Now Reading
নতুন পাকিস্তান গড়তে হলে নতুন চিন্তা প্রয়োজন – রাভীশ কুমার



নতুন পাকিস্তান গড়তে হলে নতুন চিন্তা প্রয়োজন – রাভীশ কুমার

নতুন পাকিস্তান গড়তে হলে সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে কঠোর পদেক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  ইসলামাবাদকে বার্তা দিযে তিনি এ কথা বলেন। ইসলামাবাদ সন্ত্রাস দমনের বিরুদ্ধে আগ্রহ দেখায়নি বলে দাবি করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সন্ত্রাসবাদীরা যেন তাদের ভূমি দখল অথবা ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তারা। সন্ত্রাস রুখতে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে তা ধামাচাপা দিতে আগ্রহ বেশি ইসলামাবাদের, মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
ভারতের পুলওয়ামায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) হামলার জেরে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সম্পর্কের টানাপোড়েন লেগেই আছে। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিয়ে নয়াদিল্লি বলেছে, নয়া পাকিস্তান গড়তে হলে, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও নয়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
নয়া পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছর সে দেশে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান খান। গত শুক্রবার এক সমাবেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে দেশের বাইরে হামলা কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। তাই তাঁর সেই নির্বাচনী স্লোগান তুলে ধরেই এবার পাকিস্তানকে খোঁচা দিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে আমাদের পার্লামেন্টে হামলা, ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলার পর নেওয়া একই পাণ্ডুলিপির প্রয়োগ তুলে ধরেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র । পাকিস্তান জঙ্গি ও জঙ্গিগোষ্ঠীকে বিতাড়নের দাবি করেছে, কিন্তু তা কেবল কাগজেই থাকে। বস্তুত জঙ্গিগোষ্ঠী ও জঙ্গিরা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।’ এ ছাড়া ভারত ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের যুক্তিসংগত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান এ বিষয়ে কোনো আন্তরিকতা দেখায়নি বলে দাবি করেছেন রবীশ কুমার।
জঙ্গি হামলা হলেই প্রমাণ চাওয়া কার্যত স্বভাবে দাঁড়িয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের। প্রতিবারেই যেন দেখতে পায় না সে দেশের প্রশাসন, যদিও যথেষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়। নতুন পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গতবছর ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান খান। সত্যিই নাকি নয় পাকিস্তান তৈরি গড়ার কাজ করছেন ইমরান খান, তার সমর্থকদের দাবি। পাক মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠিাগুলির বিরুদ্ধেও নতুন ব্যবস্থা নিতে হবে ইমরানকে, এবার পাল্টা ভারতের তরফ থেকে তাই বলা হল। পাকিস্তানেনর দাবি ওরা নয়া চিন্তা ভাবনাকে ভিত্তি করে নতুন পাকিস্তান গড়ছে বলে বলেন বিদেশমন্তকের মুখপাত্র রবিশ কুমার। যদি সত্যিই এমনটা হয়, তবে পাক মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধেও নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হবে তাদের। সেই সাথে ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তানের অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য আর সহ্য করে নেবে না নয়াদিল্লি।
পাকিস্তানের বালাকোটের যে এলাকায় ভারত বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, সেই এলাকায় ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিকদের যেতে দেয়নি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, পাকিস্তান সাংবাদিকদের সেখানে যেতে দেয়নি কারণ অনেক কিছুই তাদের লুকানোর রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটের ওই হামলায় জেইএমের শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিজয় গোখলে তখন বলেছিলেন, ওই দিনের হামলায় জেইএমের প্রশিক্ষণ শিবিরে অনেক সন্ত্রাসী, প্রশিক্ষক, জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং কয়েক দল জিহাদি নিহত হয়েছে। তবে ভারতের এই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। হাই রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ইমেজেও দেখা গেছে, মাদ্রাসা (ভারত যেটিকে শিবির বলছে) অক্ষত রয়েছে। মাদ্রাসাটি জইশ-ই-মুহাম্মদের তত্ত্বাবধানে চলত। জইশ-ই-মুহাম্মদ নিজ থেকে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারপরও হামলায় তাদের ভূমিকা অস্বীকার করছে পাকিস্তান। তাদের আড়াল করছে। এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
পাকিস্তানের একটি ড্রোন রাজস্থান দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছেন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) । বিএসএফ ড্রোনটি শনাক্ত করে তা ভূপাতিত করার চেষ্টা করলে সেটি পাকিস্তানে ফিরে যায়। বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রীগঙ্গানগরের কাছে হিন্দুমালকতের সীমান্তে গতকাল ভোর পাঁচটার দিকে একটি ড্রোন ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তা দেখে গুলি করা শুরু করে সেটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করেন। ঐ এলাকার মানুষগুলো থেকে জানা যায়, সেসময় তারা গুলির শব্দ শুনতে পান।
ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিসারিয়া শনিবার ফিরে গেছেন শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, একই দিন পাকিস্তানী হাইকমিশনার সোহেল মাহমুদও নয়াদিল্লীতে তার কর্মস্থলে ফিরেছেন। আশা করা হচ্ছে, এতে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হবে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার সোহেল মাহমুদ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করেন। তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment