Now Reading
জীবন টা আসলেই অনেক সহজ



জীবন টা আসলেই অনেক সহজ

বর্তমান যুগটাকে আমরা আধুনিক যুগ বলে থাকি। আর এই আধুনিক যুগে আমরা বেশির ভাগ মানুষই বলি জীবনটা অনেক কঠিন। আর আমরা খুজে বেড়াই জীবনটাকে কিভাবে সহজ করা যায়। কিন্তু আমরা জীবনটাকে সহজ করতে গিয়ে আরও অনেক বেশি কঠিন করে ফেলি। আজ আপনদেরকে এমন একজন ব্যক্তির জীবনী বলব, যা জানার পর আপনারও বলবেন আসলেই জীবনটা অনেক সহজ।

যার জীবনী আপনাদেরকে বলব তার নাম জন জেন্ডাই। তিনি থাইল্যান্ডে বসবাস করেন। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তিনি সবাইকে একটাই কথা বলেন life is easy. কিন্তু কিছু বছর আগে জন যখন ব্যাংকক ছিলেন তখন তার কোন রকমেই এটা মনে হয়নি যে life is easy. তার মনে হয়েছে জীবনটা অনেক কঠিন এবং জটিল।

জন থাইল্যান্ডের একটি ছোট গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। যখন তিনি ছোট ছিলেন তখন তার কাছে জীবনটা অনেক সুন্দর এবং সহজ মনে হত। কিন্তু তাদের গ্রামে যখন টিভি আসে, আর সেই টিভিতে মুভি দেখে এবং গ্রামের মানুষের মতামত শুনে তিনি অনুভব করলেন তিনি অনেক গরীব। তাই জীবনে সফলতা পেতে , ধনী হতে, এবং জীবনকে সহজ করতে ব্যাংকক যেতে হবে।

তারপর তিনি ব্যাংকক আসার পর তিনি আসল মজাটা পান। তিনি ব্যাংকক যাওয়ার পর বুঝতে পারলেন তাকে সফলতা পেতে এইখানে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তাই তিনি দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করা শুরু করলেন। কিন্তু দিন শেষে তিনি দেখেন সারাদিন এতো পরিশ্রম করেও তিনি শুধু এক বাটি নুডুলস কেনার টাকা জোগাড় করতে পেরেছেন। আর রাতেও ঠিক মত ঘুমাতে পারতেন না। কারন তিনি যেখানে থাকতেন সেখানে এক রুমে এক সাথে অনেক মানুষ ঘুমাত। তার উপর ছিল প্রচণ্ড গরম। তখন তিনি চিন্তা করলেন, এতো পরিশ্রম করেও তিনি ঠিক মত তার নিজের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারছেন না আবার ঠিক মত ঘুমাতেও পারছেন না। তার নিজেকে একটা রোবটের মত মনে হত লাগল। সারাদিন শুধু তাকে কাজই করে যেতে হচ্ছিল, জীবনের সৌন্দর্য গুলো উপভোগ করার মত তার কাছে এক মিনিটও সময় ছিলনা।

তারপর তিনি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলেন, এতো পরিশ্রম করার পরও তিনি সফলতা পাচ্ছেন না কেন, নিশ্চই কথাও কোন সমস্যা আছে। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখলেন সেখানে শেখাটা খুবই কঠিন। কারন সেখানে যেভাবে শেখানো হচ্ছে সেটা ছিল খুবই বোরিং। আর তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় গুলো দেখলেন, তখন তিনি ভাবলেন তার ভালো কাজে লাগার মত ভালো কোন বিষয় নেই। তিনি লক্ষ্য করলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শেখানো হচ্ছে পরিবেশকে কি ভাবে ধবংস করতে হয়। যেমন গাছ পালা কেটে রাস্তা ঘাট তৈরি করা ইত্যাদি। তারপর তিনি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেন, জীবনকে সহজ করতে তাকে ব্যাংককেই থাকতে হবে কেন। তিনি তার ছোট বেলার কথা গুলো মনে করতে থাকেন। তার গ্রামের মানুষরা বছরে মাত্র দুই মাস কাজ করতেন, তারপর সারা বছর আনন্দে জীবন কাটাত। কাউকে দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে দেখেন নি।

তখন জন বুঝতে পারেন টাকাই সব সুখ এনে দিতে পারে না। মানুষ চায় তার আপন মানুষদের সাথে একটু সময় কাঁটাতে, তারপর তার মনে হতে লাগলো এইভাবে তার আর ব্যাংককে থাকা ঠিক হবে না। তাই তিনি গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তটা এতটা সহজ ছিল না। প্রচুর মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো। এবং তাকে অবহেলার চোখে দেখতে লাগলো। কারন এতটা সময় ব্যাংককে কাটানোর পরও তিনি তার জন্য একটা ভালো চাকুরী জোগাড় করতে পারে নি। এবং শূন্য হাতে গ্রামে ফিরে এসেছে।

গ্রামে ফিরে আসার পর তিনি ছোট বেলায় যে ভাবে জীবন কাটাতেন ঠিক সেই ভাবে জীবন কাঁটাতে শুরু করেন। তিনি বছরে দুই মাস কাজ করতে শুরু করেন। আর ১০ মাস ফ্রি থাকেন। তিনি ২ মাস কাজ করেই বছরে ২ টন চাল পান। তার পরিবারে ছিল ৬ জন, তাই আধা টনেই তার হয়ে যেত। তাই তিনি বাকি চাল বিক্রি করে দিতেন। তারপর তিনি তার বাড়ির পাশে সবজি বাগান করেন, যেখানে তিনি দৈনিক ১৫ মিনিট কাজ করে প্রায় ৩০ রকমের সবজি ফলাতেন। যার থেকে তার পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে বাকি গুলো বিক্রি করে দিতেন। তারপর তিনি ২ টি পুকুর খনন করেন এবং সেখানে মাছ চাষ করে তার পরিবারের সারা বছরের মাছের চাহিদা পূরনের ব্যবস্থা করে ফেলেন।

তারপর তার মনে হতে লাগলো জীবন আসলেই অনেক সহজ। কি দরকার ছিল ৭ বছর ধরে ব্যাংককে গিয়ে ঐ রকম পরিশ্রম করা। যেই পরিশ্রম করে তিনি তার পরিবারের জন্য দূরের কথা নিজের জন্যই খাবার জোগাড় করতে পারতেন না। কিন্তু এখন তিনি বছরে ২ মাস আর দৈনিক ১৫ মিনিট পরিশ্রম কাজ করে তার পুরো পরিবারের চাহিদা মিটাচ্ছেন এবং কিছু টাকাও জমাচ্ছেন। এটাত সত্যিই অনেক সহজ।

তারপর তিনি একদিন মাটির বাড়ি তৈরি করতে শুরু করেন। দৈনিক তিনি ২ ঘণ্টা কাজ করে ৩ মাসে তিনি তার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে ফেলেন। যেটা তিনি কখন ভাবেনি যে তার নিজের একটি বাড়ি হবে। এর পর তিনি এইভাবে তার নিজের জন্য অনেক গুলো বাড়ি তৈরি করে ফেললেন। এখন তিনি ভাবেন আজকে কোন বাড়িতে থাকবেন।

এইভাবে তিনি খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা এই গুলোর জন্য কারো উপর নির্ভরশীল নয় , তাই তিনি আজ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা কি তা অনুভব করতে সক্ষম হয়েছেন। জীবন টা আসলেই অনেক সহজ।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment