Now Reading
অমরত্ব



অমরত্ব

আমাদের পৃথিবীতে কিছু চিরন্তন সত্য কথা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, যেই প্রাণী এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করবে, তাকে অবশ্যই মৃত্যুবরন করতে হবে। বিজ্ঞানের মতে, লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে প্রানের আবির্ভাব ঘটে। এই লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিভিন্ন প্রানের জন্ম হয়েছে, ঠিক আবার মৃত্যুও হয়েছে। কোন প্রানিই জন্মের পর মৃত্যুর স্বাদ পাইনি বা পাবে না এখনও এমনটি হয় নি।

কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরেই মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছে, সারা জীবন বেঁচে থাকর জন্য। কিন্তু কোন বিজ্ঞানীই বা মানুষ এখন পর্যন্ত অমরত্ব লাভের কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারে নি। অনেক বিজ্ঞানীই অমরত্ব লাভ করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু অমরত্ব লাভের কৌশল বের করার কাজ থেমে যায়নি বা শেষ হয়ে যায় নি। এখনও চলছে এই বিষয় নিয়ে প্রচুর গবেষণা।
ধীরে ধীরে আমাদের বিজ্ঞান অনেক উন্নতি করে ফেলেছে। এমন অনেক কিছু আছে, যা আমরা কিছু দিন আগেও ভাবতাম কখনও সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞান তা এখন করে দেখিয়েছে।

প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী জন্ম হলে মৃত্যু হবেই। কিছু মানুষের মৃত্যু আগে হয় কিছু মানুষের মৃত্যু পরে হয়। কিন্তু জন্ম হলে মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু মানুষ চায় সুস্থ ভাবে অনেক দিন বেঁচে থাকতে। মানুষ চায় অমর হতে।

বর্তমানে আমাদের বিজ্ঞান অনেক উন্নত। আর অমর হওয়ার উপায় পাওয়া যেতে পারে বিজ্ঞানের মাধ্যমেই। একটা সময় ছিল মানুষ সামান্য অসুখেও মারা যেত। আজ থেকে ১৫০ বা ২০০ বছর আগে সামান্য জ্বরেও মানুষ মারা যেত। বর্তমানে আমাদের বিজ্ঞান, আমাদের বেশিরভাগ অসুস্থা নিরাময় করার উপায় আবিষ্কার করেছে।

আর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন কিভাবে মানুষ দীর্ঘ দিন সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে পারে বা অমর হতে পারে। আজ আমি আলোচনা করব বিজ্ঞানের এমন কিছু উপায় নিয়ে যার মাধ্যমে মানুষ দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকতে পারে।

INFUSING YOUNG BIOOD TO OLD: একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কম বয়সী ইঁদুরের রক্ত কিছু বেশি বয়সী ইদুরের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এর ফলে বেশী বয়সী ইদুরগুল আগের চেয়ে বেশি তরতাজা হয়ে যায় এবং তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ গুল আগের চেয়ে ভালো কাজ করতে থাকে। এবং এই ইদুরগুলোর গড় আয়ু থেকে এক মাস বেশি বেঁচে ছিল। কিন্তু মানুষের উপর এখনও পর্যন্ত এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়নি। তাই জানা যায় নি এই পদ্ধতি মানুষের শরীরে কাজ করবে কিনা। বা মানুষের শরীরে প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে।

NANO TECHNOLOGY: কিছু বিজ্ঞানীর মতে আগামী ২০ বছরের মধ্যে সুপার এডভান্স মাইক্রো এস্কুপ ন্যানো বুটস লাখ লাখ সংখ্যায় মানুষের শরীরে রক্ত কনিকার মত কাজ করবে। কিন্তু এগুলো রক্ত কনিকার থেকেও কয়েকগুণ বেশি কাজ করবে। এই ন্যানো বুটস গুলো মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে, এবং যে সকল কোষ গুলি অকেজ হয়ে যাবে সেগুলকে পুনরায় সাড়িয়ে তুলবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষ অনেক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবে। এবং মানুষের বয়সও খুবুই ধীরগতিতে বারবে।

TRANSGENICS: পৃথিবীতে এমন কিছু জীব পাওয়া গেছে যারা প্রায় অমর। আসলে তারা অনেক দিন পর্যন্ত পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে। ১৮৮০ দশকে এক সাগরে এমন এক প্রজাতির জেলি ফিসের সন্ধান পাওয়া যায়, যেটিকে শুধু মেরে ফেলা সম্ভব, কিন্তু বয়স জনিত কারনে কখন এই প্রানিটি মারা যায় না। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রানিটির ডি এন এ র সাথে যদি মানুষের ডি এন এ মিশানো যায় তাহলে মানুষের বয়স বাড়বে না বললেই চলে। কিন্তু এমনটা করা খুব একটা সহজ কাজ নয়।

KEEP ON CLONING: বর্তমানে বিজ্ঞান এতটাই উন্নত হয়েছে যে, মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু প্রতিস্থাপন করার সময় বিভিন্ন দিকে খেয়াল রাখতে হয় যেমন রক্তের গ্রুপ কি, তার বয়স কত, তার আর কোন সমস্যা আছে কিনা ইত্যাদি। সবকিছু ঠিক থাকলেই প্রতিস্থাপনের কাজটি করা যায়। কিন্তু কোন সমস্যা থাকলে প্রতিস্থাপনের কাজটি করা যায় না। কিন্তু CLONING এর মাধ্যমে খুব সহজেই এই কাজটি করা যায়। বিজ্ঞানীরা অসুস্থ মানুষের কোষের মাধ্যমে তারই শরীরে বিভিন্ন অংশ তৈরি করার উপায় খুজে পান। ২০১১ সালের এক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর, তার নিজের কোষের মাধ্যমে তার জন্য একটি শ্বাস নালী তৈরি করা হয়, এবং তার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment