Now Reading
সফল হওয়ার উপায়



সফল হওয়ার উপায়

জীবনে উন্নতি করার জন্য প্রত্যেক মানুষের একটা লক্ষ্য থাকা আবশ্যক। সে লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে মানুষের চিন্তা ভাবনা স্বপ্ন এসব লেগেই থাকে। মানুষের জীবনে স্বপ্ন থাকবে। স্বপ্ন আছে বলেই হইতো আমরা মানুষরা বেঁচে আছি। স্বপ্নবাজ মানুষদের কেউ জীবনে ব্যর্থ হয়েছে তার কোনো নজির নেই। চলার পথে ব্যর্থতা থাকতেই পারে, আর থাকাটা অস্বাভাবিক কিছুনা। কিন্তু তা ব্যর্থতা ভাবলে চলবে না। সেটা একটা অভিজ্ঞতা। অনেক বড় অভিজ্ঞতা। সফল হওয়ার জন্য এ ধরনের অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অপরিসীম। ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা যার যত বেশি, সফলতার সাগর পাড়ি দেওয়া তার জন্য ততটাই সহজ।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এপিজে আবদুল কালাম, তিনি ছিলেন স্বপ্নবাজ মানুষদের মধ্যে একজন। তিনি স্বপ্ন দেখতে ভালবাসতেন ছোটবেলা থেকে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকতেন। ছোটবেলায় তাঁর এক স্কুল শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডে পাখি এঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই পাখির মতো উড়তে পারবে?
প্রশ্নটা উনি আমলে নিলেন, পাখির মতো উড়ার একটা চিন্তা ভাবনা তিনি করেই ফেললেন। তিনি ভাবলেন, পাইলট হতে হবে আমাকে। পাইলট হওয়ার জন্য যা যা করতে হয়, তিনি সেভাবেই নিজেকে তৈরি করলেন। পরীক্ষায়ও অংশ নিলেন। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারলেন না। তাই বলে স্বপ্ন দেখা থেকে বিরত থাকেননি তিনি। একটা সময় তিনি হয়ে গেলেন রকেট বিজ্ঞানী। বিমান প্রকৌশলে লেখাপড়া করে তিনি মহাকাশযান তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ভারতে মিসাইলম্যান হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। একটা সময় ভারতের রাষ্ট্রপতির আসনটাও নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ছিলেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। স্বপ্নবাজ মানুষদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তাঁর জন্ম ইতিহাস কারো অজনা নয়। তার বাবা ছিলেন কেনিয়ান মুসলিম। মা ছিলেন খ্রিস্টান। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে ওবামার জন্ম হয়। জন্মের প্রায় দুই বছরের মধ্যে ওবামার মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। পরে তার মা বিয়ে করেন এক ইন্দোনেশীয় নাগরিককে। বারাক ওবামা মায়ের সঙ্গে সেখানে চলে যান। দশ বছর পর তিনি দাদা-দাদির কাছে চলে আসেন। কঠিন জীবন অতিক্রম করতে হয়েছে তাকে। অত্যন্ত মেধাবী ওবামা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। পরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি উঠে আসেন রাজনীতির শীর্ষ অবস্থানে। তার অভূতপূর্ব বক্তব্য আমেরিকানদের আকৃষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো এমন একটা দেশে তিনি টানা দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আমরা বলতে পারি তিনি একজন সফল মানুষ। কিন্তু তাঁর অতীতটা চিন্তা করলে মনে হয় যেন উনার জন্য এসব কখনো সম্ভব ছিল না। এসব কিছু স্বপ্নের মত ছিল।

চীনের একজন সফল ব্যবসায়ী যার কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন জ্যাক মা। জ্যাক মা পশ্চিম চীনের হোয়াং ঝু প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তিন সন্তানের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয়। তাদের আর্থিক অবস্থাও ছিল নড়েবড়ে। লেখাপড়ায় তেমন ভালো ছিলেন না জ্যাক মা। কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় পর পর দুইবার ফেল করে তৃতীয়বার সফল হন তিনি। একটা সময় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শুরুতে তিনি চাকরির জন্য চেষ্টা করেন। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি যখন পুলিশের চাকরির জন্য আবেদন করলাম, তখন ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের চাকরি হলো। আমাকে বলা হলো, তুমি উপযুক্ত নও। আমার শহরে যখন কেএফসি আসলো, আমরা ২৪ জন চাকরির জন্য আবেদন করলাম। ২৩ জনের হলো, আমি বাদ পড়লাম। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে আমি দশবার আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। তারপর চিন্তা করলাম, হয়তো আমি একদিন হার্ভার্ডে লেকচার দেব। ঠিক তাই হয়েছিল।
বারংবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া স্বত্বেও হাল ছারলেন না জ্যাক মা। ১৯৯৫ সালে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার জোগাড় করে একটা ব্যবসা শুরু করেন। খুব ধীরে ধীরে ব্যবসায় তার সাফল্য আসতে শুরু করল। ১৯৯৯ সালে তিনি এবং তার ১৮ জন বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করলেন অনলাইন পাইকারি কেনাবেচার সাইট আলিবাবা। সেই আলিবাবা এখন কত বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে সেইটা কারো অজনা থাকার কথা নয়। এখন তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জ্যাক মার উত্থানের ইতিহাস পড়লেই অনুভব করা যায় সাধনা কাকে বলে। বার বার ব্যর্থ হয়েও যে হাল ছাড়েননি, ব্যর্থতা হচ্ছে সফলতার উপরে উঠার একটি সিঁড়ি। ব্যর্থ হয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যাবে, সেইটা অন্য কোনভাবে অর্জন করা সম্ভব না। ব্যর্থতা সফলতার আনার এক অদ্ভুত মাধ্যম। ব্যর্থতা মানুষকে কতটা উপরে উঠাতে পারে তার স্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে জ্যাক মা। একাধিক বার ব্যর্থ হওয়ার পরেও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথচলা থামিয়ে রাখেননি তিনি। একটুও হতাশ হননি। অবশেষে সাফল্য এসে ধরা দিয়েছে তাঁকে। স্বপ্ন সেইটা নয়, যেইটা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, বরং স্বপ্ন হচ্ছে সেইটা, যা তোমাকে ঘুমাতে দেই না। কাজেই শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। স্বপ্ন পূরণ করার জন্য লেগেই থাকতে হবে। স্বপ্ন পূরণ করতে গেলে বাঁধা, ব্যর্থতা আসবে, তাই বলে থেমে থাকা যাবে না। মানসিক ভাবে নিজেকে শক্ত করে তুলতে হবে। এবং মানসিক শক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে। পরিশ্রম করলে সফলতা আপনার পিছনে দৌড়াবে, আপনি সফলতা খোঁজা লাগবে না। পরিশ্রম করুন, সফলতা আপনাকে খুঁজে নিবে। ব্যর্থ হওয়ার অনেক উপায় আছে, কিন্তু সফল হওয়ার উপায় একটাই। আর সেইটা হচ্ছে পরিশ্রম।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment