Now Reading
বিশ্বের হিংস্র কিছু নারী



বিশ্বের হিংস্র কিছু নারী

নারীর হৃদয় মানে কোমল হৃদয়। এই কোমলতায় যখন হিংস্রতা এসে জায়গা করে নেয় তখন ব্যাপারটি কতটা ভয়াবহ হবে একবার কল্পনা করে দেখেছেন? অনেকের হইতো গায়ের লোম শিউরে উছেছে এতক্সনে। আজ জনবো সেসব নারীর কথা, যাদের হৃদয়ে কোমলতার কোন ছায়া নেই বরং সেখানে জায়গা করে নিয়েছে হিংস্রতা।

ক্যাথরিন নাইটঃ ভদ্রমহিলা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৫ সালে। ক্যাথরিন হল প্রথম অস্টেলিয়ান নারী যাকে প্যারল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। কারণ সেখানে মৃত্যুদন্ডের বিধান ছিলনা। মূলত তিনি যা করেছেন তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস হল- ক্যাথরিন নাইট পারিবারিক কোন এক ঝামেলায় তার প্রথম স্বামীর সব দাঁত উপরে ফেলে দেন। একই কারণে তার দ্বিতীয় স্বামীর সামনে তার আট সপ্তাহ একটি কুকুরের জিব্বা কেটে নেন এবং পরে কুকুরের চোখ উঠান। এর কয়েক মাস পরে তিনি একটি গোপন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এ্বং তার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি ঐ ব্যাক্তিটিকে ৩৭ বার চুরিকাঘাত করে খুন করেন। এর ক্যাথরিন ঐ ব্যক্তির মৃতদেহের চামড়া ছাড়িয়ে তা ঝুলিয়ে রাখেন নিজের বেডরুমের দরজার হুকের সাথে। এছাড়াও মৃতদেহ থেকে মাথা কেটে নিয়ে স্যুপ রান্না করে বাচ্চাদের জন্য রেখে বাইরে চলে যান তিনি। কিন্তু বাচ্চারা বাড়ী ফেরার আগেই পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

ইরমা গ্রেসঃ ভদ্র মহিলা ১৯২৩ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন হিটলারের রাভেন্সব্রুক ক্যাম্পের সুপারভাইজার। এরপর সেখান থেকে বদলী হয়ে আসেন আউসুইটয ক্যাম্পে। সেখানে তিনি দায়িত্ব পান ৩০ হাজার বন্দি ইহুদী নারীর। তার কাজের মধ্যে ছিল পোষা কুকুর দিয়ে নারী হত্যা, বিকৃত যৌনাচার, লাইন ধরে নারীদের দাঁড় করিয়ে গুলি প্র্যাকটিস, অবাধ্য বন্দীদের গ্যাস চেম্বারে প্রেরণ। তার এই রকম হত্যাজজ্ঞের জন্য তিনি Bitch of Belsen নামে ব্যাপক পরিচিতি পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যু কার্যকর করা হয়।

ইস কচঃ এই মহিলা ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কার্ল কোচের স্ত্রী। স্বামীর ক্ষমতা ছাড়াও তিনি নিজে ছিলেন বুচেনওয়ার্ল্ড কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সুপারভাইজার। সেই সুবাদে সেখানকার বন্দীদের মধ্যে যাদের শরীরে ট্যাটু আঁকা থাকতো তাদের, আর যাদের চামড়া সুন্দর তাদের আলাদা করে রাখতেন। তারপর যাদের শরীরে ট্যাটু থাকতো তাদের খন করে ট্যাটুটি চামড়া সহ কেটে সংরক্ষন করতেন। শুধু তাই না শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গও তিনি সংগ্রহ করতেন। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় শখ ছিল সুন্দর চামড়া ওয়ালা বন্দীদের হত্যা করে তাদের শরীরের চামড়া দিয়ে কুশন কভার, সাইড ল্যাম্প, বালিশের কভারসহ অন্যান্য জিনিস বানানো। ১৯৪৭ সালের ৩০ শে জুন তার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। কুখ্যাত এই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৪৩ সালের ২৪ শে আগস্ট। কিন্তু প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যান। পরবর্তীতে ১৯৪৫ সালের ৩০ শে জুন আমেরিকান সৈন্যরা তাকে আবার গ্রেফতার করে। শুরু হয় তার বিচার। এবার তার কুকৃর্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। আর পাওয়া যায় তার সেই মানুষের চামড়ার তৈরি জিনিসপত্র। জেলে থাকাকালীন ১৯৬৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় এই বিকৃত মস্তিষ্কের মহিলা।

বেলে গুনেসঃ ১৮৫৯ সালে আমেরিকায় জন্ম নেন। বেলে গুনেস ছিলেন উচ্চতায় ৬ ফুট এবং তার ওজন ছিল প্রায় ৯১ কেজি। তিনি একে একে খুন করেন তার দুই স্বামী এবং সন্তানদের। স্বামী-সন্তান ছাড়াও আরও প্রায় ডজনখানেক মানুষকে তিনি বিভিন্ন সময় হত্যা করেন। এসব হত্যা করার কারন অন্য কিছু নয়, ইন্সুরেন্স পলিসি আর বিশাল টাকার লোভ। স্বামী-সন্তানদের হত্যা করে ইন্সুরেন্স পলিসির টাকার জন্য আর বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে আরও যাদের হত্যা করেন তাদের টাকা আর সম্পত্তি হাতানোই ছিল মূখ্য কারণ। আর তাই আমেরিকান ক্রিমিনাল ইতিহাসে তার নাম দেয়া হয় Bluebeard হিসেবে।

ম্যারি এন কটনঃ এই ভদ্রমহিলা ১৮৩২ সালে জন্মগ্রহন করেন। ম্যারি তার দুই স্বামী, একটা বয়ফ্রেন্ড, একটা ফ্রেন্ড, ১২ টা সন্তানসহ প্রায় ২১ জনকে খুন করে আর্সেনিক বিষ খাইয়ে। পরে ব্যাপারটা ধরা পরলে ১৮৭৩ সালে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment