Now Reading
চায়না সম্পর্কে অবাক করা কিছু তথ্য



চায়না সম্পর্কে অবাক করা কিছু তথ্য

চায়না এই পৃথিবীর সবচাইতে বেশি প্রগতিশীল দেশ। টেকনোলজির দিক দিয়ে চীন অনেক বেশি এগিয়ে আছে। এমন কি চীনের সৈন্যদল এই পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তর সেনাবাহিনী। তবে চায়নার মানুষদের বিশেষ খাদ্য, সেখানকার মেয়েদের বিয়ের আগে ভার্জিনিটি রিস্টোরেশন এবং চায়নার ভয়ংকর পলিউশনের মত দেশটি সম্পর্কে অদ্ভুত ও অজনা তথ্য গুলো জানতে সম্পূর্ণ আরটিক্যালটা পড়ুন।

চায়না এই পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। ২০১৮ তে চায়নার জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪১ কোটিরও বেশি। বিপুল এই জনসংখ্যা ব্যলেন্সে আনার জন্য দেশিটিতে ওয়ান চাল পলিসি চলে। যার কারণে এই দেশে এবরশনের হার অনেক বেশি। দেশটিতে বিপুল পরিমাণ জেন্ডার ইনব্যলেন্স দেখা যায়। যেখানে প্রতি ১২০ জন ছেলের জন্য মাত্র ১০০জন মেয়ে আছে আর ধারণা করা হচ্ছে ২০১০ এ প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি চায়নিজ ছেলেরা বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুঁজে পাবে না। চায়নার ধনী ক্রিমিনালরা প্রচুর পরিমাণ টাকা দিয়ে নিজের পরিবর্তে অন্য একজনকে নিজের শাস্তি ভোগ করার জন্য জেলে পাঠাতে পারে। অনেকটা আয়নাবাজি মুভির কনসেপ্ট। চায়নার অনেক মেয়ে বিয়ের আগে ভার্জিনিটি রিস্টোরেশন সার্জারি করাতে হাজার হাজার ডলার খরচ করে দেয়। যেন তারা তাদের বিয়ের প্রথম রাতে ভার্জিন থাকে। চায়নাতে যে সকল মেয়েদের ২৭ বছরের মধ্যে বিয়ে হয় না, তাদেরকে নিন্দা করে চায়নিজ সমাজ তাদেরকে অগানিঞ্চিত নারী বলে সম্মোধন করে। যা সত্যি লজ্জাজনক। তবে তীব্র প্রতিবাদ জানানো জন্য অনেক চায়নিজ মেয়ে স্বেচ্ছায় আজীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ১৯৭৩ সালে চায়না আমেরিকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রায় এক কোটি চায়নিজ মহিলাদারকে আমেরিকা পাঠানোর প্রস্তাব রেখেছিল। কিন্তু আমেরিকার সরকার তাতে রাজি হয়নি। চায়না

এই পৃথিবীর দ্বিতীয় সবচেয়ে বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ। এমন কি চায়নায় প্রোডাক্ট রপ্তানীর দিক দিয়ে এই পৃথিবীর শীর্ষে আছে। আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ জিনিস চায়না থেকে আমদানি করা হয়। চায়না এই পৃথিবীর সবচাইতে প্রগতিশীল দেশ। চায়নিজরা এই পৃথিবীতে অনেক অসাধারণ আবিষ্কার গুলো করেছে। যেমন চায়নাতে এই বিশ্বের প্রথম কাগজ, কম্পাস, গান পাউডার এমনকি আইসক্রিম আবিষ্কার করা হয়েছিল, শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্বপ্রথম কাগজের টাকা এক হাজার চারশ বছর আগে চায়নাতেই আবিষ্কার করা হয়। তাছাড়া আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে চীনে প্রথম বারের মত চা আবিষ্কার হয়েছিল।

 

আয়তনের দিক দিয়ে চায়না এই পৃথিবীতে চতুর্থ স্থানে আছে। এশিয়াতে প্রথম স্থানে আছে। চায়নার সেনাবাহিনী এই পৃথিবীতে বৃহত্তম সৈন্যদল। চায়নাতে সৈন্যদের কলারে সবসময় পিন লাগানো থাকে, যেন তারা তাদের ঘার সবসময় সোজা রাখাতে পারে এবং ডিউটিতে কখনো ঘুমিয়ে না পরে। ২০১০ সালে চায়নিজ মিলিটারিরা প্রায় ১০ হাজার কবুতরকে স্পেশাল ট্রেনিং দিয়েছে। কবুতরকে চায়নিজ মিলিটারিরা ব্যাকআপ কমিউনিকেশনের জন্য ব্যবহার করে। চায়নাতে যে পরিমাণ মোবাইল ফোন আছে, তা আমেরিকার জনসংখ্যা থেকেও বেশি। ২০০৯ সালে চায়নাতে ফেসবুক, টুইটার ও নিউ ইয়র্ক টাইম ভ্যান করা হয়েছে। সে দেশে ইন্টারনেট এডিক্টেট মানুষদের জন্য স্পেশাল ক্যাম্প আছে। চীনের প্রায় তিন কোটি মানুষ গোহায় বসবাস করে। ২০১০ সালে সাংহায় সিটিতে ১০০ কিলোমিটার লম্বা যানযট সৃষ্টি হয়েছিল।এটি দীর্ঘ ১২ দিন সেভাবেই ছিল। যানযট থেকে বাঁচার জন্য সে দেশে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেখান থেকে আপনি দুইজন কর্মকর্তাকে ভাড়া করতে পারবেন। যাদের থেকে একজন বাইকে করে আপনার গন্ত্যব্যে পৌঁছে দিবে। অন্যজন ট্রাফিক জ্যামে আপনার গাড়ি পাহাড়া দিবে এবং জ্যাম শেষ হলে আপনার গাড়ি আপনার বাসায় পৌঁছে দিবে। চায়নার সাংহায় সিটিতে লাল রঙের গাড়ি ভ্যান করা হয়েছে। ইন্টারনেটের পর্ণ ভিডিও গুলো ২৭ শতাংশ চায়নাতে বানানো হয়। চায়নিজ খেলনা বিভিন্ন রিসাইকেল পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়। যার মধ্যে ইউসড কন্ডম অন্যতম। ২০০৫ সালে উইকিপিডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীর সর্ববৃহত শপিংমল চায়নাতে অবস্থিত। সে দেশের মানুষেরা নিজের পোষা বিড়াল ও কুকুরদের বাগ, পান্ডা, জেব্রার মত পেইন্ট করায়। এটা সেখানকার ট্রেডিশন। চায়না এই বিশ্বের অন্যতম পলিওটেড দেশ। যে দেশে বেশির ভাগ নদীর পানি বিষাক্ত। যার কারণে দেশটির প্রায় ৭কোটি মানুষ দূষিত পানি পান করে। দেশটি এত বেশি পলিওটেড যে সেখানে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একটি বিকালঙ্গ শিশুর জন্ম হয়। অদ্ভুত হলেও সত্য চায়নাতে ক্যানের ভিতর বিশুদ্ধ বাতাশ বিক্রি করা হয়। তাও আবার বিভিন্ন ফ্লেভারে। চায়নাতে প্রতিদিন যে পরিমাণ আত্মহত্যা করে যে, সে দেশে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করার জন্য আলাদা চাকরির ব্যবস্থা আছে।

নিজেদের ব্যতিক্রম ধর্মী খাদ্যবাসের জন্য চায়না এই বিশ্বে বিপুল আলোচিত।এই মেনুতে আছে তেলাপোকা, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, এবং বিভিন্ন ধরনের পোকা এমন কি কুমিরও। প্রতিবছর সামারে চীনের একটি শহরে ডগমিট পেস্টিবল উৎযাপন করা হয়, যেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি কুকুর মাত্র পেস্টিবলের এই দশ দিনে খাওয়া হয়। সারাবিশ্বে ডিম পানিতে সিদ্ধ করা হলেও চীনে ছোট শিশুদের মুত্র দিয়ে সিদ্ধ করা হয়, কারণ তারা মনে করে এটি খেলে তারা তাদের কোমরের ব্যথা এবং জয়েন্টের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবে এমনকি এটি তাদের সারাদিনের এনার্জি জোগাবে। তাই চায়নার অনেক স্কুল থেকে ছোট বাচ্চাদের মুত্র সংগ্রহ করা হয়। চায়নিজরা নকল জিনিস তৈরিতে এতটাই দক্ষ যে, তারা নকল চাল, নকল ডিম, নকল মাংস এমনকি নকল মাছও বানিয়ে ফেলছে। সে দেশে নকল মধুও তৈরি করা হয়। যার প্রতি লিটারে খরচ পরে মাত্র ১০০ টাকা। তবে সেটি বিক্রি করা হয় প্রতি লিটার ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। অনেকেই হইতো চায়না এই অদ্ভুত তথ্য গুলো পড়ে নেগেটিভ কিছু ভাবছেন যে, এরা কি পরিমান ২ নাম্বার জিনিস বানায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, চায়নিজ মোবাইল যদি মার্কেটে না আসতো, আমাদের দেশে কয়জন মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারতো? এই চায়নার কারণে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকায় দরকারি কিছু ফিচার সহ স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়। আপনি হইতো বলতে পারেন যে সেগুতো টেকশই না, কিন্তু আপনি যদি চার হাজার টাকা দিয়ে চল্লিশ হাজার টাকা দামের ফোনের সুবিধা নিতে চান, সেইটাও তো বোকামি। অন্তত ধনি গরিব সবার কাছে এই টেকনোলজি পৌঁছেছে চায়নার করণে এটাও কি অনেক বড় ব্যাপার না? আমাদের মত গরিব দেশে এই চায়না প্রোডাক্ট অনেক প্রচলিত।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment