Now Reading
যেই মৃত শরীর গুলো মানুষকে অবাক করে দিয়েছিল



যেই মৃত শরীর গুলো মানুষকে অবাক করে দিয়েছিল

জন্ম গ্রহণ করলে মৃত্যু বরন করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যে সে জন্ম গ্রহণ করেছে কিন্তু তার মৃত্যু হয়নি। কোন মানুষ জন্ম গ্রহণ করলে তাকে এক দিন না এক দিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে।

আর আমাদের পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ রয়েছে, সেই সাথে এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মও রয়েছে। আর মৃত মানুষের শরীর নিয়ে বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন রকম নিয়ম-কানুন, রীতিনীতি, প্রথা চালু আছে। এবং আমরা যুগের পর যুগ ধরে সেগুলো পালন করে আসছি। যেমন ইসলাম ধর্মে মৃত মানুষের শরীরকে কবর দেওয়া হয়। মানে মাটি চাপা দেওয়া হয়। হিন্দু ধর্মে মৃত মানুষের শরীরকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। খ্রিষ্টান ধর্মে মৃত মানুষের শরীরকে কফিনের মধ্যে ঢুকিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

কিন্তু পূর্বে হাজার হাজার বছর আগে মৃত মানুষের শরীর নিয়ে আরও বিভিন্ন প্রথা চালু ছিল। যেমন কয়েক হাজার বছর পূর্বে মিশরে মানুষ মারা গেলে তাকে এক ধরনের সাদা কাপড় দিয়ে সমস্ত শরীর পেঁচিয়ে, একটি কাঠের বাক্সে ভরে রাখা হত। আর কিছু দিন পর এই মৃত শরীর মমিতে পরিণত হত।

আমরা বিভিন্ন হলিউড বা অন্যান্য দেশের বিভিন্ন মুভিতে মমি দেখেছি। যে সকল মমি হাটতে পারত, কথা বলত, আবার যুদ্ধও করতে দেখেছি অনেক মমিকে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা মমি পেয়েছিলেন। ঐ সকল মমির মধ্যে কিছু মমি পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল। আজ আমি ঐ রকম কিছু মমি নিয়েই কথা বলব।

Rosalia lombardo ( রোসালিয়া লোম্বার্ড ): রোসালিয়া লোম্বার্ড একটি ছোট মেয়ের নাম। তার বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। নিউমনিয়া রোগের কারনে মেয়েটি মারা যায়। মেয়েটি তার বাবা মায়ের খুবই আদরের মেয়ে ছিল। তাই মেয়েটি মারা যাওয়ার পর তার বাবা মা খুবই ভেঙ্গে পরে। তারা চেয়েছিল মৃত্যুর পরও তাদের মেয়েকে প্রতিদিন যাতে চোখের সামনে দেখতে পায়। তারপর তারা তাদের মেয়েকে একটি কাঠের বাক্সে রেখে দেয়। কিন্তু মেয়েটির মৃত্যুর ৫৮ বছর পর মেয়েটিকে যখন একটি বাক্স থেকে আরেকটি বাক্সে রাখা হচ্ছিল তখন কর্মচারীরা মেয়েটিকে চোখের পলক ফেলতে দেখে। সবাই এটি দেখে অবাক হয়ে যায়। মৃত্যুর এত বছর পরও মেয়েটি কিভাবে পলক ফেলল। এই ঘটনাটি যখন বিশ্ববাসি জানাজানি হয়ে যায়, তখন হাজার হাজার মানুষ সেই জায়গায় ভীর করতে শুরু করে মেয়েটিকে দেখার জন্য। আর এই মৃত শরীরকে স্লিপিং বিউটি নাম দেওয়া হয়েছে।

Juanita, the “Peruvian Ice Maiden.” She was found at 20,000’ on Mt. Ampato, Peru. The Inca would sacrifice a child on top of many mountains in their realm.Mummy juanita ( মমি জুয়ানিটা ): একটি বরফের পাহাড়ে এই মমিটি খুজে পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর বলেছে যে ১৪৫০ থেকে ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে দেবতাকে খুশি করার জন্য এই ১৫ বছরের মেয়েটিকে বলি দেওয়া হয়। এই মমিটিকে ৬ হাজার ফুট উঁচু একটি বরফের পাহাড়ে খুজে পাওয়া গিয়েছিল। এত বছর বরফে থাকার কারনে মেয়েটির শরীর সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল। মমিটি দেখে মনে হবে, কেউ যেন বসে ঘুমিয়ে আছে। এই মমিটিকে আইস মেড নামেও ডাকা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

San pedro mummy ( সান পেদ্রো মমি ): এটি ১৯৩২ সালের কথা। যখন দুই জন বন্ধু আমেরিকায় একটি পরিত্যক্ত জায়গায় গুপ্তধন খুজতে গিয়েছিল। তারা গুপ্তধন পাওয়ার জন্য সেই জায়গায় বোমার বিস্ফড়ন করছিল। তারা গুপ্তধন পায় নি কিন্তু তারা একটি গোপন কক্ষে যাওয়ার রাস্তা পেয়ে গিয়েছিল। যা তাদের বিখ্যাত করে দিয়েছিল। তারা সেই ঘরে গিয়ে যা দেখতে পেয়েছিল তা সত্যই অবাক করে দিয়েছিল সবাইকে। কারন তার সেই জায়গায় সাড়ে ৪ ইঞ্চির একটি মমি পেয়েছিল। মমিটির ওজন ছিল মাত্র ৪০০ গ্রাম। মমিটি ধ্যানের মত করে বসে ছিল। এই মমিটি দেখতে সাধারণ মানুষ থেকে একবারেই ভিন্ন ছিল। এতো ছোট মানুষ হয়তো পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত আর জন্মায়নি। বিজ্ঞানীরা মমিটির ডি এন এ টেস্ট করার পর তারা নিশ্চিত হয় যে এটি একটি মানুষেরই মমি।

3500 years old mummy: ২০১২ সালে একদল বিজ্ঞানী সাড়ে ৩ হাজার বছরের পুরনো এই মমিটি খুজে পায়। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর জানা যায় এটি একটি মহিলার মমি ছিল। কিন্তু পরীক্ষা করার সময় তারা যা জানতে পারে, যেটা জানার পর পুরো বিশ্ব অবাক হয়ে গিয়েছিল। পরীক্ষা করার পর তারা জানতে পারে যে এই মহিলার মস্তিষ্কে কিছু একটা ঢুকানো হয়েছিল। এই মহিলা জীবিত থাকা অবস্থায় তার মস্তিষ্কে কিছু একটা ঢুকানো বা বের করা হয়েছিল। হতে পারে এটা কোন একটা চিকিৎসা পদ্ধতি। সবাই এটা ভেবে অবাক হয়ে গিয়েছিল যে সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে কিভাবে এটি সম্পূর্ণ করা হয়েছিল, যেটা বর্তমান সময় করতে গেলেও বড় বড় ডাক্তারদের ঘাম ঝরে যায়।

700 years old mummy: এই মমিটি পাহাড়ে বসবাস করা ইনকা সভ্যতার একটি মেয়ের মমি। ৭ শত বছর পূর্বে একটি মহামারীতে এই মেয়েটির মৃত্যু হয়ে যায়। কিন্তু ৭ শত বছর পর যখন মেয়েটির মমিটি খুজে পাওয়া যায়, তখন সবাই অবাক হয়ে যায়। কারন এত বছর পরও মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন অংশ একদম টাটকা ছিল। এমনকি তার ফুস্ফুস এবং হৃৎপিণ্ডে রক্ত পর্যন্ত ছিল। এটি দেখে এখনকার বিজ্ঞানীরা পর্যন্ত অবাক হয়ে গিয়েছিল যে ৭ শত বছর পরও এটি কি করে সম্ভব।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment