Now Reading
কে সেই হামলাকারী কেনই বা তার এই হামলা???



কে সেই হামলাকারী কেনই বা তার এই হামলা???

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থী। তাঁর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
নিউজিল্যান্ডের একটি গণমাধ্যমে বলা হয়, ওই হামলাকারী অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। দুই বছর ধরে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করছেন। হামলাকারী জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এ হামলার পরিকল্পনা করেন তিনি। হামলার আগে ৭৩ পাতার টুইটারে একটি ইশতেহার আপলোড করেন ওই হামলাকারী। সেখানে তিনি এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে দাবি করেন। এ ছাড়া অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানান। তাই নিজেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক বলে উল্লেখ করেন।

অভিবাসীবিদ্বেষী এ হামলাকারী তার ইশতেহারে বলেছেন, হামলা করে তিনি অভিবাসীদের দেখাতে চান যে, আমাদের ভূমি কখনও তাদের ভূমি হবে না। যতক্ষণ শ্বেতাঙ্গরা জীবিত থাকবেন। তিনি মুসলমান এবং ধর্মত্যাগীদের ঘৃণা করেন। ধর্মত্যাগকারীদের তিনি রক্তের সঙ্গে প্রতারণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিজের লেখা ওই ইশতেহারে ব্রেনটন জানিয়েছেন, তিনি নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিজের পরিবারের লোকজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই ইউরোপের মাটিতে সরাসরি অভিবাসীদের সংখ্যা কমাতেই তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। বন্দুক হামলার পর মসজিদ থেকে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। মসজিদের ভেতর কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পুলিশ এখনো হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। এ ঘটনাকে ‘গুরুতর ঘটনা’ উল্লেখ করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের হাসপাতাল ও সব স্কুলে যে যেভাবে আছে সেভাবেই ভেতরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের না হতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালানোর পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।

About The Author
salma akter
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment