Now Reading
ফেসবুক লাইভস্ট্রিমিং নিয়ে চলছে নানা তর্ক বিতর্ক



ফেসবুক লাইভস্ট্রিমিং নিয়ে চলছে নানা তর্ক বিতর্ক

যে কোনও ধারার উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী তৎপরতায় ইন্টারনেটের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রচারণাও নতুন নয়। তবে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলা বিশ্ববাসীর সামনে নতুন এক বাস্তবতা হাজির করেছে। এবার প্রথম কোনও একটি হামলার লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলার ১৭ মিনিট লাইভস্ট্রিমিং হাজির করেছেন বিশ্ববাসীর সামনে। সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ওই হামলার উদ্দেশ্যই ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাইভ সম্প্রচার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সন্ত্রাসী হামলাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উপযোগী করে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে সন্ত্রাসীদের মধ্যে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে সহযোগী মাধ্যম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অতীতের যে কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর থেকে ভয়াবহ আকারে হাজির হওয়া মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস ‘আমাক’ নামের ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করেই ইউরোপ পর্যন্ত তাদের ‘জিহাদি উন্মাদনা’ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। ২০১৩ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে ওয়েস্টগেট শপিং মলে হামলার কথা সরাসরি টুইটারে জানিয়েছিল আল শাবাব জঙ্গিরা। একটু পর পর হামলার বর্ণনা দিয়ে নতুন নতুন পোস্ট দিচ্ছিলো তারা। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্যারিসের পূর্বাঞ্চলীয় কোশের বাজারে চারজনকে গুলি করে হত্যা করে এক সন্ত্রাসী। মার্কিন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন, একটি গো প্রো ক্যামেরা দিয়ে ওই হামলার দৃশ্য রেকর্ড করা হয়েছিল। হামলাকারী ভিডিওটি ইমেইল করতে চেয়েছিল, তবে তার আগেই পুলিশের হাতে মৃত্যু হয় তার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দর্শক টানতে ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে সন্ত্রাসীরা। উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে প্রযুক্তিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ হয়ে বিশ্বের প্রযুক্তি শিল্পকে সহযোগিতায় কাজ করে টেক অ্যাগেইন্সট টেরোরিজম। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অ্যাডাম হ্যাডলি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ হলো রাজনৈতিক সহিংসতা। সেকারণে রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রভাবিত করতে সন্ত্রাসীদের সবসময় প্রচারণার রাস্তা খুঁজতে হয়।’ হ্যাডলি আরও বলেন, ‘তারা (জঙ্গিরা) দর্শক চায়। যেখানে বেশি দর্শক পাওয়া যাবে সেখানেই সবসময় যাবে তারা। এটা হতে পারে তথাকথিত কোনও মিডিয়া, আবার তা বড় মাত্রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মও হতে পারে।’

সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিপুল সংখ্যক দর্শকের সামনে সন্ত্রাসী হামলা সরাসরি সম্প্রচার করার উদ্দেশ্য হলো অন্যদেরকে হামলায় উদ্বুদ্ধ করা ও নিয়োজিত করা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক স্টিভ গোমেজ বলেন, ‘এ ব্যক্তি তার অপরাধকে প্রচার করার এবং অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে। সোশ্যাল মিডিয়া হলো অন্যদেরকে এবং বিশ্বকে বার্তা দেওয়ার মাধ্যম।’

About The Author
salma akter
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment