Now Reading
কাউকে তাচ্ছিল্য কর না



কাউকে তাচ্ছিল্য কর না

টাকা ছাড়া বর্তমান পৃথিবীতে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। আর আমরা সকল মানুষই টাকা রোজগার করার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করতে থাকি। এই টাকা রোজগার করার জন্য দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই। আমাদের কাজকর্ম করার একটাই লক্ষ্য থাকে টাকা উপার্জন করা। কিন্তু এই টাকা উপার্জন করা সবসময় সহজ হয় না।

এই টাকা উপার্জন করার জন্য আমাদের আশপাশে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। আমাদের আশপাশের অনেক মানুষের কাজকর্ম দেখে আমরা অনেক সময় ব্যঙ্গ করে থাকি। আমরা অনেক কাজকে ছোট করে দেখি। যেটা একেবারেই উচিত না।

টাকা উপার্জন করার অনেক গুলো সহজ এবং কঠিন উপায় রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষেরই একটা নিজের ব্যবসা করার স্বপ্ন থাকে, যেখান থেকে ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করা যায়।

কিন্তু বর্তমানে কিছু মানুষের কাছে টাকা উপার্জনের কিছু ইউনিক ধরনের আইডিয়া রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিজগীতাপূর্ণ বাজারে নিজেকে সফল করা খুবই কঠিন। কিন্তু অনেক মানুষ আছে তারা তাদের স্বপ্ন নিয়ে মার্কেটে আসে। কিন্তু বেশির ভাগ সময় তারা ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু আজ আমি আপানদের এমন কিছু মানুষের কথা বলব যারা আমাদের চারপাশে যেই অপ্র্যজনীয় জিনিস বা যে গুলো আমাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো নিয়ে কাজ করে ব্যবসায় সফল হয়েছিলেন।

andrew mupuya ( আন্দ্রে মুপুয়া ): এখন যার কথা বলব তিনি ১৬ বছরের একটি বাচ্চা ছেলের। যিনি উগান্ডাতে বসবাস করেন। ছেলেটি একটি পেপার ব্যাগ তৈরি করার কোম্পানি খুলেছিল। এটা শোনার পর আপনাদের অনেকেরই তেমন একটা ভালো আইডিয়া মনে হবে না। ২০০৮ সালে উগান্ডার সরকার সারা দেশে প্লাস্টিক এবং পলিথিন ব্যাগ ব্যান্ড করে দিয়েছিল। আর তখনই আন্দ্রে মুপুয়া এর মাথায় একটি আইডিয়া এসেছিল। আর তখন তিনি মাধ্যমিকে পড়াশুনা করত। আর তখন তার বাবা মার চাকুরিও চলে গিয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরু করার মত তার কাছে কোন টাকা ছিল না। তারপর তিনি ভাবনা চিন্তা করতে থাকে, যে কাজ শুরু করার জন্য তার কি কি প্রয়োজন রয়েছে। তারপর সে হিসাব করে দেখে যে তার কাজটি শুরু করতে ৩৬ হাজার উগান্ডা টাকা দরকার রয়েছে। যা দিয়ে সে কাজ শুরু করতে পারবে। ৩৬ হাজার উগান্ডা টাকা মানে আমাদের দেশে ৯৮০ টাকার মত। কিন্তু এই ৯৮০ টাকা তার কাছে ছিল না।

তারপর সে শহরে পরে থাকা প্লাস্টিক গুলো কুড়াতে থাকে। প্রতিদিনই সে প্লাস্টিক কুড়াতে বের হত। আর এইভাবে সে কিছু দিনের মধ্যেই ৭০ কেজি প্লাস্টিক জমিয়ে ফেলে। আর এই প্লাস্টিক গুলে সে বিক্রি করে কিছু টাকা জোগাড় করে ফেলে। আর বাকি কিছু টাকা সে তার শিক্ষক থেকে ধার নেয়। এখন তার কাজ শুরু করার জন্য টাকা ছিল। তারপর সে তার শহরের প্রত্যেকটি দোকানদারের কাছে যায়, সাধারণত যাদের পেপার ব্যাগের প্রয়োজন রয়েছে। আর ঐ সময় পেপার ব্যাগের চাহিদা অনেক ছিল। তারপর সে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পেপার ব্যাগ তৈরি করা শিখে ফেলে। বর্তমানে তার ব্যবসা অনেকটা সফলতা পেয়েছে। সে তার নিজের পাশাপাশি আরও ২০ জন মানুষের উপার্জনের ব্যবস্থা করেছে। আর তার প্রত্যেকে মিলি দৈনিক প্রায় ২০ হাজার পেপার ব্যাগ তৈরি করে থাকে। তারা এই পেপার ব্যাগ গুলো হাতে তৈরি করে। ২০১২ সালে আন্দ্রে মুপুয়া সরকারের কাছ থেকে ৩০ হাজার ডলার পুরুস্কার পায়।

Thato and rea Nagwne: Thato and rea Nagwne তারা দুইজনেই সাউথ আফ্রিকায় বসবাস করে। কিন্তু তারা দুই জনে যা করেছিল, তা সকলের ভাবনা চিন্তার বাহিরে ছিল। তারা বাচ্চাদের জন্য খুবই স্পেশাল স্কুল ব্যাগ তৈরি করে। আর তারা একটি কোম্পানি চালু করে। তাদের কারনে সেখানকার বাচ্চারা খুবই কম টাকায় স্কুল ব্যাগ পেয়ে থাকে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল তাদের কোম্পানি সারা বিশ্বে প্লাস্টিকের খোঁজ করে। কারন তারা প্লাস্টিক থেকেই স্কুল ব্যাগ গুলো তৈরি করে। এই ব্যাগ গুলোতে আরেকটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাগ গুলোর মধ্যে সোলার প্যানেল লাগানো রয়েছে। বাচ্চারা যখন এই ব্যাগ গুলো নিয়ে স্কুলে যায় এবং বাসায় ফিরে এই সময়ের মধ্যে ব্যাগ গুলো চার্জ হয়ে যায়। আর রাতে এই ব্যাগ গুলো দিয়ে একটি বাল্ব জালানো যায়। যার ফলে ঐখানকার বাচ্চারা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হয় না। এই কোম্পানি সেখানকার কিছু লোকাল কোম্পানির সাথে কথা বলে, আর কোম্পানি গুলো এই কোম্পানি কে কাজ করার জন্য কিছু টাকা দিয়ে থাকে। যদিও এই আইডিয়াটা অনেক সহজসরল ছিল, কিন্তু সেখানকার বাচ্চা গুলোর জন্য খুবই সাহায্যকারী ছিল।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment