Now Reading
এক মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ভাগ্য



এক মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ভাগ্য

ভাগ্য মানুষের সাথে কখন কেমন আচারন করবে তা বলা অসম্ভব। কারন মানুষ ভবিষ্যৎ জানে না। আজকে আমরা দরিদ্র বলে যাদের অবহেলা করছি, তারাই হয়ত আগামীকাল হয়ে যেতে পারে কোটিপতি। ভাগ্য কখন কাকে কোথায় নিয়ে যায় তা কেউ বলতে পারেনা।

হতে পারে আমাদের ঘরে পরে থাকা অপ্রয়োজনীয় কোন কিছু আমাদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আমাদের সবার ঘরেই কম বেশি পুরনো বিভিন্ন জিনিসপত্র থাকে। আর আমরা আমাদের সে সকল পুরনো জিনিসপত্রগুলো , আমাদের প্রয়োজন মিটে গেলে সাধারণত ফেলে দেই। কারন আমরা আধুনিক যুগের মানুষরা অপ্রয়োজনীয় কিছু রাখতে পছন্দ করি না। আমরা ভাবি দাদার দাদার সময়কার এই জিনিসগুলো দিয়ে আমরা কি করবো, আমাদের তেমন কোন কাজেও লাগে না, আবার ঘরের জায়গা দখল করে আছে, তার চেয়ে ভাল এই পুরনো বস্তুর জায়গায় অন্য কিছু রাখা যাবে, এইসব ভেবে আমরা পুরনো জিনিসপত্রগুলো নষ্ট করে ফেলি বা ডাস্টবিনে ফেলে দেই। কিন্তু এইসব পুরনো জিনিসপত্রগুলোই হয়তো আমাদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে পারে। এক মুহূর্তের মধ্যেই আমাদেরকে করে দিতে পারে কোটিপতি। আজকে আমি আপনাদের এই রকমই কিছু মানুষের কথা বলবো যারা, তাদের ঘরে পরে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে এক মুহূর্তের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিলেন কোটিপতি।

Rolex ঘড়িঃ হাত ঘড়ি কম বেশি সবাই ব্যবহার করি। আর মোটামুটি বছর খানেক পরপরই আমরা হাত ঘড়ি পরিবর্তন করি। সাধারণত আগেরটি হয় ফেলে দেই না হয় ঘরে বাচ্চাদের খেলতে দিয়ে দেই। কিন্তু আপনি কি জানেন এই হাত ঘড়ি বিক্রি করেও আপনি হয়ে যেতে পারেন কোটিপতি। এই রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার সাথে। ১৯৬০ এর দশকের দিকে এক মার্কিন সেনা অবসরের পর জার্মান থেকে আমেরিকায় ফেরার সময় তার এক বন্ধুর কথায় তিনি একটি Rolex ঘড়ি কিনেন। কিন্তু তিনি তখন এই Rolex ঘড়ির ব্যাপারে তেমন কিছুই জানতেন না। কিন্তু তার বন্ধুর খুব পছন্দ করতেন এই Rolex ঘড়ি। তিনি তখন ১২০ ডলার দিয়ে এই ঘড়িটি কিনেছিলেন। তিনি তখন মাসে বেতন পেতেন ১০০ ডলারেরও কম। তিনি প্রতি মাসে একটু একটু করে কিছু ডলার জমিয়েছিলে, আর ঐ টাকা দিয়েই তিনি ঘড়িটি ক্রয় করেন। কিন্তু বর্তমানে এই ঘড়িটি হয়ে উঠছে অনেক মূল্যবান। কারন এই ঘড়িটি জার্মানিতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির স্মারক এটি। তাই এই ঘড়িটির বর্তমান বাজার মূল্য ৩৫,০০০ থেকে ৪৫,০০০ হাজার ডলার। কিন্তু ঐ ব্যক্তি ঘড়ি কেনার সময় ঘড়ির সাথে পাওয়া সকল কাগজপত্র এবং বক্স রেখে দিয়েছিলেন তাই এই ঘড়িটির মূল্য হয়ে যায় ৭৫,০০০ ডলার। যা বাংলাদেশের টাকায় ৬০ লক্ষ টাকা। যখন ব্যক্তিটি থেকে জানতে চাওয়া হয় আপনি যত্নসহকারে ঘড়ি এবং সবকিছু সংরক্ষণ করেছিলেন কেন, তিনি বলেন এমনিতেই।

কম্বলঃ ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার আগে লড়েন কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন। কিন্তু এই দুর্ঘটনার পর লড়েন খুব অভাবে পরে যান। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর সারা মাস চলার জন্য তার কাছে থাকতো মাত্র ২০০ ডলার। ২০০৫ সালে লড়েন তার নানির বাড়ি যান কিছু বই আনতে তখন তিনি একটি কম্বল দেখতে পান। যেটি ছিল তার নানির। তার নানির একটি পোষা বিড়াল ছিল। ঐ বিড়ালটি এই কম্বলের উপর ঘুমাতেন। তাই লড়েন তার নানির স্মৃতি হিসেবে কম্বলটি নিয়ে আসেন। যখন তিনি খুবই অভাবী জীবন যাপন করছিলেন তখন তিনি একদিন টিভিতে পুরনো জিনিসপত্র বিক্রির একটি অনুষ্ঠানে তার নানির কম্বলটির মত একটি কম্বল দেখতে পান। তারপর লড়েন বিভিন্ন এন্টিক দোকানে কম্বলটি নিয়ে যান। কিন্তু সবাই তাকে হতাস করে। কিন্তু লড়েন তাতে থেমে যাননি, তিনি আরও বিভিন্ন জায়গায় কম্বলটি নিয়ে যান। তারপর এক ব্যক্তি কম্বলটি চিনতে পারেন এবং ব্যক্তিটি একজন বিশেষজ্ঞকে দেখান। আর বলেন যে এই কম্বলটি হচ্ছে ভারতে হস্ত শিল্পের সবচেয়ে সুন্দর কাজ গুলোর মধ্যে একটি। তারপর লড়েন কম্বলটি নিলামে উঠান এবং ১৫ লক্ষ ডলারে বিক্রি করেন। আর আবাসন খাতে লড়েন এই টাকা বিনিয়োগ করে এখন সচ্ছল জীবন যাপন করছেন।

টেবিলঃ একবার এক নারী ক্লেয়ার তার শোবার ঘরের জন্য একটি ছোট টেবিলের খোঁজ করছিলেন। রাস্তায় এক ব্যক্তির কাছে ক্লেয়ার একটি টেবিল দেখতে পান। টেবিলটি ক্লেয়ারের পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ২৫ ডলার দিয়ে টেবিলটি তিনি কিনে নেন। এবং টেবিলটি তিনি ৩০ বছর ব্যবহার করেছিলেন। তিনি টেবিলটি পানি দিয়ে ঘসে মেজে পরিষ্কার করতেন। ক্লেয়ার এক সময় চিন্তা করেন অনেক পুরনো হওয়ায় এই টেবিলটির কোন ঐতিহাসিক মূল্য থাকতে পারে। তাই তিনি টেবিলটি এক বিশেষজ্ঞকে দেখান। বিশেষজ্ঞ টেবিলটি পরীক্ষা করে দেখেন যে এটি ১৮০০ শতকের বিখ্যাত কাঠ মিস্ত্রি জন ও ট্মাসিনর তৈরি। তখনকার সময়ে ধনীদের জন্যই তৈরি করতেন তারা আসব্বপ্ত্র। তারপর টেবিলটি ক্লেয়ার নিলামে তুলেন এবং ২৫ ডলারে কিনা টেবিলটি বিক্রি করেন ২.৫ লক্ষ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment