Now Reading
বিচিত্রময় স্কুলের রহস্যময় নিয়ম কানুন



বিচিত্রময় স্কুলের রহস্যময় নিয়ম কানুন

আমাদের প্রায় ছোট বেলার স্মৃতি মনে পরে। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়ার দিনগুলোকে আমাদের বেশি মনে পরে। সকালে ভোরে ভোরে উঠা, স্কুলের ইউনিফর্ম পরা, ব্যাগ গুছানো, টিফিন বক্স নিয়ে যাওয়া, হোমওয়ার্ক আর পানিশমেন্ট। এ সকল বিষয় একটি ব্যাক্তির দজীবনে কম বেশি ঘটেছে। তার সাথে সবথেকে ইম্পরট্যান্ট বিষয় এই যে, স্কুলের অনেক অনেক রুলস, যেমন নক কাটা, চুল ছোট করা, স্কুল সময়মত আসা যাওয়া, স্কুল ড্রেস ক্লিন রাখা, হোমওয়ার্ক কম্পিলিট করা, স্কুলে ফোন ইউজ না করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলা কিছু কমন রুলস, যা কিনা লম্বা সময় ধরে ফলো করা হচ্ছে। কখনো কখনো আমরা এই রুলস এর কারণে অনেক বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হয়েছে। রুলস ভঙ্গ করার কারনে অনেক সময় আমাদের শাস্তিও পেতে হত। যেখানে রুলস এর কথা বলা হয়, সেখানে দুনিয়া ব্যাপি কিছু বিদ্যালয়ে বিচিত্রময় কিছু রুলস রয়েছে। আর আপনি এটা শুনে অবাক হবেন যে, এর মধ্যে কিছু স্কুলে এমন আজগুবি আজগুবি নিয়ম প্রচলিত আছে যে, যা শুনে আপনি বিস্মিত না হয়ে পারবেন না। কিছু নিয়ম খুব কঠিন, আবার কিছু নিয়ম আছে খুব বাজে। আজ জানবো দুনিয়াময় কিছু স্কুলের আজব ও বিচিত্রময় কিছু নিয়ম কানুন সম্পর্কে।

বাথরুম কুপন্সঃ নিউইয়র্ক সিটিতে বাচ্চাদের সপ্তাহিক তিনবার বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়। এর পিছনে মূল কারণ বাচ্চারা যেন তাদের মূল্যবান সময় ক্লাসের বাহিরে বাথরুমে যাওয়ার জন্য নষ্ট না করে। পাশাপাশি বাথরুম যাওয়ার মিথ্যা বাহানা যেন না করে। একজন ব্যাক্তি তিনবারের বেশি যেন বাথরুম না যায় এবং টিচারও যেন এই নিয়ম ঠিকমত পালন করতে পারে তাই প্রতিটি বাচ্চাকে বাথরুমে যাওয়ার জন্য সপ্তাহে তিনটি বাথরুম কুপন দেওয়া হয়। আর যদি কারো কুপন হারিয়ে যায়, তাহলে বুঝতেই পারছেন তাদের কি অবস্থা হয়।

স্লিপিং ইন ক্লাসঃ আপনার নিশ্চয় জানা আছে, ক্লাসে ঘুমানোর নিয়ম কোন স্কুলে নাই। আর যদি আমাদের ক্লাসের টিচার আমাদের ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে তাহলেতো বুঝতেই পারতেছেন। কিন্তু চায়না স্কুলে এমনটা নেই, তাদের স্কুলে বাচ্চাদের ঘুমানোর পারমিশন দেওয়া আছে। তাদের ঘুমানোর জন্য আলাদা করে টাইম করে দেওয়া হয়। যদি সেসময় ইচ্ছে হয়, তাহলে ঘুমানোর জন্য তখন স্টুডেন্টরা কাথা বালিশ কম্বল নিয়েও আসতে পারবে। এই রুলস এর কারণ এই যে, যেন স্টুডেন্টরা তাদের মস্তিষ্ককে রিলেক্স দিতে পারে এবং ক্লাসের সময় মনোযোগ দিতে পারে। চায়নার লোকেরে মনে করে যে, স্কুল টাইমে ঘুমানোর ফলে স্টুডেন্টদের মস্তিষ্ক সাধারণের তুলনায় বেশি কাজ করে আর পুরাদিন যেন শরীরের এনার্জি ঠিকভাবে কাজ করে।

স্কুল ব্যাগঃ স্কুল ব্যাগ স্কুল লাইফের সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট জিনিস। কেননা ব্যাগেতে আমরা আমাদের সব জিনিসপত্র রেখে থাকি। আর যদি ঐ ইম্পর্টেন্ট জিনিসের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় তাহলে কেমন হবে? এই ব্যাপার শুনতে হইতো আপনার কাছে কিছুটা আজব মনে হতে পারে, কিন্তু নিউইয়র্কের কিছু স্কুলে ২০১৪ সালে বাচ্চাদের স্কুলে স্কুল ব্যাগ আনা নিষেধ করা হয়। আমেরিকাতে জঙ্গিবাদ বিপদ বেরে যাওয়ার কারণে সেই পরিস্থিতিকে অনুকুলে আনার জন্য এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। যেন বাচ্চারা ব্যাগ না আনার কারণে যেন তারা কোন অপরাধ মূলক কিছু আনা থেকে বিরত থাকে।

রাইজিং হ্যান্ড নট এলাওঃ ক্লাসে উত্তর দেওয়ার জন্য হাত তুলা যাবে না। আমরা সকলেই অবগত আছি যে, টিচার কোন লেকচারের পর যখন স্টুডেন্টের কাছে জানতে চাই, তখন স্টুডেন্ট উত্তর দেওয়ার জন্য তার হাত উপরে উঠায়। আর এটা খুবই কমন রুলস, যা প্রায় সকল স্কুলে প্রচলিত। কিন্তু ইউ কে এর কিছু স্কুলে বাচ্চাদের হাত উপরে উঠানো একধম এলাউড না। হাত উঠিয়ে উত্তর দেওয়ার প্রথার ফলে, তারায় হাত উঠায়, যাদের উত্তর জানা থাকে। যার ফলে অন্য বাচ্চাদের শিখার আগ্রহ কম থাকে। আর বেশির ভাগই প্রশ্নের উত্তর ক্লাসের কিছু সংখ্যক স্টুডেন্টরাই দিয়ে থাকে। তাই উত্তর দেওয়ার জন্য স্টুডেন্টের নিয়মে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হইয়েছে। এর পরিবর্তে এর সিদ্ধান্ত টিচারের উপর ছেড়ে দেওয়া হল যে তিনি কার কাছ থেকে উত্তরটা শুনবেন।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment