Now Reading
কোথায় হারিয়েছে পৃথিবীর সবথেকে চর্চিত বিমান MH370 ?



কোথায় হারিয়েছে পৃথিবীর সবথেকে চর্চিত বিমান MH370 ?

আমরা সবাই অমীমাংসিত রহস্য পছন্দ করি। যেমন ধরুন… পিরামিড তৈরিতে কারা সাহয্য করেছিল? সত্যি কি আটলান্টিকের নিচে গোটা শহর রয়েছে? ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এসব রহস্য পছন্দ করার পিছনে রয়েছে আমাদের ব্রেইন। যা রহস্য ভেদের উদ্যেশ্যে কাজ করতে ভালবাসে। তেমনি একটি রহস্যময় ঘটনা হচ্ছে MH370 বিমান। কোথায় হারিয়ে গেছে পৃথিবীর সবথেকে চর্চিত বিমান MH370? রহস্য শুরু করার আগে জানা যাক ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি। ৮ই মার্চ ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি প্লেন MH370 আকাশে উড়তে উড়তে হারিয়ে যায়। বর্তমান সময়ে কোটি কোটি সিসি টিভি ক্যামেরা স্যাটেলাইট থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে এসেও যার খুঁজ মিলেনি। এটা অসম্ভব যে এত বড় বস্তু নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে। এখানে তৈরি হয় রহস্য। কেউ কেউ মানে প্লেনটি হাইজাক হয়েছে, কেউ মনে করে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, কেউ কেউ তো একটু বাড়িয়ে এলিয়েনকে যুক্ত করেছে এই প্লেনের সাথে। অনেক মানুষের কাছে এই ঘটনাটি একুশ শতকের মাঝে সবচেয়ে বড় রহস্যময় ঘটনা। প্লেনটির সাথে ঘটা ঘটনার অনেক থিওরি প্রকাশ হয়েছে। আমরা সবথেকে চর্চিত এবং বিশ্বাসযোগ্য থিওরি গুলো সম্পর্কে জেনে নিব। ৮ই মার্চ ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ান কলালামপুর ইন্টারন্যাশানাল এয়ারপোর্ট থেকে MH370 উড়ান দেয়। চায়নার রাজধানী বেইজিং এয়ারপোর্টের উদ্যেশ্যে। প্লেনটিতে ছিল ১৫টি দেশের ২২৭ জন যাত্রি। সাধারণত কলালামপুর থেকে বেইজিং হাওয়ায় যাত্রা ৬ ঘন্টার হয়ে থাকে। প্লেন্টির ক্ষেত্রেও যাত্রার সময় নির্ধারণ করা ছিল সাড়ে পাঁচ ঘন্টা থেকেও একটু বেশি সময়। রাত ঠিক ১২:৪০ মিনিটে প্লেনটি কলালামপুর এয়ারপোর্ট থেকে টেক অফ করে। প্লেনটি মালয়েশিয়ান দ্বীপের উপর দিয়ে নর্থ ইস্টের দিকে যাচ্ছিল। টেক অফের ঠিক ৪০ মিনিট যাত্রা করার পর এটি মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের সীমানাকে অতিক্রম করে সাউথ চায়ানা সি তে প্রবেশ করে। ততক্ষন প্ল্যানটির সাথে ট্রাপিক কন্ট্রোল রাইডারের সংযোগ থাকলেও এরপর হঠাৎ সব সংযোগ হারিয়ে পেলে এবং ১৫ দেশের ২২৭ জন যাত্রী এবং ২২জন ক্রু সহ বড় মাপের প্লেন MH370 নিঃশব্দে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি গোটা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সকে ভিষন চিন্তিত করে সেসময়। তারা অতিশীগ্রয় একটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করে। কিন্তু প্লেন ক্র্যাশের তদন্তকারী দল MH370 কোন সূত্রই খুঁজে পাই না। অতিশীগ্রয় প্লেনটি পৃথিবীর শিরোনামে চলে আসে। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের কাছে উত্তরের প্রত্যাশা করে। এমন চাপে পরে অনেক অর্থ খরচ করে এই এয়ারলাইন্স পরের দিন সকালে প্লেনটিকে খুজে বের করার জন্য একটি মাল্টিন্যাশেনার সার্চ অপারেশন শুরু করে। যেটিতে ৬৪ এয়ারক্রাফট এবং ৬৯টি সামুদ্রিক জাহাজ শামিল হয়। যারা সম্পূর্ণ উত্তর চীন সাগরে খুঁজ চালায়। কারণ তদন্তকারীদের আশা ছিল যদি বিমানটি দূর্ঘটনাবশত সমুদ্রে পরে থাকে তবে তার ধ্বংসাবশেষ অবশ্যই সমুদ্রে পাওয়া যাবে। কিন্তু অনবরত খুঁজার পরেও সাউথ চায়না সি তে MH370 এর কোন কিছুই পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা হার না মেনে অব্যন্তরিন তদন্ত পূনরায় শুরু করে। তারা তিনদিন পর জানতে পারে ট্রাফিক কন্ট্রোল রাইডার থেকে প্লেনটি সম্পর্কচ্যুত হলেও সেইটি মালয়েশিয়ান মেলেটারি রাইডারে ধরা পরেছিল। সেখানে দেখা যায় প্লেনটি সাউথ চায়না সি থেকে বেইজিং এর উদ্যেশ্যে যাত্রা না করে দিক পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ান দ্বীপের উপর দিয়ে উত্তর পশ্চিমে আন্দামান সাগরের উপর আরো ১৫০ মাইল আগে থাইল্যান্ডের আকাশে উড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সেখানে মালয়েশিয়া মিলিটারি রাইডার প্লেনটি থেকে সম্পর্ক হারায়। বলতে গেলে সারা বিশ্ব থেকে প্লেনটি সম্পর্ক হারায় সেখানে। এই সংবাদ তদন্তকারীদের সন্দেহ এবং কাজ দুটোই বাড়ায়। কারণ তারপরে টানা ৬দিন সার্চ মিশন চলে, কিন্তু ফল হয় শূণ্য। এমতাবস্থায় যে প্রশ্নটি তদন্তকারীদের কাছে উঠে আসে সেইটি হল প্লেনটি কি কারণে নিজের দিক পরিবর্তন করল, বা কি কারণে প্লেনটি রাইডারের বাহিরে চলে গেল? কারণ সাধারণত কোন প্লেন অল্প সময়ের জন্য রাইডারের বাহিরে যেতে পারে। একেবারে প্লেনের কন্টাক্ট বন্ধ করতে পারে প্লেনের পাইলট। নতুন করে প্রশ্ন উঠে, তবে কেন পাইলট সেইটা করবে? তবে কি প্লেনটি হাইজেন হয়েছিল এবং পাইলটেকে বাধ্য করা হয়েছিল এটার করার জন্য? ঠিক ঐ সময় একটি সূত্র খুঁজে পায় তদন্তকারীরা। ঐ প্লেনের দুই জন যাত্রী নকল পাসপোর্টের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করছিল। যারা দুইজনেই ছিল চায়নার বাসিন্দা। তাদের সম্পর্কে সার্চ করা হয়, তারা কোন ট্যারোরিস্ট কি না, কিন্তু এটা প্রামাণ হয় যে, তারা কোন ট্যারোরিস্ট গ্রুপের সাথে যুক্ত নয় এবং তাদের অতিতে কোন বাজে রেকর্ডও ছিল না। পাইলটেরও কোন সম্পর্ক ছিল না তেমন সংগঠনের সাথে। এমন সময় তদন্তকারীরা বিমানে নিয়ে যাওয়া দ্রব্যের লিস্ট চেক করে, তারা এমন একটি দ্রব্য পায় যা এই রহস্যকে ভেদ করে দিতে পারতো। বিমানে ৪০০ পাউন্ড লিথিয়াম ব্যাটারির পেকেট ছিল। যা একটি ভয়ানক বিষ্পোরণ ঘটাতে পারতো। অনেকে অনুমান করেন ইলেক্ট্রিক সংযোগ এবং লিথিয়ামের প্রভাবে প্লেনটি ধ্বংস হয়। কিন্তু পৃথিবীব্যাপি সার্চ মিশনে যখন প্লেনটির কোন কিছু উদ্ধার হয়নি, তখন এই অনুমানকে ভুল মানতেই হয়। তাহলে কোথায় গিয়েছিল প্লেনটি?

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment