Now Reading
যেই দেশটিতে অপরাধ প্রবণতা কম



যেই দেশটিতে অপরাধ প্রবণতা কম

আমাদের এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করে। এই মানুষ গুলোর মধ্যে ভালো মানুষ খারাপ মানুষ উভয়ই প্রকারের রয়েছে। কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের ক্ষতি দূরের কথা, চেষ্টা করে অন্য মানুষের উপকার করতে। আর কিছু মানুষ আছে যারা মনে হয় জন্মই নিয়েছে অন্য মানুষের ক্ষতি করতে। পৃথিবীতে মানুষের সভ্যতা হাজার হাজার বছরের পুরন। আর যেই মানুষ গুলো বিভিন্ন অপরাধ করে তাদের এই অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বা যারা ক্ষতি গ্রস্ত হয় তাদের ক্ষতি পূরনের ব্যবস্থা করার জন্য সেই আদি যুগ থেকেই বিভিন্ন শাস্তির প্রথা চালু হয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বিভিন্ন ধরনের ছিল।

এখন আমাদের পৃথিবীতে প্রায় ১৯৫ টি দেশ রয়েছে। এবং বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন অপরাধের জন্য বিভিন্ন শাস্তির আইন রয়েছে। কিন্তু আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করেও অপরাধ নিরমূল করা সম্ভব হয়নি।

যেমন আমাদের দেশেই দিন দিন মনে হচ্ছে অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে বা টিভিতে এবং ফেইসবুকে প্রচুর অপরাধের খবর পাওয়া যায়। যেমন খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ, ঘুষ ইত্যাদি। ধর্ষণ, খুন এই ধরনের অপরাধ গুলত এখন এমন হয়ে গেছে যে এই গুলা কোন অপরাধই না। আর কিছু অপরাধ আমাদের সাধারণ মানুষের সামনেই ঘটে, যা আমরা দেখেও না দেখার মত থাকি। প্রতিবাদ করার সাহস হারিয়ে ফেলেছি আমরা।

আমাদের দেশে দিন দিন অপরাধ বেড়ে চললেও, এই বিশ্বে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে অপরাধ নেই বললেই চলে। আর কিছু দেশ তো তাদের জেলখানা গুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। কারন জেলখানায় অপরাধী রাখার জন্য ঐ দেশে কোন অপরাধীই খুজে পাওয়া যায় না। আর ঐ সকল দেশের আইন গুলো সঠিক ভাবে পালন করা হয়। এবং সবচেয়ে বড় কথা ঐ সকল দেশের মানুষ অনেক বেশি সচেতন। তার অনেক বেশি শান্তিপ্রিয়। আজকে এমন একটি দেশ সম্পর্কে বলব যে দেশে অপরাধের হার অনেক কম।

দেশটির নাম হচ্ছে সৌদি আরব। এটি একটি মুসলিম দেশ। সৌদি আরব দেশটিতে অপরাধের প্রবণতা অনেক কম। কিছু অপরাধ হয় না ঐ দেশে একদম তা নয়, কিন্তু কোন অপরাধ সংঘটিত হলে, আর অপরাধ প্রমানিত হলে, সেই দেশে সাথে সাথে অপরাধী কে শাস্তি দেওয়া হয়। আর সৌদি আরবে কোন অপরাধের শাস্তি অনেক কঠিন। সৌদি আরবে কোন সংবিধান নেই। সৌদি আরবের সংবিধান হচ্ছে কুরআন। সৌদি আরব হচ্ছে একটি রাজতন্ত্র ভিত্তিক একটি দেশ। এই খানে সবকিছু করা হয় কুরআন এর উপর ভিত্তি করে। কুরআন ই হচ্ছে তাদের আইন সবকিছু। এই দেশে অপরাধ প্রবণতা এতটাই কম যে, এই দেশের মানুষ নামাজের সময় হলে দোকান খোলা রেখেই মসজিদে চলে যায়, কিন্তু তাদের দোকানে কোন রকম চুরি হয় না। সৌদি আরবে মেয়েদের চোখ আর হাতের কব্জি ছাড়া তাদের শরীরের আর কিছু দেখা যাওয়ার নিয়ম নেই। তাই সৌদি মেয়েরা সবাই বোরকা পরিধান করে। ঐ দেশে কোন সিনামাহল নেই। ঐ দেশের অনেক মানুষ অন্য দেশে যায় শুধু মাত্র সিনামা দেখতে। কিছু দিন আগেও সৌদি আরবে মেয়েদের গাড়ি চালানো নিষেধ ছিল, যা গত বছর থেকে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয় খোলা ময়দানে বা কোন চার রাস্তার মরে, এবং সকলের সামনে। সৌদি আরবে ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে অপরাধীকে চার দিনের মধ্যে গুলি করে বা সবার সামনে শরীর থেকে মাথা ছুরির মাধ্যমে আলাদা করে শাস্তি দেওয়া হয়। এই শাস্তির অর্থ হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। আর যদি ধর্ষিত নারী একা বাসা থেকে বের হওয়া অবস্থায় ধর্ষিত হয় তাহলে সেই নারিকেও ২০ টি চাবুক মারা হয়। সৌদি আরবে চুরির অপরাধে হাতের কব্জি কেটে ফেলা হয়।

এছাড়াও সৌদি আরবে আরও বিভিন্ন অপরাধের বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবে অপরাধ প্রমানিত হওয়ার সাথে সাথেই শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলেই সৌদি আরবে অপরাধের প্রবণতা অনেক কম।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment