Now Reading
অনেকে খুশি হবে আমার অবসরে



অনেকে খুশি হবে আমার অবসরে

৭৫ ম্যাচে গায়ে উঠেছে বিখ্যাত আকাশি-সাদা জার্সি, তাতে করেছেন ৩১ গোল। কিন্তু কী আশ্চর্য, যে তিনটি ‘গোল’ করতে পারেননি—সেগুলো নিয়েই যাবতীয় আলোচনা; বলা ভালো সমালোচনা। আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার তিন ট্রফি যে জিততে দেয়নি সে তিন ফাইনালে গনসালো হিগুয়াইনের তিন মিস!
প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হয়েও ওই তিন মিসের কারণে সমর্থকদের চক্ষুশূল এই আর্জেন্টাইন। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের জার্সি আর গায়ে ওঠেনি। কাল তো ৩১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাই দেন হিগুয়াইন। সে ঘোষণাতেও ওই মিসগুলোর উল্লেখ করে হৃদয়ের রক্তক্ষরণটা বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘লোকে শুধু আমার মিসগুলোই মনে রেখেছে। ভুলে গেছে গোলগুলোর কথা। কিন্তু আমি তো নিশ্চিত, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ওই গোলটি সবাই উল্লাসের সঙ্গেই উদ্‌যাপন করেছেন।’
যে গোলের কথা বলেছেন হিগুয়াইন, সেটি ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। তাঁর জয়সূচক গোলেই ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। এমন আনন্দের উপলক্ষ জাতীয় দলকে এনে দিয়েছেন অনেকবার। ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ভীষণ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে যেমন কোচ ম্যারাডোনার জাতীয় দলে অভিষেক করান তাঁর। পেরুর বিপক্ষে ওই বাঁচা-মরার ম্যাচে গোলে শুরু হিগুয়াইনের। ২০১০ বিশ্বকাপে করেন হ্যাটট্রিক; বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে যে কীর্তি আর মাত্র দুজনের—গিলেরমো স্তাবিল ও বাতিস্তুতা।
জাতীয় দলের হয়ে ৩১ গোল তাঁর। কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৫, ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে গোলের সহজতম সুযোগগুলো মিস করাটাই হয়ে আছে যেন এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচক। এ কারণেই বিদায়বেলায় বিষণ্ন এই ফরোয়ার্ড যেন কিছুটা ক্ষুব্ধও, ‘অনেকে এখন আনন্দিত হবেন যে, আমি অবসর নিচ্ছি। সমালোচকরা এখন নতুন কাউকে টার্গেট করবেন। কেননা, আমি জানি অনেকেই আছেন যাঁরা সমর্থন করার চেয়ে সমালোচনা করতেই পছন্দ করেন বেশি।’
বয়স মোটে ৩১ বছর। জুভেন্টাস থেকে এখন ধারে চেলসিতে খেলা এই ফরোয়ার্ডের ক্লাব ক্যারিয়ারে বেশ কিছুটা সময় সামনে পড়ে আছে নিশ্চিত। আর জাতীয় দলকে বিদায় বলায় পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার কারণই উল্লেখ করেন হিগুয়াইন, ‘আমি এখন পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চাই। কন্যার সঙ্গে সময় কাটাতে চাই আরো। তার ওপর মনে করি, দেশকে আমার পক্ষে যা দেওয়া সম্ভব ছিল, সব দিয়েছি।’ এএফপি

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment