Now Reading
আগামী দিনে বিশ্বের এক নাম্বার দেশ হবে চীন



আগামী দিনে বিশ্বের এক নাম্বার দেশ হবে চীন

পশ্চিমা বিশ্বে আতঙ্কের মতো এক শক্তিশালী চীনের অর্থনৈতিক ‍উথ্থান। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নতির প্রায়স চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক দিক দিয়েও। চীনের সামরিক সমৃদ্ধি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তাকে ওয়াশিংটনের নিকট প্রতিদ্বন্দ্বিই বলা যেতে পারে। আগামী দিনে বিশ্বের এক নম্বর দেশ হবে চীন যদি অর্থনীতি ও সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে। আসুন জেনে নিই কী কারণে অপ্রতিরোধ্য চীন?
কৃষি পণ্য উৎপাদনে চীনঃ মানুষের প্রয়োজনীয় সবুজ পণ্য ২০০০ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেছে চীন। চীনের কৃষি উৎপাদন বর্তমানে বিশ্বের ২২ শতাংশ মানুষের উদরপূর্তি করছে। অথচ দেশটিতে কৃষি উৎপাদনে ব্যবহূত জমির পরিমাণ বিশ্বের মোট আবাদযোগ্য জমির ৭ শতাংশ। চাল, গম, আলু, টমেটো, জোয়ার, বাজরা, বাদাম, চা, বার্লি, তুলা, তেলবীজ, সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে চীন।
চীনের ‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাঃ এবার আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা এআইয়ের বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বেইজিং। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে দেশটির প্রায় ২০টি প্রদেশের উৎপাদনশীল কারখানাগুলোতে। প্রকাশ করা হয়েছে নীতিমালাও। গত বছর এআইয়ের ওপর ভিত্তি করে ১৫০০ নতুন কারখানা যাত্রা শুরু করেছে। গত বছর ১০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়েছে এ শিল্পে। যা সাড়ে ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে ২০২১ এ। গবেষণা ক্ষেত্রেও খরচ করা হচ্ছে। ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে শুধু গবেষণায় ২০১৮ সালে। যা ১০ শতাংশ ২০১৭ সালের বেশি ২০১৭ সালের তুলনায়। এছাড়াও নির্মাণ করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন পার্ক দুই বিলিয়ন ডলার খরচ করে।
মহাকাশ অভিযানে চীনঃ এই প্রথম একটি রোবট চালিত মহাকাশযান নামিয়েছে চীন। চাঁদের যে অংশটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না, সেই দূরবর্তী দিকে। চীনা বিজ্ঞানীরা চীনের মহাকাশযান চাঙ-আ ৪ চন্দ্রপৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণ করেছে বলে দাবি করছেন। চীনের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য এক বিরাট সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে এটিকে। ২০১১ সালে চীন তাদের মহাকাশ স্টেশন কর্মসূচি শুরু করেছে। ২০০৭ সালে চীন কোন স্যাটেলাইট মহাশূন্যে ঘুরতে থাকা ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে। এই সক্ষমতা তাদের আগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার। সাইবার স্পেসে তথ্যের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে চীন ২০১৬ সালে এক বিরাট সাফল্য অর্জন করে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে শীর্ষে চীনঃ বিশ্বব্যাপী বাড়ছে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। বিশ্ব বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে চালকের আসনে রয়েছে চীন, গত বছর প্রায় ১২ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির করছে দেশটি। চীনের বিকল্প জ্বালানিসংশ্লিষ্ট নীতি বৈদ্যুতিক ট্রাক ও বাস খাতের সম্প্রসারণে সহায়তা করছে, বিশেষত শহরের বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণে এ নীতি বেশ সহায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। চীন বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি ও সরবরাহ গাড়ি নির্মাণ করে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
সামরিক খাতে চীনঃ এ বছর প্রতিরক্ষা খাতে ১৭৭.৬১ বিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ করেছে চীন গত বছরের চেয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে। সামরিক খাতে বাজেট ছিল ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ২০১৮ সালে। এর পরিমাণ অন্তত তিনগুণ বেশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটের তুলনায়। চীনের প্রতিরক্ষা বাজেট ২০০ বিলিয়নে গিয়ে ঠেকবে এই হারে বৃদ্ধি চলতে থাকলে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
লিঙ্গ বৈষম্য কমাচ্ছে চীনঃ সমানভাবে নারী ও পুরুষের ভুমিকা দরকার। যদি উন্নয়ন করতে হয়। আর তার জন্য চীন লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর দিকে মনযোগ দিচ্ছে। তবে তারা একটু ধীর গতিতে এগোচ্ছে লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে। ১৪৯টি দেশের মধ্যে ২০১৮ সালে এক জরিপে লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর দিক থেকে ১০৩তম হয়েছে চীন। চেষ্টা চালাচ্ছে তারা লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment