Now Reading
কে কাকে ছেড়ে যাচ্ছে? বিএনপি জামায়েতকে নাকি জামায়েত বিএনপি কে?



কে কাকে ছেড়ে যাচ্ছে? বিএনপি জামায়েতকে নাকি জামায়েত বিএনপি কে?

গত বছরের জুন-জুলাইয়ে বিএনপি সরকার বিরোধী জোট গড়ে তুলতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায়। সব দলগুলোর মধ্যেই নানান- হিসাব নিকাশের মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল- জামায়াত থাকবে কিনা। গণমাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকেরা তখন বলে এসেছেন বিএনপি জামায়াত ছেড়ে এলে জাতীয় ঐক্য হবে। অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। তখন ঐক্যফ্রন্ট থেকে বারবার বলা হয়েছে তাদের সঙ্গে জামায়াত নেই।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আশা করি, বিএনপি শিগগিরই জামায়াতের সঙ্গে তাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বলে ঘোষণা দেবে। তাদের সঙ্গে যে জোট করে সরকার গঠন করেছে সে জন্য জাতি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইবে।
জোট গঠন হওয়ার শুরুতে জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গটি বেশ আলোচিত হয়েছিল। নির্বাচনের পরে এসে সেই প্রসঙ্গ আবারও আলোচিত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এবার সরাসরিই বললেন, জামায়াতের সঙ্গে ধানের শীষে নির্বাচন করাটা ভুল ছিল। জোটের অন্য নেতারাও বলছেন, জোটের স্বার্থেই বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে। তবে শরিক দলগুলোর এই চাপ বিএনপি তেমন পাত্তা দিচ্ছে না।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তথ্য আইনের ব্যবহার’ শীর্ষক কর্মশালা উদ্বোধনের পর তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মার্কিন কংগ্রেসে ওঠা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে এবং জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতে প্রক্রিয়াধীন।
অন্যদিকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আরো বলেন বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে চায় না, জামায়াতই বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন । মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ভেতরের খবর হলো জামায়াত বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে চায় না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিত্সা বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উপমহাদেশের সব রীতিনীতি ভঙ্গ করে আদালতের বিশেষ বিবেচনায় কারাগারে সর্বোচ্চ বিশেষ সুবিধা তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এমনকি গৃহপরিচারিকার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে, যা ব্রিটিশ, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের কোনো আমলে হয়নি।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম জিয়া রাজবন্দি নন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তার পরও রাজবন্দিদের বেলাতেও যা হয় না, তাঁর বেলায় সেই সুবিধাগুলো দেওয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক ডাক্তার, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট সবই রয়েছে তাঁর জন্য।’ তার পরও বিএনপি নেতারা কয়েক দিন পরপরই বেগম জিয়ার অসুস্থতার কথা বলেন। কিন্তু তাঁর এ অসুস্থতা নতুন নয়।’
চ্যানেল নাইনের বার্তা বিভাগ বন্ধ হওয়া বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, টেলিভিশনগুলোতে যাঁরা কাজ করেন সেই সাংবাদিকদের সুরক্ষা বজায় থাকুক। লক্ষ করছি, অনেক টেলিভিশন, তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিরাট ফারাক। তাদের আয় যাতে বৃদ্ধি পায়, আমাদের দেশের বিজ্ঞাপনগুলো বিদেশে চলে না যায়, সে নিয়ে কাজ করছি।
এদিকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা আমার কাছে মনে হয় না যে বিএনপি জামায়াতকে অথবা জামায়াত বিএনপিকে ছাড়বে। এটা হলেও কৌশলগত হতে পারে। তাদের চিন্তাভাবনা, তারা যে চেতনা ধারণ করে, সে ক্ষেত্রে তারা অনেক কাছাকাছি। দুটির চেতনা একই। কোনোটা উদার, আবার কোনোটা উগ্রপন্থী।’ তিনি বলেন, ‘যে আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে সেখানে তারা (বিএনপি-জামায়াত) খুব কাছাকাছি নয়? অনেক কাছাকাছি। আমি মনে করি দুটিই সাম্প্রদায়িক দল।’

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment