Now Reading
ভোট শুরু হওয়ার আগে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে উদ্ধার বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার, স্থগিত ভোট ।



ভোট শুরু হওয়ার আগে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে উদ্ধার বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার, স্থগিত ভোট ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ – ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আজ সকাল ৮ টায় শুরু হয়। এতে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেইসাথে বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধারের পর উক্ত হলের (কুয়েত মৈত্রী) হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের মধ্যে ১৭টিতে সোমবার সকাল ৮টায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট শুরু হলেও কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরুই করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী এবং প্রো-ভিসি মোহাম্মদ সামাদকে ঘিরে ভোট বাতিলের দাবিতে হলের গেইটে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ হলে ঢুকার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ায় ঢুকতে পারেনি পুলিশ।
কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচন অবশ্যই স্থগিত থাকবে বলে বলেছেন, প্রো-ভিসি মোহাম্মদ সামাদ। এবং যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বিপুল পরিমাণ ব্যালট দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, আগের রাতেই এসব ব্যালটে ‘ক্রস চিহ্ন’ সিল মেরে ভোটের চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীদের নামে ভোটের সিল মারা হয়েছে।
কুয়েত মৈত্রী হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সোমবার সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই অন্যান্য হলের মতো এখানেও ছাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচনে প্রার্থীরা হল প্রভোস্টের কাছে তাদের সামনে ব্যালট বক্স খোলার দাবি করে। তবে তাদের সামনে বাক্স খোলা হয়নি। সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটের দিকে হলে প্রক্টর আসেন। এরপর প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট মিলে ব্যালট বাক্স হলের রিডিং রুমে নিয়ে যান। এরপর ছাত্রীরা গিয়ে রিডিং রুম থেকে বস্তাভর্তি ব্যালট পান।
হলের মিলনায়তনের পাশে রিডিং রুমে বসে ব্যালট পেপারে ভোটের চিহ্ন (সিল মারা) দেয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন, কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের ভিপি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুন্নাহার পলি।
ভেতর থেকে দরজায় ছিটকিনি দিয়ে ভেতরে বসে এগুলো করছিল বলে, তিনি অভিযোগ করেন। ওই রুমে বসে সিল মারছিল। আমরা সাড়ে ৭টার দিকে ম্যামকে বলেছিলাম ‘ম্যাম আমরা দেখব ব্যালট বাক্স খালি কিনা। তিনি কিছুতেই দেখাবেন না। উনি বলেন, প্রক্টর স্যার এসে দেখাবেন।’
তিনি আরো বলেন,‘প্রক্টর স্যার এসে বললেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হবে। সব দেখাব। এটা বলে তিনি ওই রুমে নিয়ে গিয়ে ভিতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে দেন। আমরা দরজা ধাক্কা দিলেও কিছুতেই খুলতে চাননি। যখন দরজা খুললো, আমরা ভেতরে গিয়ে বস্তাভর্তি সিল মারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করি।
১৮টি হল মিলিয়ে মোট ৪৩ হাজার ২৫৫ জন ভোটার রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের । এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটার ১৯৬৯ জন।
জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তাভর্তি সবগুলো ব্যালটে একই প্যানেলের প্রার্থীর নামে ভোটের চিহ্ন দেয়া। সিলগুলো আগের রাতে মেরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাকসুর জিএর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফুর রহমান। সেই সাথে ভোটগ্রহণ স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সিল মারা ব্যালটের সত্যতার প্রামাণ পেয়েছি বলে সাংবাদিকদের জানান প্রক্টর গোলাম রব্বানী। তিনি আরো বলেন আমরা এখানে আছি, ভোট বন্ধ আছে। দেখি কি করা যায়। উক্ত ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ=উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ কুয়েত মৈত্রী হলে আসেন এবং তিনি বলেন এ হলে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন বিষয়টি নির্বাচনী কমিটিতে তুলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment