই সুবিধা ভোগ করছি। আমাদরে প্রধানমন্ত্রী বেইলি রোডে মহিলা সমিতিতে নাটক দেখেছেন।

বাংলাদেশে শিল্পী কোনো স্বীকৃত পেশা নয়, শিল্পীদের সংকটের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। আমরা চাইলে সামান্য একটা ব্যাংক লোনও নিতে পারি না। বিষয়টা অত্যন্ত বিব্রতকর। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা সবাই সংসদে এসেছি।’ অন্যদিকে বর্তমানে রাজনৈতিক কাজেই ব্যস্ত সময় কাটছে এ তারকা অভিনেত্রীর।
সুবর্ণ মুস্তাফা হলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী ও প্রযোজক। তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার কন্যা এবং ক্যামেলিয়া মোস্তফার বোন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে আফজাল হোসেন এবং হুমায়ুন ফরীদির সাথে তার জুটি ব্যাপক দর্শক সমাদর লাভ করে। এছাড়া তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা কোথাও কেউ নেই ও আজ রবিবার টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জণ করেন। সুবর্ণা ১৯৮৩ সালে নতুন রউ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করেন।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment