Now Reading
২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের জন্য কী কী অপেক্ষা করছে



২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের জন্য কী কী অপেক্ষা করছে

একটু ভেবে বলুনতো ১৯৭০ বা ১৯৮০ সালের মানুষরা কি কল্পনা করতে পেরে ছিল, মানুষ পৃথিবীর এক স্থান থেকে আর এক স্থানে এক মুহূর্তেই রিয়েল টাইম কথোপকথন করতে পারবে। কিন্তু এটা এখন সম্ভব। এই রকম অনেক কিছুই সম্ভব যা মানুষ আগে কল্পনাও করতে পারেনি। বিজ্ঞান দিন দিন উন্নতি হচ্ছে আর নতুন নতুন আবিস্কারের ফলে মানুষের জীবন যাত্রার মানও উন্নতি হচ্ছে। আর মানুষ যা কিছু বছর আগেও কল্পনা করেত পারেনি তা এখন বাস্তবে দেখছে। প্রতিনিয়তিই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণার কাজ করে চলেছে আর নতুন কিছুনা কিছু আবিষ্কার করে চলেছে। আমাদের পূর্ব পুরুষরা যা দেখেনি বা করতে পারেনি এমন অনেক কিছুই বর্তমানে আমরা দেখছি বা করেছি। হয়ত আমরা আজ যা কল্পনাও করতে পারছিনা, তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাস্তবে দেখবে বা রুপ দিবে। আজ আমরা আলোচনা করবো আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে আমরা কি কি নতুন আবিষ্কার দেখবো বা যা আমরা অনেকই কল্পনাও করি না কিন্তু বাস্তবে হয়তো দেখবো।

প্রথমেই আসি বিল্ডিং এর কথায়, বর্তমান উন্নত দেশ গুলোর মধ্যে চলছে একটা প্রতিযোগিতা। সেটা হল কে কার থেকে বেশি উঁচু বিল্ডিং নির্মাণ করতে পারে। আর এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিল্ডিং হচ্ছে বুরজ খলীফা। এটি ইউনাইটেড আরব আমিরাতের অবস্থিত। যার উচ্চতা ৮২৮ মিটার। কিন্তু ২০২০ সালে এই বিল্ডিং আর প্রথম স্থানে থাকবে না। কারন সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালে জেদ্দা টাওয়ারের কাজ সম্পূর্ণ হবে। আর জেদ্দা টাওয়ারের উচ্চতা হবে ১০০০ মিটার, যার মানে হল পুরো এক কিলোমিটার। তখন সৌদি আরবের জেদ্দা টাওয়ার হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিল্ডিং এবং বুরজ খলীফা হবে দ্বিতীয়।

মহাশূরনে হোটেলের কথা আমরা অনেকেই চিন্তা করতে পারি না, কিন্তু ২০২১ সালেই আমরা পাবো মহাশূরনে স্পেস হোটেল । Bigelow aerospace নামে একটি কোম্পানী এইটি launch করতে যাচ্ছে। ২০২১ সালে এই কোম্পানী মহাকাশে একটি স্পেস launch করতে যাচ্ছে, আর এই স্পেসটির নাম দিয়েছে তারা স্পেস হোটেল। এবং তারা দাবি করছে এটিই হবে মহাকাশের প্রথম স্পেস হোটেল। স্পেস হোটেলের মত আগেও এই ধরনের প্রজেক্ট করা হয়েছে। এবং পরিকল্পনাগুলো সফলও হয়েছিল। ISS ইন্টারন্যাশনাল স্পেস ষ্টেশনের কর্মীরা ইতি মধ্যেই এই ধরনের একটি এয়ার ক্রাফটকে তাদের স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করছে।

এরপর ২০২৪ সালে স্পেস এক্স রকেট যাবে মঙ্গল গ্রহে। স্পেস এক্স বর্তমানে বিশ্বে খুবই না করা একটি স্পেস এয়ার ক্র্যাফট কোম্পানি। এই কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ২০২৪ সালে তাদের একটি রকেট মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করবে। তাছাড়া মঙ্গল গ্রহে রকেট পাঠানোর পর, মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোরও পরিকল্পনা করছে তারা।

আমাদের বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বড় একটি সমস্যা। শুধু আমাদের দেশে নয় পুরো পৃথিবীতেই জনসংখ্যা একটি বড় সমস্যা। দিন দিন জনসংখ্যা এই পৃথিবীতে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই সমস্যার কোন সমাধান করা যাচ্ছেনা। যদি কোন অলৌকিক কিছু না হয় তাহলে আমার মনে হয় এই জনসংখ্যার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। united nation population fund এর এক জরীপে বলা হয়েছে ২০২৫ সালে পৃথিবীতে জনসংখ্যা হবে প্রায় ৯ বিলিয়ন। এবং ২০৫০ তা পৌঁছে যাবে প্রায় ১০ বিলিয়নেরও বেশি।

এরপর আসি কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন নিয়ে। হয়তো এর নাম অনেকই শুনেছেন বা অনেকেই শুনেননি। কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন বলতে এইখানে কোন জাদুকরী টেলিপোর্টেশন বা রহস্যময় কোন কিছুর কথা বলা হচ্ছে না, যেখানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কোন কিছু না ধরেই সরানো হয়। ২০৩৫ সালে কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন টেকনোলজি নিয়ে রিসার্চ করা হবে। এবং এর পরীক্ষা মূলক ব্যবহারও করা হবে। একটি নতুন রিলাইয়েবল যোগাযোগ পদ্ধতি তৈরি করার জন্য। এই সম্পূর্ণ টেকনোলজিটি সঠিকভাবে ইমপ্লিমেন্ট করতে পারলে , যোগাযোগ ব্যবস্থায় ও প্রযুক্ততে একটি যুগান্তকারী উন্নতি এনে দিতে পারে।

২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে অনেক বড় বড় বন্যা দেখা দিবে। দিন দিন সাগরে জলের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে পাঁচটি আইল্যান্ড পানির নীচে চলে গেছে। এবং আগামী ৩২ বছরের মধ্যে আরও দুইটি আইল্যান্ড পানির নীচে চলে যাওয়ার সম্ভববনা আছে।

রোবট এর কথা আমরা সবাই জানি। আগামী ৩২ বছরের মধ্যে রোবট অনেক বেশি উন্নত হয়ে যাবে। এবং এমন একটা সময় আসবে যখন অফিস আদালতে রোবট এর ব্যবহার অনেক বেড়ে যাবে। তখন বেশির ভাগ কাজ রোবটদের মাধ্যমেই করা হবে। আর তখন মানুষ বেকার হতে থাকবে। যার ফলে বেকারত্ব শুধু আমাদের দেশে নয় পুরো পৃথিবীতে বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment