Now Reading
যেখানে মানুষ ঠিক মত দু মুঠ খেতে পায় না



যেখানে মানুষ ঠিক মত দু মুঠ খেতে পায় না

আমরা কাজকর্ম করি কি জন্য, ভালো ভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য। কারন বর্তমানে অর্থ ছাড়া জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব। আমাদের বিভিন্ন চাহিদা গুলো এই অর্থের মাধ্যমেই মিটিয়ে থাকি। একজন মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কি প্রয়োজন? খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। কিন্তু আমাদের বর্তমানে এই সকল চাহিদা মিটে গেলেও, আমরা থেমে থাকি না, কারন আমাদের চাহিদার শেষ নেই। দিন দিন আমাদের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

আমাদের এই পৃথিবীতে প্রায় ১৯৫ টি দেশ আছে। এই সকল দেশের মধ্যে কিছু দেশ আছে, যেই সকল দেশের মানুষ ভোগ বিলাসিতায় প্রচুর টাকা ব্যয় করে। তারা দামি দামি গাড়ি বাড়ি পোশাক ইত্যাদি ব্যবহার করে। সৌদির এক যুবরাজ এক পার্টিতেই কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন। আর কিছু দেশের মানুষ বিভিন্ন পশুপাখির পিছনেই অনেক অর্থ ব্যয় করে ফেলেন।

অপরদিকে আমাদের এই পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে যে দেশগুলোর মানুষ ঠিকমত তিন বেলা খাবারই খেতে পারে না, অন্যান্য চাহিদাত দূরের কথা। বেঁচে থাকার জন্য যেটা না হলেই নয় সেই খাবারটাই তারা ঠিক মত পায় না। ঐ সকল দেশের মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোই মিটাতে অক্ষম। আজকে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র কিছু দেশ সম্পর্কে আপানদের জানবো।

মাদাগাস্কারঃ দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকা মহাদেশের উপকূলে রয়েছে মাদাগাস্কার দেশটি। দেশটির রাজধানীর নাম আন্তানারিভ। এই দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম একটি দ্বীপ দেশ। ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে জনসংখ্যা আছে প্রায় ২.৫ কোটি। ১৯৬০ সালে দেশটি স্বাধীন হয়। স্বাধীন হওয়ার আগে এই দেশটি ছিল ফ্রান্সের অধীনে। এই দেশটির ৬৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে। দেশটির মাথাপিছু আয় ১৫৫৪ মার্কিন ডলার।

দক্ষিণ সুদানঃ পূর্ব মধ্য আফ্রিকার একটি দেশ দক্ষিণ সুদান। এই দেশটির বর্তমান রাজধানীর নাম জুবা। ৬ লাখ ১৯ হাজার ৭ শত ৪৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন এই দেশটির। দক্ষিণ সুদানের জনসংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ২৩ লাখের মত। এটি বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে ৯ম। এই দেশটিতে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর থাকলেও দেশটির অর্থনীতি এখনও কৃষি নির্ভর। দেশটির মাথাপিছু আয় ১৫০৩ মার্কিন ডলার।

ইরিত্রিয়াঃ ইরিত্রিয়া উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ। দেশটির রাজধানীর নাম আসমারা। ইতালি এবং যুক্তরাজ্য একসময় শাসন করত এই দেশটিকে। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা লাভ করে দেশটি। ১ লাখ ১৭ হাজার ৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখের মতন। দেশটির ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এই দেশটির মাথাপিছু আয় ১৪৩৪ মার্কিন ডলার। ইরিত্রিয়া বিশ্বে ৮ম দরিদ্র দেশ।

মোজাম্বিকঃ পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক রয়েছে ৭ নম্বরে। ৮ লাখ ৫৯০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই দেশটির জনসংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লাখের মত প্রায়। এই দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও এই দেশের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে দারিদ্র সীমার নীচে। এই দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এইচ আই ভি বা এইডস রোগে আক্রান্ত। এই দেশটির মাথাপিছু আয় ১২৬৬ মার্কিন ডলার।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রঃ বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র। ৬ লাখ ২২ হাজার ৯৮৪ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনের দেশটির জনসংখ্যা ৪৬ লাখ মানুষের বসবাস প্রায়। মূলত শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে দেশটির উন্নয়নে মূল বাধা। ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করলেও এখনও দেশটির রাজনৈতিক অবস্থার কারনে দেশটিতে গৃহ যুদ্ধ লেগে রয়েছে। দেশটির মানুষের মাথাপিছু আয় ৬৮১ মার্কিন ডলার।

কঙ্গোঃ এই দেশটি বিশ্বের ২য় দরিদ্র দেশ। ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০৯ বর্গ কিলোমিটারের দেশটিতে বাস করে প্রায় ৭ কোটি ৮৭ লাখের মত মানুষ। দুর্নীতির কারনেই দেশটির উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এ দেশের মাথাপিছু আয় ৭৮৫ মার্কিন ডলার।

বুরুন্ডিঃ দরিদ্রতার দিক থেকে বুরুন্ডি রয়েছে বিশ্বে ৩য় নম্বরে। মাত্র ২৭ হাজার ৩৪ বর্গ কিলোমিটারের দেশটিতে ১ কোটি ৫২ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারনে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এই দেশের ৮০ ভাগ মানুষই দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment