Now Reading
বালিশ কেলেঙ্কারি!



বালিশ কেলেঙ্কারি!

‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: কেনাকাটায় অভিনব দুর্নীতি’।

সম্প্রতি এই কেলেঙ্কারির মূল হোতা চিহ্নিত হয়েছে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে , যিনি ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৌশলী এবং ছিলেন ছাত্রদলের নেতা।

৩০টি চাদর আনতে একটা ট্রাক ভাড়া করতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। আবার কম্বল বা লেপ আনার জন্য দরকার হয়েছে আরও ট্রাক, সেটার খরচ দেখানো হয়েছে আরও ৩০ হাজার টাকা। আবার প্রতিটি চাদর নিচ থেকে খাটে তোলার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। একটা চাদর ঘরে নিতে খরচ দেড়-দুই মণ ধানের দাম। ও বাংলার বোকা কৃষক, তুমি দেড় মণ ধান বানাতে কত মাস ধরে তোমার জীবনের সমান দামি জমিতে কী আয়ুধ্বংসী পরিশ্রম করো, তার বদলে একটা চাদর নিচতলা থেকে দোতলা-তিনতলা পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিলেই তো সমপরিমাণ টাকা অর্জন করতে পারতে!

বালিশ কেলেঙ্কারি তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটো কমিটি গঠন করেছে। একজন প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে যিনি ছিলেন অত্তপ্রত ভাবে ছাত্রদলের সাথে জড়িত । বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করাটই যেনো ছীলো মূল ঊদ্দেশ্য ।

একজন আমাকে বললেন, ভাই, আপনারা বালিশের দাম, চাদরের দাম জানেন। তাই আপনারা ফেসবুকে শোর তুলেছেন। কিন্তু এই চাদরের স্পেসিফিকেশনে যদি বলা হতো, কোয়ান্টাম চাদর, রেডিয়াম বালিশ, লিথিয়াম সোফা, তখন কী করতেন? ফিরতি জবাবে বললাম কোণো ভাবেই এই বিলাশবহুল চাদর বালিশ আয়োজন এর প্রয় প্রয়োজন নেই । কারন দিন শেষে কর্মচারীরা , ক্লায়েণ্টেরা ঘুমোবেই শুধু ,হাণীমূণ ন্য় ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প খুবই স্পর্শকাতর, সন্দেহ নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় স্পর্শকাতরতা এর নিরাপত্তা বিষয়ে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা রাশিয়ায় চেরনোবিল হয়েছে, জাপানে ফুকুশিমার দাইচিতে হয়েছে, আমেরিকায় থ্রি মাইল আইল্যান্ডে হয়েছে। কাজেই এটার নিরাপত্তার ব্যাপারটিতেই গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশি। যদিও পৃথিবী থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র.আস্তে আস্তে কমিয়ে ফেলা হচ্ছে, বহু দেশ এখান থেকে সরে আসছে। নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকেই যায়। কাজেই রূপপুর প্রকল্পকে শত ভাগ নিরাপদ করতে হবে। এই প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই।

দুই হাজার বছর আগে একজন প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রকার ঋষি, যাকে পাঁচ সহস্রাধিক বছরব্যাপী প্রবহমান হিন্দুশাস্ত্রমালার নেতৃস্থানীয় ও বিস্তৃতপ্রভাবক মনুসংহিতার রচয়িতা হিসেবে পাওয়া যায় । মন্যু নামে বিখ্যাত এই প্রাচীণ ব্যাক্তি উক্তি দিয়ে গিয়েছিলেন – প্রজাদের রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে রাজা যাঁদের নিয়োগ করেন, তাঁরাই ভণ্ডামি করে অন্যদের সম্পত্তি গ্রাস করে এবং রাজাকে এ ধরনের কর্মকর্তাদের হাত থেকে প্রজাদের রক্ষা করতে হবে। রাজার দায়িত্ব হলো যেসব দুষ্ট লোক মামলার বিভিন্ন পক্ষ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে, তাদের নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া এবং তাদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।’

সরকার মনুর এই পরামর্শ গ্রহণ করে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ গুনার মিরডালের উনার এক বইয়ে লিখেছিলেন

১. দুর্নীতি রাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে। রাজস্ব আয় কমে যায়।

২. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজে পরিবেশ ধ্বংস হয়।

৩. দুর্নীতির ধকলটা যায় দরিদ্র শ্রেণির ওপর দিয়ে। ওপরের তলার মানুষ ঘুষ-দুর্নীতি করে পার পায়। স্টিমরোলারের নিচে পড়ে গরিব

৪. দুর্নীতি বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

সর্বশেষ কথায় আসি , আমরা কেনো ভূলে যাই বহির্বিস্ব থেকে আমরা কতগুলো বছর পিছিয়ে আছি! আমরা কেনো ভূলে যাই ৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত লুন্ঠনের কথা । কেনো ভুলে যাই কতোটা ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে এই দেশের মানচিত্র অর্জিত । চাইলেই পারতাম আরো বহূবছর আগে নিজেদেরকে বিশ্বের বুকে স্বসম্মানে দাড় কড়াতে । কিন্তু পারিনি কেন ? কারন রাজনীতির প্রহোসন , দুর্নীতির লোভ । আমাদের চিন্তা চেতনা আজো ব্যাক্তিস্বার্থে হয় । স্বার্থের কাছে আমরা আমাদের দেশ কে মুল্যহীণ করে ফেলছি !

সরকারী দল – বিরোধী দল দুনিয়ার প্রতিটি রাষ্ট্রই চলমান । তাই বলে নিজের উন্নতিকে বিফল করার চেষ্টা খূব কম দেশই হয়তো করে থাকে । দুর্ভাগ্য আমাদের অনেকাংশিক লোকেরাই সেই নিতীতে বিশ্বাসী ণা ।।

কথায় আছে দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ । এই দেশে দশে মিলে কাজ ঠিকীই করবে তবে ৫ জন যদি এগিয়ে যায় আরো ৫ জন পিছনে ঠেলে নিবে । দেশের স্বার্থে আমাদের বদলাতে হবে মণোভাব , চিন্তা হতে হবে দূরদর্শি যেথায় থাকবে পজিটিভ ভাইব । বালিশ কেলেঙ্কারি মত দূর্নিতি করা ব্যাক্তি দের প্রত্যাহার করা অব্যাহত থাকুক । ভালো থাকুক বাংলাদেশ ।

About The Author
Raihan Yasir
Raihan Yasir
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment