Now Reading
গোর্খা পৃথক রাজ্য পেলে তাদের রাজধানী হবে দার্জিলিং



গোর্খা পৃথক রাজ্য পেলে তাদের রাজধানী হবে দার্জিলিং

ভারতের একটি প্রস্তাবিত রাজ্যের নাম গোর্খাল্যান্ড। ভারতীয় গোর্খা সম্প্রদায় দীর্ঘদিন থেকে জাতি ও ভাষাগত অধিকারের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের পাহাড়ী জনগোষ্ঠী গোর্খাল্যান্ড দাবী করে আসছে। তারা পৃথক রাজ্য চায় ভারতীয় গোর্খা হিসেবে। গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট এই দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলে। পরবর্তীতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অধীনে গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলন ২০০৭ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত অঞ্চল দার্জিলিং গোর্খাল্যান্ডের রাজধানী হবে, যদি কখনো গোর্খা তাদের পৃথক রাজ্য পায়।

পাহাড়ি মানুষ পূনরায় সাইমন কমিশনের কাছে ১৯২৯ সালে একই দাবী পেশ করে। ১৯৩০ সালে পাহাড়ীমানুষের এসোসিয়েশন, গোর্খা অফিসার্স এসোসিয়েশন এবং কুরসেওং গোর্খা লাইব্রেরী যৌথভাবে স্টেট অভ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি স্যামুয়েল হোয়ারের কাছে বাংলা থেকে পৃথক করার পিটিশন জমা দেয়। রূপ নারায়ন সিনহার নেতৃত্বে ১৯৪১ সালে হিলম্যানস এসোসিয়েশন দার্জিলিংকে পৃথক করে প্রধান কমিশনারের রাজ্য হিসেবে তৈরী করার আহবান জানান স্টেট অভ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি লর্ড পেথিক লরেন্সের প্রতি বাংলা প্রদেশ থেকে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতার একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জনমুক্তি মোর্চার আন্দোলনের সূত্রপাত হয় । দশম শ্রেণি পর্যন্ত রাজ্যের সব বিদ্যালয়ে সব ছাত্র-ছাত্রীর বাংলা ভাষা পড়তে হবে বলে কদিন আগে ঘোষনা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। কারণ, দার্জিলিংয়ের মূল ভাষা নেপালি। বাংলা ভাষাকে দার্জিলিংয়ের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে মানবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিমল গুরুং। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে সব বিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা পড়তে হবে। বাংলা ভাষা এখানে ঐচ্ছিক হিসেবে পড়তে হবে বলে পরবর্তীকালে মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিংয়ের একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন।

স্বাধীন ভারতে এই অঞ্চলে অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ (ABGL) প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যারা এই সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের দাবীকে সমর্থন করে। ১৯৫২ সালে এন.বি. গুরুং এর দনেতৃত্বে দলটি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সাথে কালিম্পংয়ে সাক্ষাৎ করে এবং বাংলা থেকে পৃথক হওয়ার দাবী জানায়।
১৯৮০ সালে ইন্দ্র বাহাদুর রাইয়ের নেতৃত্বে দার্জিলিংয়ের প্রান্ত পরিষদ তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দার্জিলিংয়ে নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা লিখে পাঠায়।

সুভাষ ঘিসিং এর নেতৃত্বে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (GNLF) ১৯৮৬ সালে গোর্খাল্যান্ডের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে সহিংস আন্দোলন শুরু করেছিলো । যার ফলে দার্জিলিং গুর্খা হিল কাউন্সিল (DGHC) নামে একটি আধাস্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয় ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং জেলার নির্দিষ্ট এলাকা শাসনের জন্য । একটি নতুন দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (জিটিএ) ২০০৭ সালে পূনরায় গোর্খাল্যান্ডের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবী উত্থাপন করে। একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যার অধীনে DGHC এর পরিবর্তে গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন নামে একটি আধাস্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে ২০১১ সালে জিজেএম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সংগে।
বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। সিকিম দানপত্রের মাধ্যমে ১৮৩৫ সালে দার্জিলিং পাহাড়ের ১৩৮ বর্গমাইল (৩৬০ কিমি) এলাকা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে দিয়ে দেয়। সিঞ্চুলা চুক্তি পাশ হয় ১৮৬৪ সালের নভেম্বর মাসে, যা বাংলা ডুয়ার্স, যা মূলত কুচবিহার রাজ্যের অধীনে ছিলো এবং আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভুটান অধিগ্রহণ করে, কালিম্পংসহ কিছু পাহাড়ি অঞ্চল ভুটান ব্রিটিশদের কাছের প্রত্যপণ করে। বর্তমান দার্জিলিং জেলা বলা যেতে পারে ১৮৬৬ সালেই তার বর্তমান রূপ অর্জন করে মানচিত্রে যার আয়তন ১২৩৪ বর্গমাইল। সুভাষ ঘিসিং ১৯৮০ সালে ভারতের মধ্যে দার্জিলিং পাহাড় এবং দার্জিলিং সংলগ্ন ডুয়ার্স অঞ্চল, শিলিগুড়ি তরাই এলাকা নিয়ে একটি রাজ্য তৈরির দাবি উত্থাপন করেন। সহিংসতায় রূপ নেয় দাবিটি এবং নিহত হয় ১২০০ এর বেশি মানুষ। ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং গুর্খা হিল কাউন্সিল (DGHC) গঠিত হয় এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment