Now Reading
ইংরেজি ভাষা



ইংরেজি ভাষা

আমরা সাধারণত বাংলায় কথা বলি। কারন বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। আমাদের জন্মের পর থেকেই এই ভাষা শুনে আমরা অভ্যস্ত তাই এই ভাষাটা আমরা বড় হওয়ার সাথে সাথে শিখে ফেলি, এবং এই ভাষাতেই কথা বলি। এবং আমাদের বাংলাদেশর মানুষ বাংলা ভাষাতেই কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করি।

তাই আমরা হয়তো অনেকেই ভাবি আমাদের চাকুরির ইন্টার্ভিউ গুলো যদি বাংলাতে হত ভালো হত। কারন আমাদের এখন চাকুরী বাজারে ভালো কোন চাকুরির ইন্টার্ভিউ নেওয়া হয় ইংরেজির মাধ্যমে। কারন ইংরেজি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ভাষা। আর সারা বিশ্বে সকল কাজকর্মে ইংরেজি ভাষাটাই ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু আমরা সাধারণত ইংরেজি ভাষাটায় সাচ্ছন্দ বোধ করি না। আর অনেক সময় দেখা যায় আমাদের অনেক ভালো ভালো চাকুরী আমাদের হাত থেকে চলে যায় কারন আমরা ইংরেজিতে দক্ষ নই।

অন্য কারো থেকে ইংরেজি ভাষাটা শোনার পর আমরা বুঝতে পারলেও, আমাদের মূল সমস্যা হয় বলতে গিয়ে। অন্য কারো সামনে যখন আমরা ইংরেজি বলতে যাই তখন আমরা আটকে যাই। আর আমরা যখন অন্য কারো সাথে ইংরেজি বলতে যাই তখন আমরা খুব সচেতন হয়ে পরি, কিছুক্ষণের জন্য একটু ঘাবড়ে যাই। তাই এখানে আমাদের আসল সমস্যা হল, আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব।

আর ইংরেজির এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের দেশে এবং অনলাইনে অনেক কোচিং সেন্টার, শিক্ষক আছেন যারা আমাদের এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে থাকেন। আর এই সকল শিক্ষক আমাদের সাধারণত প্রথমে গ্রামার শিক্ষা দেন যেমন কোনটা noun, কোনটা varb, তারপর tense ইত্যাদি। যেটা আমরা সবাই শিখেও ঠিক মত ইংরেজি বলতে পারি না। আসলে এই সমস্যার সমাধান পেতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে এই সমস্যার মূল কারন কি। আমরা কেন ইংরেজি ভাষাটা শিখতে পারছি না।

আচ্ছা আপনি একটু চিন্তা করে দেখেন, আপনি যখন আপনার মাতৃভাষায় কথা বলেন তখন আপনি চিন্তাও করেন মাতৃভাষায়। কিন্তু আপনি যখন ইংরেজি ভাষায় কথা বলেন তখন যে কথাটা ইংরেজি ভাষায় বলেন সেটা আগে বাংলা ভাষায় চিন্তা করে তারপর সেটাকে আবার ইংরেজিতে চিন্তা করে বলেন। আর এটাই আমাদের ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলার ধরনটাকে নষ্ট করে দেয়।
আমাদের মস্তিষ্কে আমাদের দৈনিন্দন কাজের সাথে মিল আছে এমন কিছু শব্দ যুক্ত থাকে, ঠিক তেমনি ইংরেজি শব্দও যুক্ত থাকে। কিন্তু বাংলা ভাষার শব্দ গুলো আগে আমরা চিন্তা করে ফেলি, পরে সেটার ইংরেজি চিন্তা করি। যেমন
আপনি কোন গাছের দিকে তাকালে, আপনার মাথায় যে শব্দটি আগে আসবে সেটি হল গাছ, এরপর আসবে tree. কারন এটা আমাদের অভ্যাস যে আমাদের মাথায় আগে মাতৃভাষাটিই আসে।

আর এই অভ্যাসটা যদি আমরা পরিবর্তন করতে পারি তাহলে বাংলা ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষা করতে আমাদের মস্তিষ্কে যে সময়টা ব্যয় হয় সেটা আমরা বাচাতে পারি। আর তখনই আমরা সাবলীল ভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারব।
তাহলে এইখানে যেই বিষয়টা উঠে এসেছে সেটা হল আমাদের অভ্যাস।

আপনি একটু চিন্তা করে দেখুনতো ছোট বেলায় আপনি আপনার মাতৃভাষাটা কিভাবে শিখেছিলেন? আর সেই কৌশল গুলো যদি এখানেও প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে আপনি খুব সহজেই ইংরেজি ভাষাটাও শিখে ফেলতে পারবেন।

আপনি যদি একটু খেয়াল করে দেখেন আমাদের মাতৃভাষা শেখার কৌশল ছিল দুইটি।
১। Observation ( পর্যবেক্ষণ )
2।Practice ( অনুশিলন )

Observation ( পর্যবেক্ষণ ): প্রতিটি বাচ্চাই হল খুব ভালো পর্যবেক্ষক। তাদের কোন কাজ থাকে না, তাই তারা পুরো সময়টাই তাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া সবকিছু খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে, এবং সেগুলো করার চেষ্টা করে। প্রথম বার হয়তো তারা ফেল করে, তারপর আবার চেষ্টা করে, আবার ফেল করে, আবার চেষ্টা করে, এই ভাবে তারা বিভিন্ন কিছু শিখে ফেলে।

কিন্তু আপনি কিভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন কারন আপনার আশেপাশে যারা বসবাস করে তারা সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাই আপনি ইংরেজি মুভি দেখতে পারেন, ইংরেজি নিউস দেখতে পারেন, এইভাবে আপনি অনেক বেশি ইংরেজি শব্দ শিখতে পারবেন এবং কিভেবে কথা বলতে হয় সেটা শিখতে পারবেন।

2।Practice ( অনুশিলন ): অনুশিলন করার একটা উপায় হচ্ছে আপনি প্রতিদিন ডায়েরি লিখতে পারেন। কারন ডায়েরি লিখতে আপনাকে ভাবতে হবে আর এটা আপনাকে ইংরেজি শিখতে সাহায্য করবে। অন্য আরেকটা উপায় হল আপনি নিজে নিজে আপনার মনের সাথে ইংরেজিতে কথা বলার অনুশিলন করা।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment