Now Reading
জলবদ্ধতা নিরসনে চাই সমন্বিত উদ্যোগ !



জলবদ্ধতা নিরসনে চাই সমন্বিত উদ্যোগ !

জলে ডূবে যায় আমাদের নগরগুলো । যখন নগর ডুবন্ত অবস্থায় থাকে , যখন নগরের কোণো কোণো সড়কে নৌকা চলে তখন সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে । নানা বক্তব্য আর বিভিন্ন সংস্থার মিটীং এর মধ্য দিয়ে কদিন বেশ সরব থাকে । সিটি কর্পোরেশন , সিডিএ, ওয়াসা , গ্যাস, বিদ্যুৎ , সড়ক বিভাগ আর রাজনৈতিক বৈঠক হয় দফায় দফায় । জলবদ্ধতা নিরসণে নানা পরিকল্পনা হয় , কি হয় তাতে? বর্ষাকাল এলেই জলবদ্ধতাতো কমেইনা বরং আরো বারে পাণির উচ্চতা । চট্টগ্রাম নগরীতে আগে যেখানে হাটূর নিচে পানি থাকতো এই বছর তা হয়েছে কোমরের ঊপর । কিছু কিছু যায়গায় নৌকা চলতেও দেখা যায় , যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি শিঘ্রই প্রচারিত হয়ে যায় । আসলে এভাবে হয়না । জলবদ্ধতা নিরসনে ভাবনাটা হতে হবে সম্মিলিত , ওয়াসা , সিটী কর্পোরেশন , সিডিএ, গ্যাস, সড়ক আর বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়হীণতা জলবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ এর অন্যতম কারণ ।
আমরা যারা নগরে বাস করি তারাও সচেতন নই। রাজধানী এবং বন্দর নগরীর সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পেছনে দায়ী বিষয়গুলো সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি, বুঝি এমনকি নিয়মিত দেখিও। কিনতু কারো মধ্যে সচেতনতা কাজ করে না। , এখনো মানুষ ঘরের জানালা দিয়ে পলিথিনের ব্যাগে করে রাতের আঁধারে ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলেন, যেগুলো গিয়ে স্থান নেয় কোনো একটি পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ কিংবা নালার মুখে। এতে পানি নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। সচেতন হতে হবে আমাদের সবার ।
আপনি আমি নাগরিকত্বের দায়ীত্ববোধ কতটূকূ পালন করছি এটাই প্রশ্নবিধ্ব হয়ে থাকে দিন শেষে!
সিডিএর অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং সিটি কর্পোরেশন এর খাল গুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার না করা এবং নালা নর্দমার ময়লা অপসারনের ব্যার্থতাই এই দুর্দশার প্রধান কারণ। নগরে বৃষ্টীর পানি নিষ্কাসন এর জন্য রয়েছে ১৬ টা মূল খাল। কিন্তু নগরের প্রাথমিক ১৬ টা খালের সব কটির অধিকাংশই বেদখলে চলে গেছে। এছাড়া খালগুলো সময়মত সংস্কার ও খনন ও করা হয়নি।৷ কিছু কিছু খালের মাটি তোলা হলেও তা রাখা হয়েছিলো পাড়ে। পরে বৃষ্টীর পানিতে ওই মাটি আবারো খালে পড়ে।৷
নগরীতে অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মান এর কারনে এমনিতেই বহু, খাল, নালা নর্দমা ভরাট হয়ে গেছে। তার উপর নাই পুরোণো খাল গুলোর সংস্কার।৷ পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বহু পুকুর ভরাট করে দালান কোঠা ও দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে পারছেনা৷ সহজে পানি সরে যাওয়ার ব্যাবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টীতে হঠাৎ এমন জনদুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে। জল নিষ্কাশনের পথগুলো উন্মুক্ত রাখলে এ জনদুর্ভোগ এর সৃষ্টি হতোনা।
পৃথিবীর বহু দেশে নগরায়নের পরও পানি নিষ্কাশন সুব্যাবস্থার নজির আছে। তাহলে আমরা কেন পারছি না? এজন্য আমাদের সিটি কর্পোরেশন এর পাশাপাশি সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, ওয়াসা প্রভৃতি সংস্থার ও দায়ভার ও আছে। তবে এসব সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয়ের ব্যাবস্থা নেই। ঢাকা ও চট্টগ্রামে নগর সরকার গড়ার বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বছরকে বছর পার হলেও নগর সরকারের দেখা মিলছেনা। নগর সরকার গঠন করে সকল নগরের জলাবদ্ধতা সহ নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধান করা যেতে পারে।
তাই প্রশ্ন জাগে জলবদ্ধতা নিরসন কি আদৌ হবে? স্বপ্নেই বিভোড় হয়ে থাকি আমরা।৷ আসল ঘটনা হচ্ছে সকল অপশক্তির লাগাম টেনে ধরতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ন করতে হবে, নদী খালগুলো দখল মুক্ত করতে হবে। তাহলেই নগরের জলবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে। আর নগর পিতারা যদি সেদিকে দৃষ্টি দেন তাহলে তা খুব সহজেই সম্ভব।

About The Author
Raihan Yasir
Raihan Yasir
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment