Now Reading
কীভাবে খনিজ তেলের দেশ সৌদি আরব পানির যোগান দেই



কীভাবে খনিজ তেলের দেশ সৌদি আরব পানির যোগান দেই

প্রচলিত আছে সৌদি আরবের ধুলোয় সোনা, আর বাতাসে খনিজ তেলের গন্ধ ছড়ায়। অর্থাৎ সৌদি আরব সোনা ও খনিজ তেলের জন্য জগৎ বিখ্যাত। সাধারণত সৌদি আরবকে আমরা ধনী দেশ হিসেবে জানি। কিন্তু আমরা অনেকে জানি না, সৌদি আরবের মত ধনী এবং প্রভাবশালীর মত দেশে পানিয় জল এবং ব্যবহার যোগ্য জলের উৎস কী? প্রায় ৩০ কোটি মানুষ কি উপায়ে তাদের দৈনন্দিন জলের চাহিদা মিটায়?
ভারত বর্ষের রাজধানী শহর দিল্লিতে একদিন পানির যোগান বন্ধ থাকলে মানুষের জীবন স্তব্দ হয়ে যায়। সেখানে সৌদি আরব একটি মরুভূমির দেশ, চারদিকে বালি দিয়ে ঘেরা এ দেশে নদী নালা খাল বিলে অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তাহলে একবার ভেবে দেখুন এ দেশের মানুষগুলো কীভাবে জীবনধারণ করে! আমরা সকলেই জানি যে, জল হল জীবনের অপর নাম। জল ছাড়া কোন প্রাণীর পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সৌদি আরবের মাটি খুরলে দূর্মূল্য খনিজ তেল এবং সোনার দেখা মিলে কিন্তু জলের খোঁজ পাওয়া যায় না। তাই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মোহাম্মদ হানি স্বীকার করেন যে, সৌদি আরবে সোনার থেকেও জলের দাম অনেক বেশি। এ দেশে জলের ঘাটতি মিটানো কোন যুদ্ধ জয় করা থেকেও কোন অংশে কম নয়। সৌদি আরবের জলের উৎস নিয়ে আজকের এই লিখাঃ চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে খনিজ তেলের দেশ সৌদি আরব পানির যোগান দেই।
জলের অভাবঃ সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি। এদেশে প্রতিজন মানুষের প্রতিদিন জলের খরচ ২৬৫লিটার। এ দেশে প্রাকৃতিক জলের যে সামান্য উৎস আছে, আজ থেকে ১১ বছরের মধ্যে তা পুরোপুরি নিঃশ্বেষ হয়ে যাবে। মরুভূমির দেশে সৌদি আরবের জলের একমাত্র উৎস হল আরব সাগর। যার পুরোটা নোনা জল। এছাড়া কোন নদী, ঝর্ণা, খাল, এসবের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তার উপর সৌদি আরব একটি বৃষ্টি শূন্য দেশ। এদেশে সারাবছরে মাত্র এক থেকে দুই দিন বৃষ্টি হয়। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রচন্ড ঝড়ের সাথে যে দুই এক ফোঁটা বৃষ্টি হয় তা পুরোটা বাতাসে মিলিয়ে যায়। অতীতে জল পাওয়ার জন্য আরববাসি কূয়া ব্যবহার করতো। কিন্তু কূয়ার গভীরতা বাড়ালে জলের স্তর অবধি আর পৌছানো যেত না। তাহলে এখন প্রশ্ন হল কোন উপায়ে সৌদি আরব জল সংগ্রহ করে। ব্যাপারটা ধাঁধাঁর মত জটিল মনে হচ্ছে। আসলে সৌদি আরবে রয়েছে কিছু উল্ল্যেখ যোগ্য প্রযুক্তি যা কাজে লাগিয়ে সৌদি আরবের মত মরুভূমির দেশেও পর্যাপ্ত জলের যোগান দিতে পারে। চলুন জেনে নিই কি সেই প্রযুক্তি যা প্রায় এক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে।

Desalination Processঃ আমরা আগেই বলেছি যে সৌদি আরবে নদী, নালা, পুকুর, হৃদ, এসবের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এবং এ দেশে বছরে মাত্র দু একদিন বৃষ্টিপাত হয়। যা কোন কাজেই লাগে না। তাই ভৌম জালের যৎ সামান্য উৎস ছাড়া সৌদি আরবের একমাত্র জলের উৎস হল আরব সাগর। কিন্তু আমরা জানি যে সমুদ্রের নোনা জল পানিয় জল হিসেবে যেমন ব্যবহারের অযোগ্য, ঠিক তেমনি কৃষিক্ষেত্রে সমুদ্রের নোনা জলের কোন ভূমিকা নেই। কিন্তু যে দেশে জলের এত অভাব সেখানে আরব সাগরের মত এত বড় জলের উৎসকে অব্যবহার যোগ্য করে ফেলে রাখা মূর্য্ তা ছাড়া আর কিছুই না। তাই বিজ্ঞানীরা বহু পরীক্ষার পর এই নোনা জলকে কাজে লাগানো জন্য একটি অনন্য উপায় বের করেছেন এবং তা হল Desalination…..
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষার যুক্ত নোনা জল থেকে ক্ষার নিষ্কাশন করে তাকে পান যোগ্য করে তোলা হয়। বর্তমানে সারা পৃথিবীর মধ্যে সৌদি আরব হল Deslination Water এর বড় উৎস।

About The Author
Md Meheraj
Md Meheraj
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment