Now Reading
ধৈর্য একটি মহৎ গুন



ধৈর্য একটি মহৎ গুন

শুরুতেই কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে শুরু করবো,
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু না কিছু দিয়ে পরীক্ষায় ফেলবোই: মাঝে মধ্যে তোমাদেরকে বিপদের আতঙ্ক, ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে, সম্পদ, জীবন, পণ্য-ফল-ফসল হারানোর মধ্য দিয়ে। আর যারা কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য-নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করে, তাদেরকে সুখবর দাও। [আল-বাক্বারাহ ১৫৫]

আসলে ধৈর্য কি? ধৈর্য আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সাধারণ ভাবে বুঝি ধৈর্য অর্থ অপেক্ষা করা, বা নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি। অনেকের কাছে ধৈর্যের অর্থ অনেক রকম হতে পারে। যেমন-

ধৈর্যের একটি অর্থ কোন কিছুতে তাড়াহুড়া না করা, ভালো কিছুর জন্য তাড়াহুড়া না করা, ভালো কোন ফল পেতে বিলম্ব হলে হতাস হয়ে না পরা।

ধৈর্যের আরেকটি অর্থ হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য পুরনের জন্য সকল বাধা বিপত্তি সাধরে গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
দুঃখ-বেদনা, ভরাক্রান্ত ও ক্রোধান্বিত না হওয়া এবং সহিষ্ণু হওয়াও ধৈর্যের একটি অর্থ।
ধৈর্যের এক অর্থ হচ্ছে, সকল প্রকার ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার মোকাবেলায় সঠিক পথে অবিচল থাকা, শয়তানের উৎসাহ প্রদান ও নফসের খায়েশের বিপক্ষে নিজের কর্তব্য সম্পাদন করা।

ধৈর্য ধরে কাজ করলে আপনি অবশ্যই আপনি সাফল্য পাবেন। কারন কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে। কিন্তু আমরা অনেকই অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে হতাশ হয়ে পরি। ধৈর্য না থাকলে দীর্ঘ মেয়াদি কোন কাজ করা সম্ভব নয়। ভালো কিছু করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্য সব মানুষের মধ্যেই থাকে কারো কম আর কারো বেশি। ধৈর্য শক্তি কম থাকলে মানুষ খুব দ্রুতই রেগে যায়। কথায় আছে রেগে গেলেনত হেরে গেলেন।

এক ব্যক্তি নতুন একটি গাড়ি কিনেছেন। তিনি তার গাড়িটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন, আর তার ৬ বছরের ছেলেটা ধাতব কিছু দিয়ে গাড়িটিতে কিছু লিখছিলেন। লোকটি যখন তার ছেলেকে গাড়িটিতে কিছু লিখতে দেখলেন, তখন তার মেজাজ খুবই খারপ হয়ে গেল, কারন গাড়িটি ছিল একদমই নতুন। তখন লোকটি রাগ করে তার হাতে থাকা একটি বস্তু দিয়ে তার ছেলের হাতে একটি আঘাত করলেন। রাগের মাথায় লোকটি খেয়াল করেন নি যে, তিনি তার হাতে থাকা যে বস্তুটি দিয়ে ছেলের হাতে আঘাত করেছেন সেটি ছিল একটি লোহার পাইপ। যাইহোক ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লোকটি তার ছেলের বেডের পাশে বসে কাঁদছিল। কারন ঐ পাইপটির আঘাতে ছেলেটির হাতের চারটি আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। তারপর ছেলেটি তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলে, বাবা আমি আর গাড়িতে কখন লিখবনা, আমার আঙ্গুল গুলো কি আবার ফিরে পাবো বাবা। বাসায় ফিরে লোকটি পুরো গাড়িটা ভেঙ্গে ফেলে। তারপর ক্লান্ত হয়ে বসে পরে সে, এবং গাড়িতে তার ছেলের লেখাটি দেখতে পায়। যেখানে লিখা ছিল I love you dad. পরদিন সেই বাবা ভীষণ কষ্টে আত্মহত্যা করে। তার নিথর দেহর পাশে একটা চিরকুট ছিল, যাতে লিখা ছিল- ANGER AND LOVE HAVE NO LIMITS. THA CHOICE IS YOURS!

রাগের প্রধান কারণই হল ধৈর্য হারা থাকা। তাই আজ কিভাবে ধৈর্য বাড়ানো যায় তার কিছু উপায় সম্পর্কে আমরা জানবো-

মেডিটেশন (ধ্যান) করুনঃ মেডিটেশন বা ধ্যান ধৈর্য বাড়ানোর কার্যকরী একটি উপায়। ধ্যান মানুষের মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। তাদের ভঙ্গিকে ধীর স্থির করে, আর এটা হচ্ছে ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধির প্রধান লক্ষণ। মেডিটেশন বা ধ্যান করলে আত্ম নিয়ন্ত্রন বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষ চট করে রেগে উঠে না। এছাড়া ভালো মন্দ বিচারের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ধ্যান করুন দেখবেন আপানর ধৈর্য শক্তি অনেকটাই বেড়ে গেছে।

তুলনা করবেন নাঃ অন্যের সাথে কখনই নিজের তুলনা করবেন না। অন্যরা কি করল তাতে নজর না দিয়ে নিজের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। আপনার প্রত্যেকটি কাজের জন্য একটি লক্ষ্য হবে আর সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে কাজ করতে হবে।

মেনে নিতে শিখুনঃ আপনি যেটা আশা করবেন তাই সবসময় হবে তা কিন্তু নয়, তাই যে কোন কিছু মেনে নিতে শিখুন। মানুষ সবচেয়ে বেশি ধৈর্য হারিয়ে ফেলে যখন তিনি হতাশ হয়ে পরেন। আর এই হতাশা আসে যখন আপনি যেটা আশা করেছেন সেটা না পান। তখন আপনি হতাশ হয়ে পরেন। আর তারপর ধৈর্য হারান। আমাদেরকে বুঝতে হবে জীবনের সব আশা পূরণ হবে না।

ডাইরি লিখা এবং বই পড়ার অভ্যাসঃ ডাইরি লিখা ধৈর্য শক্তি বাড়ায়। কারন ডাইরি লিখতে ধৈর্য শক্তি লাগে। একই ভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই অভ্যাস দুইটি আপনি গড়ে তুললে আপানর ধৈর্য শক্তি অনেক বেড়ে যাবে।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment