Now Reading
পৃথিবী সম্পর্কে অজনা কিছু তথ্য



পৃথিবী সম্পর্কে অজনা কিছু তথ্য

পৃথিবী হলো সোলার সিস্টেমের একমাত্র প্ল্যানেট। পৃথিবী হচ্ছে মানুষ সহ কোটি কোটি প্রজাতির আবাস্থল। যেখানে অনেক প্রাণীর জীবন বিদ্যমান। আমরা পৃথিবীতে থাকলেও পৃথিবী সম্পর্কে এমন কিছু মজাদার তথ্য আছে যেগুলো আমরা জানিনা। অর্থাৎ আমাদের অজানা। আপনি কি জানেন আমাদের পৃথিবীর বয়স হলো ৪.৫৪৩ বিলিয়ান ইয়ার্স। অর্থাৎ ৪৫৪ কোটি বছর। এখন আপনার মাথায় একটা প্রশ্ন নিঃসন্দেহে আসতে পারে যে, পৃথিবীর এই বয়স বিজ্ঞানীরা কীভাবে হিসাব করল? এর উত্তরে যদি কিছু বলতে হয়, তাহলে রেডিও মেট্রিক ডেটিং টেকনোলজীর কথা বলতে হবে। এই টেকনিকের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কোন পাথর বা কোন মাটিকে পরীক্ষা করে তার বয়স বের করতে পারে এবং পৃথিবীর বয়সটাও এভাবে বের করছে বিজ্ঞানীরা।
আমারা অধিকাংশ মানুষেই জানি পৃথিবীর গড়তাপমাত্রা হলো ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কিন্তু পৃথিবীতে এমনও কিছু জায়গা আছে যেখানে তাপমাত্রার পরিমাণ অনেক বেশী। যেমন ১০ জুলাই ১৯১৩ যুক্তরাষ্ট্রে পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা ছিল ৫৬.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর যদি পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার কথা বলতে হয় তাহলে সেইটি হল – (মাইনাস) ৮৯.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছিল। যা অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত। প্রাচীন যুগের বিজ্ঞানীরা মনে করতেন সকল প্ল্যানেট এমন কি সূর্যও পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। আর এই মডেলটিকে বলা হয় জিয়োসেন্ট্রিকমডেল। একসময় হেলিওসেন্ট্রিকমডেলটি আবিষ্কার হয়। হেলিওসেন্ট্রিক এর মতে সূর্য স্থীর এবং সূর্য নয় বরং পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। আর যেমনটা আমরা আগে থেকে জানি যে জিয়োসেন্ট্রিকমডেলটা ভুল এবং হেলিওসেন্ট্রিকমডেলটা সত্য।
পৃথিবীর ঘূর্ণক ধীরে ধীরে কমতেছে অর্থাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণকের গতিবেগ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এই কথাটি শুনে আপনার কিছুটা ভয় লাগলেও এটাই সত্যি যে, পৃথিবীর এই ঘূর্ণকের গতিবেগ ১৭ মিলি সেকেন্ড প্রতি ১০০ বছরে কমে চলেছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে পৃথিবীর এই ঘূর্ণকের গতিবেগ কেন কমতে চলেছে? আসলে আমাদের চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রতি বছর ৩.৭৮ সে.মি. দূরে সরে যাচ্ছে। আর শুধুমাত্র এ কারণেই পৃথিবীর ঘূর্ণকের গতিবেগ ধীরে ধীরে কমে চলছে। ৩.৭৮ সে.মি. প্রতি বছর, এই সংখ্যাটা হইতো খুব বেশি বড় মনে হচ্ছে না, তাহলে জেনে নিন, যখন আমাদের সৌর মন্ডলে পৃথিবী এবং চাঁদ তৈরি হয়েছিল, তখন পৃথিবীর একদিন ছিল প্রায় ৬ ঘন্টার মত কিন্ত ৪৫৪ কোটি বছর পর চাঁদের ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার কারণে পৃথিবীতে একদিন সমান ২৪ ঘন্টা হয়েছে। আর যদি আমরা ভবিষ্যতের কথা বলতে যায় তাহলে আজ থেকে ১৪ কোটি বছর পর পৃথিবীতে একদিন সমান হবে প্রায় ২৫ ঘন্টা।
আমরা সবাই জানি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে। কিন্তু আমারা কয়জনেই বা জানি এই ঘুরার গতিবেক কত? আসলে এই ঘুরার গতিবেক হলো ৩০ কি. মি. প্রতি সেকেন্ড। আর মজার কথা হলো পৃথিবী শুধু একা নয়, পৃথিবী তার সাথে সাথে আমাকে আপনাকেও ঘুরাচ্ছে। অর্থাৎ আমি আপনিও প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কি.মি ঘুরছি। কিন্তু এটাও সত্য যে, আমরা এই জিনিসটা অনুভব করতে পারছিনা।
পৃথিবীর ৭০ ভাগ জুড়ে রয়েছে সমুদ্র। যে সমুদ্রের ৯৫ শতাংশ সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল না। বিজ্ঞানীদের মতে অনাবিষ্কৃত এই সমুদ্রে প্রায় ১০ লাখ প্রাণের বসবাস থাকতে পারে। যা আমাদের অজনা। পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যা আমাদের জানার বাহিরে। কারণ পৃথিবীর অনেক গভীর রহস্য কখনো মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment