Now Reading
ভারতের কিছু রহস্যময় গুপ্তধন, যা এখনো কেউ খুঁজে পায়নি



ভারতের কিছু রহস্যময় গুপ্তধন, যা এখনো কেউ খুঁজে পায়নি

সোনার পাখি বলা হত ভারতকে, সেই প্রাচীনকাল থেকেই। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত সারা বিশ্বে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শুধুমাত্র রাজ রাজাদের গুপ্তধন এবং ধন-দৌলতের জন্য, আর এই জন্য বিদেশে আক্রমণকারীরা ভারতের ওপর বারংবার আকর্ষিত হয়েছে। তারা ভারতে অনেকবার আক্রমণ করেছে এই ধন সম্পদের লোভে আবার লুটপাট চালিয়েছে বলেও জানা যায়, আর এই লুটপাটের মধ্যে এমন কিছু গুপ্তধন রয়েছে যেগুলির আজ পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ জানবো রহস্যময় ভাবে হারিয়ে যাওয়া সেই গুপ্তধন সম্পর্কে। চলুন সেই সমস্ত গুপ্তধন গুলির ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি যেগুলো ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গিয়েছিল।

শোনভদ্র গুহার গুপ্তধনঃ তৃতীয় বা চতুর্থ শতাব্দীর মনে করা এই গুহাটি রাজগীরে অবস্থিত। রাজা বিম্বিসারের গুপ্তধন পর্যন্ত যাওয়া জন্য এই গুহার পশ্চিমে একটি দরজা আছে বলে জানা যায়। শঙ্খ লিপিতে একটি বার্তা লেখা আছে এই গুহার দেয়ালে, এইটি একটি নির্দেশনা বলে মনে করা হয় যা রাজা বিম্বিসারের গুপ্তধনের দিকে যাওয়ার রাস্তা নির্দেশ করছে। আশ্চর্যজনক ভাবে আজ পর্যন্ত অনুবাদ করা সম্ভব হয়নি এই লিপির। এই দরজাটিকে ইংরেজরা ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে কামানের গোলা দিয়ে। অনেকবার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়। এই কামানের গোলার দাগ এখনো এই গুহার দরাজার মধ্যে লেগে আছে।

উসমান আলীর গুপ্তধনঃ হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম ছিলেন মীর উসমান আলী। তিনি একই সাথে শাসন করতেন ইংল্যান্ডের মত বড় আকারের একটি রাজ্যকে, পৃথিবীর পঞ্চম ধনী ব্যক্তি বলে ফোর্ট ম্যাগাজিন ২০০৮ সালে তাকে আখ্যা দেন, এবং টাইম ম্যাগাজিন ১৯৩৭ সালে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে আখ্যা দিয়ে ছিলেন। কিং কোটি প্যালেসের ভূমিগত কক্ষে তার সমস্ত গুপ্তধন লুকিয়ে রাখা রয়েছে বলে জানা যায়, এবং জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি সেখানেই কাটিয়েছিলেন। ওনার ধন সম্পদে ছিল অনেক রত্ন ও হীরের তৈরি অলংকার। তৎকালীন তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার যার বর্তমান মূল্য এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার। হায়দাবাদ ১৯৪৮ সালে ভারতের অংশ হওয়ার পর এই বিপুল ধন সম্পদের মাত্র কিছু অংশই খুঁজে পেয়েছিল ভারতীয় সরকার, বাকি ধন সম্পদ কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে এর খোঁজ আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

নাদির শাহের গুপ্তধনঃ নাদির শা ছিলেন ১৭৩৬ সালে ইরানের শাসক। নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে ভারত আক্রমণ করেছিল। তিনি দিল্লির ওপর আক্রমণ করেছিলেন ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে, নাদির শা ব্যাপক নরহত্যা এবং দিল্লিতে লুটপাট চালায় সেই সময়। বলা হয়ে থাকে তিনি যা দিল্লি থেকে লুট করেছিলেন তার পরিমাণ এতটাই ছিল যে তার রালি ২৪০ কিলোমিটার লম্বা ছিল। ভারত থেকে লুটপাত করে ফেরার পথে নাদির শাহ সৈন্যরাই নাদির শাহকে হত্যা করে বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। এই বিপুল ধন সম্পদ আহমদ শাহ দুরানির দখলে চলে যায় নাদির শাহ মৃত্যুর পর। একটা সময় রহস্যময় ভাবে মৃত্যু ঘটে আহমদ শাহর। মৃত্যুর আগে আহমদ শাহ এই বিপুল ধন-সম্পদ গোপনে কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে মনে করেন স্থানীয় লোকেরা। এই সম্পদের মধ্যে প্রচুর মূল্যবান ধনরত্ন ছিল বলে মনে করা হয়। কিন্তু আজও পাওয়া যায়নি এই বিপুল ধন-সম্পদের সন্ধান।

গ্রসভ্যানারের গুপ্তধনঃ তখনকার সময় ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ মনে করা হতো গ্রসভ্যানারকে। এই জাহাজ ১৯ টি সিন্দুক দিয়ে ভর্তি ছিল যেখানে অনেক মুল্যবান ধনরত্ন এবং হিরে জহরত ভর্তি ছিল এবং সেই সাথে ২৬ লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা এবং ১৪০০০ সোনার বিস্কুট ছিল। এই জাহাজটি মাদ্রাজ থেকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার জন্য এই সমস্ত ধন সম্পদ নিয়ে শ্রীলঙ্কার পথে রওনা দিয়েছিল । কিন্তু এই জাহাজটি একটি পাহাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় সাউথ আফ্রিকার কেপটাউনের থেকে প্রায় ৭০০ মাইল দূরে। এবং এই ধন সম্পদ ঐ জায়গাতেই পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment