Now Reading
প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টি এবং অমূল্য কিছু রহস্য



প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টি এবং অমূল্য কিছু রহস্য

প্রকৃতি আমাদের মাঝে মাঝে অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য, অপ্রত্যাশিত কিছু উপহার দিয়ে থাকে, যেগুলোর জন্য আমরা অনেক সময় প্রস্ততও থাকিনা। তবে বেশ অবাক হতে হয়, এটা ঠিক। তাই প্রকৃতির বিচিত্র কিছু সৃষ্টি এবং অমূল্য কিছু রহস্য নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
নতুন দ্বীপের জন্মঃ কেউ হইতো প্রশ্ন করতে পারেন, দ্বীপের আবার জন্ম হয় কীভাবে? তাহলে জেনে রাখুন গত ২ শততে ২ডজনের মত নতুন দ্বীপের জন্ম হয়েছে এই পৃথিবীতে। পলি মাটি জমে আগ্নেয়গিরির অগ্নিপাতের ফলে হিমোবাহি প্রভাবসহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক কারণে জন্ম নিয়েছে এসব দ্বীপ। এসবের মধ্যে সবচেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে আগ্নেয়গিরির অগ্নিপাত। অনেকে হইতো জানেন সমুদ্রের পানির নিচে রয়েছে বহু আগ্নেয়গিরি। এবং সময় সময় এগুলো উদগিরণ হয়ে থাকে। আর বারবার আগ্নেয়গিরির ফলে গলিত লাবা জমে জমে তা পানির তলের উপর মাথা তুলে এবং জন্ম হয় নতুন দ্বীপের।

মরুভূমির বাগানঃ মরুভূমি নাম শুনলে চোখের সামনে যা ভেসে উঠে তা নিশ্চয় সুখকর নয়, জনহীন, প্রাণহীন, বিস্তৃর্ণ মরুভূমিকে মানুষের বাসের অযোগ্য বলেই জানি আমরা। আর চিলির উত্তরে অবস্থিত আতাকামা মরুভূমি শীতল আর শুষ্ক শুধু নয়, বলতে গেলে এটি বৃষ্টি বিহিন মরুভূমি। গত ১০০ বছরে মাত্র ৩-৪ বার বৃষ্টি হয়েছে এখানে। সেইটাও খুব সামান্য পরিমানে। যে কারণে বিশ্বের শুষ্কতম মরুভূমির মধ্যে আতাকামা মরুভূমি একটি। আর এখানকার নদী ক্ষ্যাত গুলো ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বছর ধরে শুষ্ক পরে আছে। কিন্তু মাত্র এক রাতের ব্যবধানে যদি এই মরুভূমি রং ব্যরং এর ফুলে ছেয়ে যায়, তাহলে একটু অবাক হতে হবে বটে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, দীর্ঘদিন পর পর এ ঘটনা ঘটে আতাকামা মরুভূমিতে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০১৫ সালে আতাকামা মরুভূমির বালি ছেয়ে গিয়েছিল ফুলে ফুলে। অবশ্যই এর পিছনে রহস্যময় কোন কারণ নেই। সাধারণত যখন মরুভূমিতে অপেক্ষকৃত বেশি বৃষ্টিপাত হয়, তখনই এই অভাবনীয় দৃশ্যটি দেখা যায়। অন্তত দুইশত প্রজাতির উদ্ভিদ মাথা তুলে বৃষ্টির পর। আর মরুভূমিতে এই বিচিত্র ফুলের বাগান দেখার জন্য ছুটে আসেন বহু পর্যটকও।

লেক আব্রাহমঃ কানাডার পশ্চিম আলবার্টে রয়েছে লেক আব্রাহাম নামে কৃত্রিম একটি হ্রদ। অবশ্যই এটি আলবার্টের সবচেয়ে বড় জলাধারও বটে। বিস্ময়কর ভাবে এই হ্রদের পানি নীল বর্ণের। মূলত রক ফ্লাওয়ার পাথরের কণা পানির সাথে মিশেই হ্রদটি নীল বর্ণ ধারণ করেছে। ৩২ কি.মি. দীর্ঘ এবং ৫৩.৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদটি মূলত দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলে শীতকালে। যখন গোটা হ্রদের পানি জমে যায়। আর স্বচ্চ বরফের ভিতর লাখ লাখ ছোট বড় বুধ বুধ আটকে পরেছে বলে দেখা যায়। মূলত এই বুধ বুধ গুলো তৈরি হয় মিথেন গ্যাস আটকে পরার ফলে। হ্রদের তলদেশে জন্মানো উদ্ভিদ পঁচে গিয়ে মিথেন গ্যাস সৃষ্টি হতে থাকে। কিন্তু পানি জমাট বাধা শুরু হলে মিথেনের বুধ বুধ গুলো বরফের মধ্যে আটকা পরে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনার অবতারনা করে। আর এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখার জন্য বহু ফটোগ্রাপার এবং প্রকৃতি প্রেমি ছুটে আসে লেক আব্রাহমে।

বরফের চাকতিঃ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া বরফ বৃত্ত বা বরফ চাকতিগুলো বা আইস সারকেলগুলো দেখলে মনে হবে কেউ হয়ত এগুলো বিশাল আয়োজনে দীর্ঘকাল ধরে নিখুঁতভাবে তৈরি করেছে। অথচ সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তিও টেকে না এর গঠনের পেছনে। এটি একটি অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। এগুলো একই সাথে আইস সারকেল, আইস ডিস্ক, আইস প্যান বা আইস ক্রেপ নামেও পরিচিত। সাধারণত ঠান্ডা আবহাওয়ার খুব স্লো বা মন্থর গতির পানিতে এই ধরণের গোলাকার বরফের চাকতি বা বৃত্ত দেখা যায়। অবাক হয়ে যাওয়ার মত এক দৃশ্য তৈরি হয়ে যায়, এগুলো এতটায় গোল হয়, যা আপনাকে অবাক করে ছাড়বে। এগুলো নিয়ে অনেকেই বিভিন্নধরণের মতামত দিয়ে থাকেন। যেমন কেউ কেউ বলেন মন্থরগতির পানি ঘুর্ননের ফলে এগুলো সৃস্টি হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানিরা বিষয়টা মানতে নারাজ কারণ পানি ঘুর্ণনের ফলে এটা তৈরি হবার সময়ই এগুলো ফেটে চৌচির হয়ে যাবার কথা। কিন্তু এগুলো একেবারে চমৎকার একই বৃত্তাকার বা গোলাকার ডিস্ক আকারে তৈরি হয়ে পানিতে ভাসতে থাকে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment