Now Reading
হীরার মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?



হীরার মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

হীরা বা হীরো কিংবা হীরে, যে নামে জানুক না কেন, এটি হল সর্বপেক্ষা একটি মূল্যবান রত্ন। যা গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত হয়। বর্ণহীন এই মূল্য রত্নটি একটি মাত্র বিশদ্ধ উপাদান কার্বন থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে। যে কোনও উজ্জ্বল-চকচকে পাথর মানেই কিন্তু হীরা নয়। কিন্তু কি করে চিনবেন আসল হীরা? হীরা ভারত বর্ষের মানুষের কাছে কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ হাজার বছর আগে থেকে পরিচিত বলে ধারণা করা হয়। মানুষের চেনা জানা অনেক প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে হিরা অনেক শক্ত একটি পদার্থ। বিজ্ঞানীদের ধারনা ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৪০ থেকে ১৯০ কি.মি নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র ও পৃথিবীর আবরনের মাঝে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এর কারণে হীরা গঠিত হতে প্রায় ১-৩ বিলিয়ন বছর সময় লাগে। কিন্তু গবেষকদের মতে সকল হীরা যে এই পৃথিবীতে তৈরি হয়েছে এমনটা নয়। পৃথিবীতে এমন অনেক হীরা পাওয়া গেছে যেগুলো পৃথিবীর বাহিরে তৈরি হয়েছিল। এমন আরো মতামত রয়েছে মহান এই মূল্যবান রত্নটিকে ঘিরে। হীরা কীভাবে উৎপাদন করা হয়, আসল হীরা কীভাবে চিনা যায়, কীভবে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়, এসব নিয়ে আজকের আলোচনা।
এটা খুব সহজ একটি পদ্ধতি যে শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্ত বস্তু হীরা। এই বস্তুকে মৃসন করার জন্য শিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষলেও এটিকে মসৃন করা যাবে না। তবে যদি কৃত্রিম হীরা বা নকল হীরা হয় তাহলে সহজে এতে দাগ পড়বে।
হীরা চেনার আরো একটি উপায় হচ্ছে হিরার আলোর প্রতিফলন দেখে। আসল হীরা যে ভাবে আলোর প্রতিফলন ঘটায় তা সত্যিই অপূর্ব দেখতে! যখন হীরাতে আলো ফেলবে তখন এর ভেতরে ধূসর ও ছাই রংয়ের আলোর ছটা দেখা যাবে যাকে বলা হয় ‘ব্রিলিয়ান্স’। আর বাইরের দিকে প্রতিফলিত হবে রামধনুর রঙের, যাকে বলা হয় ‘ফায়ার’। কিন্তু নকল হীরার ক্ষেত্রে পাথরের ভেতরেই রামধনু রং দেখতে পাওয়া যাবে, যা আসল হিরার উল্টো। হীরা রামধনু রং প্রতিফলিত করে এটা মানুষের একটি ভুল ধারনা। খাঁটি হীরার প্রতিফলনে বেশির ভাগই ধূসর ভাব থাকে।
হীরার এত চকচকে হওয়ার কারণ হল, এর প্রতিসরণের বৈশিষ্ট্য। এই পাথরটি যে পরিমাণ আলো ধরে রাখতে পারে, তা কাঁচ, কোয়ার্টজ বা ত্রিকোণাকৃতি জিরকোনিয়ামও করতে পারে না। একটি আসল হীরা যদি পত্রিকার ওপর রাখেন, তবে এর ভেতরে পত্রিকার কালো রংয়ের লিখার কোনো প্রতিসরণ ঘটবে না। কিন্তু হীরা যদি নকল হয়, সেক্ষেত্রে তার মধ্যে কালো লেখার কোনও অক্ষর দেখা যেতে পারে।
নিঃশ্বাস দিয়েও পরীক্ষা করতে পারবেন মূল্যবান এই রত্নকে। পাথরটিতে মুখের গরম বাতাস দিন। দেখবেন সেটি কুয়াশাচ্ছন্ন (ঝাপসা) হয়ে পড়েছে (বাথরুমের আয়নায় নাক-মুখের নিঃশ্বাস ফেললে আয়নার কাঁচ যেমন ঝাপসা হয়ে যায়)।খুব দ্রুত ঝাপসা ভাবটি চলে যাবে যদি হীরাটি নকল হয়। অন্যদিকে আসল হীরার বেশ কিছুটা সময় লাগবে ঝাপসা ভাব কাটতে। কারণ, আসল হীরা একেবারেই তাপ ধরে রাখে না, তাই বাষ্প খুব দ্রুত উবে যাবে।
লোপ হল বিশেষ এক ধরনের ম্যাগনিফায়িং গ্লাস (আতস কাঁচ)। এটি দ্বারা হীরা বা অন্যান্য পাথর পরীক্ষা করা হয়। আপনি যদি লোপের মাধ্যমে কয়েকটি হীরা দেখতে চান তাহলে তখন কয়েক ধরনের চেহারা দেখতে পাবেন। কিছু পাবেন যেগুলো মোটেও নিখুঁতভাবে মসৃণ করা নয়। এগুলো দেখলে মনে হবে যে, একেবারে প্রাকৃতিক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এগুলোই আসল হীরা। কিন্তু ভুয়া হীরা একেবারে নিখুঁত ও মসৃণ হবে। দ্বিতীয়ত, সূক্ষ্মভাবে হীরার ধারগুলো দেখুন। লোপের মাধ্যমে যখন দেখবেন, তখন এর ধারগুলো বেশ ধারালো বলেই মনে হবে। কিন্তু নকল হীরার ধারগুলো গোলাকার বা মসৃণ হয়।
মূল্য নির্ধারণঃ হীরার মূল্য কেমন হবে তা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের উপরে। রং কেমন, কীভাবে কাটা হয়েছে, কতটা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং কত ক্যারেট ওজনের। ক্যারেট স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার একক। অর্থাৎ প্রতিটা স্বর্ণের ২৪ ভাগের কত ভাগ স্বর্ণ তা বুঝাতে ক্যারেট ব্যবহৃত হয়। ২৪ ক্যারেট বলতে বুঝায় ২৪ ভাগের ২৪ ভাগই স্বর্ণ অর্থাৎ ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ, আর এধরণের রত্ন পাথরের ক্ষেত্রে ক্যারেট হচ্ছে ভরের একক। এ ক্ষেত্রে ১ ক্যারেট =০.২ গ্রাম বা ২০০ মিলিগ্রাম।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment