Now Reading
চমকপ্রদ কিছু আবিষ্কার, যা প্রত্যেকটি দেশে থাকা উচিৎ



চমকপ্রদ কিছু আবিষ্কার, যা প্রত্যেকটি দেশে থাকা উচিৎ

পৃথিবীতে এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে যা আমাদের পূর্ববর্তী অবস্থার পরিবর্তন করে দিয়েছে। যে সকল আবিষ্কার কিছু বুদ্ধিমত্তা এবং ক্রিয়েটিভিটির সাথে করা হয় তাকে ইনোভেশন বলা হয়। আজকে এমন কিছু চকমপ্রদ আবিষ্কার নিয়ে আলোচনা করব যা পৃথিবীর সমস্ত দেশে থাকা উচিৎ। খুব সম্ভবত এমন জিনিস আপনি এর আগে কোথাও দেখেননি। এসব নতুন নতুন ইনোভেশন আমাদের জীবন যাত্রা আরো সহজ করছে। আজকে আমরা এমন কিছু অত্যাধুনিক চোখ ধাঁধাঁনো কিছু ইনোভেশন সম্পর্কে জানবো।
ভারত এবং বাংলাদেশের সাথে সাথে আরো কয়েকটি দেশে জনসচেতনতার অভাব একটি বড় ধরনের সমস্যা। এখানকার মানুষ রাস্তায় যেখানে সেখানে যখন তখন মলমূত্র ত্যাগ করে। সরকারি ভাবে এসব পরিষ্কার করতে অনেক টাকা ব্যায় হয়। মানুষ এসব কিছু থেকে ঠেকানোর জন্য সরকার জরিমানার ব্যবস্থাও করে থাকে। যাতে মানুষ জরিমানার ভয়ে এসব থেকে দূরে থাকে। কিন্তু এটায় যথেষ্ট নয়। তাই কাউন্সিল অথোরিটি একটা উপায় বের করেছে। এটার জন্য এক ধরনের পেইন্ট করা জরুরি। এটা যেমন তেমন পেইন্ট নয়। এটা হল পানিরোধক পেইন্ট। যা যেসব দেয়ালে লোকজন মূত্র ত্যাগ করে সেসব দেয়ালের মূত্র সেসব লোকদের দিকে ফিরে আসে। যা এসব লোকদেরকে উচিৎ শিক্ষা দেয়। মজার কথা হল এই পেইন্ট কোন দেয়ালে করা হইছে তা বুঝা যায় না। তাই এরপর থেকে যারা এসব করবে তাদের আর বাড়ি ফিরে যাওয়ার মত অবস্থা থাকবে না।

পার্কের ব্যাঞ্চে বসে রিলেক্স করতে অনেক মজা লাগে। কিন্তু কিছুক্ষন আগে যদি বৃষ্টি হয়ে থাকে তবে ব্যাঞ্চে বসলে পেন্ট ভিজে নোংরা হয়ে যায়। এ সমস্যাটাকে দক্ষিন কোরিয়া অনেক সিরিয়াস ভাবে নিয়েছে। তারা এমন ভাবে ব্যাঞ্চ বানিয়েছে যে, ব্যাঞ্চ ভিজা থাকলে ব্যাঞ্চের হ্যান্ডেল ধরে একটু ঘুড়ালেই ব্যাঞ্চের শুকনো প্রান্ত উপরে উঠে আসবে এবং ভিজা প্রান্ত নিচে চলে যাবে। আর আপনি আরামে বসে সুন্দর প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

টোকিও জাপানের খুবই সুন্দর একটি শহর। এখানকার চকমপ্রদ আলোকসজ্জা, এখানকার সংস্কৃতি, এখানকার খাবার খুবই বিখ্যাত। টোকিও পৃথিবীর সেরা ছুটি কাটানো মত একটি জায়গা। কিন্তু খুবই কম টুরিস্ট ২২ মিটার নিচের গভির আন্ডারগ্রাউন্ড সুপার স্ট্রাকচারের কথা জানে। আন্ডারগ্রাউন্ড সুপার স্ট্রাকচার ১০ তলা বিল্ডিং এর সমান গভির। আর সাড়ে ৬ কিলোমিটার টার্নেলের মধ্যে এ সকল চেম্বার রাখা আছে। যা ইঞ্জিনিয়ারিং এর খুব ভাল একটি নমুনা। একে বলা হয় মেট্রোপলিটন এরিয়া আউট আন্ডারগ্রাউন্ড চ্যানেল। এত বড় নাম ওয়ালা স্ট্রাকচার টোকিওতে পথ বানানোর জন্য উদ্যেগ নেওয়া হয়। এটা ১৯৯২ সালে শুরু করা হয় এবং ২০০৬ সালে এটা বানানো সম্পূর্ণ হয়। এটা বানানোর কারণ হল এটা যেন শহরকে যেকোন তুপানের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। কারণ টোকিওতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। আর এই স্ট্রাকচার প্রাকৃতিক দূর্যোগ হতে টোকিওকে রক্ষা করে। যদি এমন কিছু হয় তাহলে এর কারণে তৈরি হওয়া শহরের সম্পূর্ণ পানি মাটির তলার ট্যাংকের মধ্য দিয়ে চলে যায়। এই ট্যাংক এত বড় যে, এর মধ্যে আস্ত তাজমহল রাখলে তা সেইটাও এই ট্যাংকের গভিরে হারিয়ে যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়াতে এমন কিছু সিটি রয়েছে যেখানকার রোড বৃষ্টির পানি দিয়ে রোডকে পরিষ্কার করে দেয়। যদি কখনো বৃষ্টি আসে, তাহলে সম্পূর্ণ পানি হাইড্রলিক ট্যাংকে ভরে যায়। আর এসব পানি দিয়ে আবার সেসব রোডকে পরিষ্কার করা হয়।
অস্ট্রোলিয়া কয়েকটি শহরের নদীর পানিকে পরিষ্কার রাখার জন্য একটি জিনিয়াস ফিল্টারিং সিস্টেম চালু করেছে। পানির বর্জপদার্থ পানিকে পানি দূষণ থেকে মুক্ত রাখে। এটা করার জন্য কোন রকেট সাইন্স ব্যবহার করেনি। বড় বড় পানির ড্রেনের আগে সিম্পল নেট লাগিয়েছে। যা পানির মধ্য থাকা বর্জকে রোধ করে। এটা অনেক সহজ এবং সস্তা একটি পন্থা। এটা যখন পরীক্ষা মূলক ভাবে করা হয় তখন মাত্র শহরের দুইটি জায়গায় করা হয়। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ৩৭০ কিলোমিটার এই দুইটা নেটের মাধ্যমে সংরক্ষন করা হয়। এবং এটা থেকে বুঝা যায় যে, কখনো কখনো ছোট সমস্যা দিয়ে অনেক বড় বড় সমাধান হয়ে যায়।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment