Now Reading
সাহারা মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি পেতেই থাকবে



সাহারা মরুভূমির আয়তন বৃদ্ধি পেতেই থাকবে

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ এবং আয়তনের দিক থেকে ৩য় বৃহত্তম মরুভূমির নাম সাহার মরুভূমি। যেখানে বৃষ্টিপাতের হার বছরে ১০ ইঞ্চির কম হয়ে থাকে, সেখানকার এলাকা গুলোকে মূলত মরুভূমি বলা হয়। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আর্কটিক এবং এন্টার্কটিকা মরুভূমি হওয়ার শর্ত পূরণ করে। সাহারা মরুভূমির স্থান এই দুই মরুভূমির পরেই। ভুলবশত “পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মরুভূমি” হিসেবে অনেক সময় উল্লেখ করা হয় সাহারা মরুভূমিকে।
সাহারা শব্দের উৎপত্তি ঘটেছে আরবি শব্দ শাহারা থেকে। শাহারা অর্থ মরুভূমি। সাহারা অর্থের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় শ্রেষ্ট মরুভূমি। সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ৩১% অংশ জুড়ে অবস্থিত। এর আয়তন ৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ৩,৫০০,০০০ বর্গমাইল। আর যদি বছরে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়া এলাকাগুলোকে যোগ করা হয়, তাহলে সাহারার মোট আয়তন দাঁড়াবে ১১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারে বা ৪,২০০,০০০ বর্গমাইলে। যুক্তরাষ্ট্রের আয়তনের প্রায় সমান সাহারা মরুভূমির মোট আয়তন। সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত। উত্তর আফ্রিকার অনেকটা অংশ জুড়েই মরুভূমিটির রাজত্ব। এই মরুভূমিল পূর্বে লোহিত সাগর, উত্তরে মেডিটেরিয়ান সাগর এবং পশ্চিমে আছে আটলান্টিক সাগর এবং দক্ষিণে এই সীমানা ধরা হয়েছে সাহেল পর্যন্ত।
বালির রাজ্য হলেও সাহারা মরুভূমির এমন কিছু অংশ রয়েছে যেখানে তৃণভূমি এবং কিছু পর্বতমালা রয়েছে। বালির সমুদ্র এবং পাথুরে মালভূমি দিয়ে গঠিত এই মরুভূমি। বালিয়াড়ি, বালির সাগর, পাথুরে মালভূমি, শুষ্ক উপত্যকা, শুষ্ক হ্রদ ও নুড়ি প্রান্তরের সৃষ্টি হয় বাতাস এবং হাল্কা বৃষ্টিপাতের কারণে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু পর্বতমালা, কতগুলো আগ্নেয়গিরি, মরুভূমির বালির নীচ থেকে উঠে আসে। সাহারা মরুভূমিতে এমনও কিছু এলাকা আছে যেখানে কখনো কখনো বছরে একবারও বৃষ্টি হয় না। সাহার মরুভূমির সবচেয়ে অনুর্ববর অঞ্চল হচ্ছে মধ্য সাহারা।
মরুভূমি হলেও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ভিত্তিক বিচিত্র জীভজগৎ নিয়ে এই মরু অঞ্চল। উদ্ভিদ জগতের প্রায় ২৮০০ প্রজাতির বৃক্ষের উপস্থিতি লক্ষণীয় সাহারা মরুভূমিতে। সাহারার স্থানীয় উদ্ভিদ এই সংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। মধ্য সাহারায় ৫০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে যা এলাকার বিশালতার কাছে সামান্যই বটে। প্রাণীকুলও বেশ সমৃদ্ধ এই মরুভূমিতে। এই মরুভূমিতে বেশ কয়েক প্রজাতির প্রাণীর বসবাস রয়েছে। তার মধ্যে শিয়াল অন্যতম। বেশ কয়েক প্রজাতির শিয়াল রয়েছে এই মরুতে। ফেনেক ফক্স, পেল ফক্স এবং রুপেলস ফক্স এদের মধ্যে অন্যতম। দরকাস গাযেল নামক হরিণও রয়েছে এই মরুতে। যা অনেক দিন পর্যন্ত পানি পান না করেও বেঁচে থাকতে পারে। এই হরিণ গুলোও রয়েছে সাহারা মরুভূমিতে।
ডেথস্টকার বিছা মরুভূমির আরেক স্থানীয় বাসিন্দা।প্রায় ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এরা। অনেক বেশি পরিমাণে এজিটক্সিন এবং সাইলাটক্সিন থাকে এই বিছার বিষের মধ্যে। যা অত্যন্ত বিপদজনক। এক দংশনে স্বাস্থ্যকর পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে এই বিষাক্ত বিছার বিষ।সাহারান সিলভার অ্যান্ট সাহারা মরুভূমির উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং শিকারির কবল থেকে বাঁচার জন্য দিনে কেবল ১০ মিনিটের জন্য এরা আস্তানা থেকে বের হয়। সাহারা মরুভূমিতে সাধারণত পালিত পশু হিসেবে বিবেচ্য ড্রমেডেরি উট এবং ছাগলের দেখা মেলে। দ্রুত গতি এবং সহ্য ক্ষমতার জন্য এই দুই জাতের পশু যাযাবরদের কাছে জনপ্রিয়।
বিজ্ঞানীদের মতে বর্তমান সাহারা প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ বছর আগের সাহারার তুলনায়। এর পেছনে বিশ্ব উষ্ণায়নের অবদান কিছুটা হলেও দায়ী বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। এই মরুভূমির বিশালত্বর হওয়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে খরা এবং বৃষ্টিপাতের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণ। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবং খরা বেড়ে যাওয়ায় এর আয়তন দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন সাহারা মরুভূমির আয়তন বাড়তেই থাকবে, কমবে না কখনো।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment