Now Reading
রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে “কাঠগড়ায়” দাঁড় করানোর আহ্বান



রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে “কাঠগড়ায়” দাঁড় করানোর আহ্বান

রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)’র কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪০তম সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

২০১৭ সালের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বর্মি বাহিনী ও দেশটির উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হাত থেকে জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই বিষয়টি আইসিসি’তে তোলার আহ্বান জানালেন জাতিসংঘ দূত।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার পরিস্থিতি অবশ্যই আইসিসি’তে তোলা উচিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, কোনও দেশ কিংবা বিভিন্ন দেশের জোট থেকে এ বিষয়টি সেখানে তোলা যেতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এই বিশেষ দূত বলেন, ঘটনার শিকার মানুষদের যন্ত্রণা লাঘবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত। এ ব্যাপারে বৈশ্বিক নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে অপেক্ষমান থাকতে তাদের বাধ্য করা উচিত নয়। বিষয়টি যদি আইসিসি’তে তোলা সম্ভব না হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বিবেচনা করা।

২০১৮ সালের আগস্টে রাখাইনের মানবাধিকার হরণের ওপর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের প্রতিবেদন হাজির করে। তদন্তের ফলাফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযানকে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যতাড়িত’ আখ্যা দেওয়া হয়। গণহত্যায় জড়িত থাকার আলামত সাপেক্ষে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ৬ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিচার দাবি করা হয় সেই তদন্ত প্রতিবেদনে। এরপর বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে নিষিদ্ধ করে।

আন্তজার্তিক অপরাধ আদালতের সনদ ও রোম স্ট্যাচুতে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের এখতিয়ার নেই। এমন প্রেক্ষিতেই প্রয়োজনে স্বাধীন একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেন জাতিসংঘ দূত।

About The Author
salma akter
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment