Now Reading
রেড লাইট জোন এর ভারত



রেড লাইট জোন এর ভারত

ভারতের কয়েকটি রেড লাইট এরিয়া। যেখানে টাকার জন্য আজো বিক্রি হয় মেয়েদের দেহ। এখানে বিব্রতবোধ করার মত কোন কথা নেই। কারণ আজ আমরা যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, তা কারো কাছে নতুন নয়। আপনি ইচ্ছেকৃত বলেন আর অনিচ্ছাকৃত বলেন। যার জন্য মহামারি বা মা হওয়া অভিশাপ চেয়েও কম নয়। পতিতা সমাজে কিছু এমন জায়গা আছে যেখানে মেয়ে জন্মালে খুশি মানানো হয় আর ছেলে জন্মালে তাকে মুখ চেপে হত্যা করা হয়। আজো এমন কিছু এলাকা আছে যেখানে মেয়েদের চার পয়সা কামাতে নিজের শরীর বিক্রি করতে হয়। এটা বদনামি গলির ঠিকানা। যেখানে দেহের সওদাগরেরা না জানি কতগুলো কুমারী মেয়ের জীবন ধংশ করে দিয়েছে। কেউ হইতো ভালবাসার স্বপ্ন দেখিয়ে ফাঁসিয়েছে। কেউ আবার রহস্যময় আচরণ করে ধোকা দিয়েছে। আবার কাউকে তো জোর জবস্তি নিয়ে এসে এই ধান্দায় ঢুকানো হয়েছে। একটি পরিসংখ্যানে জানা যায় যে, ইন্ডিয়াতে প্রতি ১৮ মিনিটে একটি মেয়ে মিসিং হয়। আবার এর মধ্যে কিছু মেয়েদের দেহের কিনা বেচার এই চক্রে ফেলে দেওয়া হয়। তাহলে চলুন জেনে নিই ভারতে এমন ১০টি রেড লাইট কোথায় রয়েছে। যেখানে শরীর বেচে মেয়েদের জীবন চালানো হয়। যার মর্মান্তিক খবরের চর্চা শুধু ভারতেই নয়, শুধু এশিয়া জুড়ে নয় বরং পুরো দুনিয়া জুড়ে করা হয়।

সোনগাছি কলকাতাঃ ভারতের পূর্ব অঞ্চলে সবচেয়ে বড় মহানগরের কলকাতা সোনাগাজী এলাকায় যা কিনা এশিয়ার সবচেয়ে বড় রেড লাইট এরিয়া মানা হয়। একটি পরিসংখ্যান মতে এখানে প্রায় ২৫,০০০ পতিতা কাজ করে। ধারণা করা হয় যে এখানে প্রায় ১১ হাজারের বেশি যৌনকর্মী আছে। এখানে কিছু মহিলা জীবন যুদ্ধে হার মেনে এই বাজারে এসে পৌঁছে গেছে। এখানে থাকা মেয়েদের জীবন একটা জঙ্গলে থাকা পশু থেকেও খারাপ হয়ে থাকে।

জিবি রোড, দিল্লীঃ ভারতের রাজধানীতে অবস্থিত জিবি রোড দিল্লীর সবচেয়ে বড় রেড লাইট এরিয়া মানা হয়। ইতিহাসের পাতায় দেখলে জানা যায় যে, এখানে মোগল আমল থেকে ৫টা রেড লাইট এরিয়া বা কৌটা ছিল। পরে ইংরেজরা এর ৫টি ক্ষেত্রকে এক করে এর নাম দেয় জিবি রোড। জানা যায় এখানে একটি কক্ষে কয়েকটি কেবিন আছে। যেখানে দৈহিক কারবার প্রদান করা হয়। এখানকার বেশির ভাগ মেয়ে পশ্চিম বঙ্গ, ঝাড়ু খন্ড, বিহার আর নেপাল থেকে আনা হয়।

রেশামপুরা, গোয়ালিয়ারঃ মধ্য প্রদেশে গোয়ালিয়া শহরের রেশামপুরা এলাকা যেটা একটি সবথেকে বড় রেড লাইট এরিয়া এখানকার। এখানে দেহ ব্যবসার জন্য দেশি নারীর সাথে সাথে বিদেশী নারী পাওয়াও অনেক সাধারণ ব্যাপার। এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়, এখানে মডেল এন্ড কলেজ গার্লসও অংশ নেয়। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, কলেজ অফিসও এখানে খোলা আছে। আসল ব্যাপার হলো এই টেকনোলজির যুগে মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে কল গার্লসের বুকিং প্রথমে হয়। ই-মেইল বা মোবাইলে গ্রাহকের ডেলিভারি স্থান নিশ্চিত করা হয়। এখানে প্রায় ২ লক্ষ দেহকর্মীর পরিবার আছে। যা মধ্য এশিয়ার মধ্যে সবথেকে বড় মানা হয়।

কমাথিপুর মুম্বাইঃ এশিয়ার সবথেকে পুরোনো রেড লাইট এরিয়া। যেটা ফ্যাশন ফিল্ম আর ব্যবসার শহর মায়ানগর একটি এলাকায় কমাথিপুরা। পুরো দুনিয়ার প্রমোগ রেড লাইট এরিয়াতে চর্চিত। বলা হয় এটার ইতিহাস ১৯৯৫ সালে পুরোনো মুম্বাই এর সাথে সাথে শুরু হয়। আজো কামাথিপুর দেহ ব্যবসার জন্য ভারতে ভাল পরিচিতি আছে।

মীরাগঞ্জ, এলাহাবাদঃ উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে রয়েছে এই রেড লাইট এলাকা মীরাগঞ্জ। যৌন আনন্দের জন্য এখানে অত্যন্ত সুন্দরী পতিতা পাওয়া যায়। প্রতিটা ঘরের বাহিরে মহিলারা সেজে গুজে পথিক পুরুষদের কাছে ডাকে। কিন্তু এই মীরাগঞ্জ জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি এবং অবৈধ পাচারের জন্য দৃশ্যত বিখ্যাত। এখানে পুরো ইমারতে ঢাকা বন্ধ গলিতে অবাধ ভাবে এই ব্যবসা চলে। এখানে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং নেপাল ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকেও পতিতা রয়েছে। এটি এখানকার আগতদের কাছে নরক। তাছাড়া এখানকার দেহ ব্যবসা প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো মানা যায়।

সারা বিশ্বের অন্যতম একটি পুরোনো পেশা হচ্ছে পতিতাবৃত্তি। প্রস্টিটিউশন বা প্রতিতাবৃত্তি এই শব্দ গুলো শুনলেই আমাদের মাঝে এক খারাপ লাগা কাজ করে। কারণ একজন মেয়েরে কুমারীত্ব থেকে শুরু করে সম্মানবোধ পর্যন্ত সবকিছু সরাসরি জড়িত রয়েছে এর মধ্যে। কিন্তু পতিতাবৃত্তি তথা দেহ ব্যবসা প্রতিটা দেশেই কম বেশি চলছে এবং এটি যেকোন দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা, যা কোন দেশেই অস্বিকার করতে পারবে না। আমাদের দেশেও এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে চলছে এই রমারম দেহ ব্যাবসা। কোন কোন মেয়ে জোরপূর্বক করানো হচ্ছে এসব কাজ, আবার কোন কোন মেয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশের অনেক অলিতে গলিতে রয়েছে এসমস্ত পতিতালয়। যেখানে দিনে একাধিক বার কবর দিতে হচ্ছে অনেক মেয়ের পুষে রাখা স্বপ্ন। নষ্ট হচ্ছে সমাজ, দেশ, সবশেষে পুরো বিশ্ব।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment